আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অপরাধ তদন্ত করার এখতিয়ার মানবাধিকার কমিশনের নেই

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, ‘কমিশনের আইনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একজন মানুষ অপরাধ করলে আমরা সেই ঘটনা তদন্ত করতে পারি। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ অপরাধ করলে তা তদন্ত করার এখতিয়ার কমিশনের নেই। তদন্ত করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সরকারের কাছে প্রার্থনা করতে হয়। তারা অনুমতি দিলে তবেই আমরা তদন্ত করতে পারি।’ সেক্ষেত্রে আইন সংশোধনে দাবি জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল ‍মুহিতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ দাবি জানান তিনি।সৌজন্য সাক্ষাত শেষে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘এটি একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এর ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকেই বহন করা হয়। সেজন্য সৌজন্য সাক্ষাত হলেও এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে কমিশন গঠনের পর অদ্যবধি এর কোনও নিজস্ব ভবন নেই। এটি থাকা উচিত। আমরা অর্থমন্ত্রীর কাছে জমি ও অবকাঠামোর জন্য বাজেট চেয়েছি।’0

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে এই কশিনের জনবল খুবই কম। মাত্র ৪৮ জন্য দিয়ে কাজ চলছে। কমিশনের জনবলের জন্য ১৪১ জনের একটি প্রস্তাব দেওয়া আছে, যেটা এখন আইন মন্ত্রণালয়ে আছে। এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে। আমরা অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি এটি অনুমোদন দেওয়ার জন্য।’

মানবাধিকার চেয়ারম্যান বলেন, ‘কোথাও কিছু হলে কমিশনের লোকজনের সেখানে ছুটে যেতে হয়। সেজন্য লজিস্টিক সাপোর্ট পাওয়া যায় না। ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য আমরা লজিস্টিক সাপোর্ট চেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে মানবাধিকারের কী অবস্থা অর্থমন্ত্রী আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি, ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার হুমকির মধ্যে ছিল। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এ বছরই ছোট ছোট শিশুরাি ধর্ষিত হয়েছে, পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশুদের হত্যা ও নির্যাতন করা হয়েছে।’

তিনি জানান, এ বছর কমিশনের জন্য সাড়ে সাত কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বাজেট বাড়ানো উচিত বলেও তিনি অর্থমন্ত্রীকে বলেছেন। সৌজন্য সাক্ষাতে কমিশনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY