আমার স্ত্রী ভুল করেছে : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সকালে আমার স্ত্রীকে সঙ্গে আসতে বলেছিলাম। কিন্তু সে আসতে রাজি হয়নি। আমিও কিছু না বলে একা একা চলে এসেছি। এখন মনে হচ্ছে সে আমার সঙ্গে না এসে ভুল করেছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের তৃতীয় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মুহিত এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য আ আ স ম আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক ড. সুপ্রিয়া সাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আভা দত্ত।

এসময় অর্থমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে স্ত্রীকে সঙ্গে আসতে বলেছিলাম। সকালে বলার পর সে বলে এখানে তার কোনো সঙ্গী খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই সে আসলো না। কিন্তু এখন আমার মনে হচ্ছে সে না এসে ভুল করেছে। সে আসলে খুব ভালো হতো।

মুহিত বলেন, আমার মেয়ের বাংলাদেশের কোনো স্কুলে পড়ার সৌভাগ্য হয় নাই। একদিনের জন্যও সে বাংলাদেশের কোনো স্কুলে পড়তে পারে নাই। তার পড়াশোনা হয়েছে পশ্চিম পাকিস্তানে আর পশ্চিমা দেশে। কারণ, সে যখন দেশ ছেড়ে যায় তখন তার বয়স মাত্র ৯ মাস। সুতরাং আমিও একটা ভুল করেছি। মেয়ে এখন দেশে আছে। আজকে তাকে নিয়ে আসা উচিত ছিল।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৫৫ সালে মাত্র আড়াই হাজার ছাত্র-ছাত্রী ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সে সময় আড়াই হাজারের মধ্যে মাত্র ৮৮ জন ছাত্রী ছিল। এখন আর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সে অবস্থানে নেই। সবক্ষেত্রে নারীর হার বেড়েছে। শিক্ষা খাতেতো বর্তমানে নারীদের প্রাধান্যই বেশি।

তিনি বলেন, ২০০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপর দুর্বৃত্তরা হানা দেয়। এরপর নানা কারণে আমি এ অ্যাসোসিয়েশন থেকে বেরিয়ে যাই। ভেবেছিলাম আর কখনও আসবো না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনাদের কারণে আবার ফিরে আসলাম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য বলেন, স্মৃতি মানুষের জীবনের বিরাট সম্পদ। স্মৃতিকেই ধারণ করে মানুষ এগিয়ে যায়। আমরা যেমন পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন বার বার মায়ের কাছে ফিরে যাই, ঠিক তেমনি সুযোগ পেলেই প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আর হলে ফিরে আসি।

তিনি বলেন, বর্তমানে সমাজের অগ্রযাত্রায় নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশ ও অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য আমরা বলতাম নারীদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। এখন মনে হয় সময় পাল্টেছে। এখন পুরুষদেরকে এগিয়ে আসার জন্য বলতে হবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, এদেশে দীর্ঘদিন নারীরা ঘরবন্দি ছিল। নারীরা বর্তমানে উন্মুক্ত। নারীরা দেশের সকল ক্ষেত্রে বিচরণ করে। কারণ, বঙ্গবন্ধু নারীদেরকে সংবিধানে সমান অধিকার দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে চাকুরিজীবী নারীদের শহরে থাকতে আবাসন সমস্যা হচ্ছে। তাই তাদের থাকার জন্য হোস্টেল নিমার্ণে অর্থমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করছি।

এ কে আজাদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর টাকার অভাবে কারো ভর্তি বন্ধ হবে না এবং পড়ালেখা বন্ধ হবে না। এজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন উদ্যোগ নিয়েছে। গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা বৃত্তির ব্যবস্থা করেছি। এবছর ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৭০০ ছাত্র-ছাত্রীর লেখাপড়া চালিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা করেছি আমরা। এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY