এমপি লিটনের হত্যাকারীদের আইনের মুখোমুখি করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রংপুর প্রতিনিধি: গাইবান্ধা-১ আসনের সাংসদ মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের মুখোমুখি করা হবে। জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি চৌকস দল কাজও শুরু করেছে।

আজ বুধবার দুপুরে রংপুরের জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১৫তম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, অতীতে যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সব কটির সঙ্গে জড়িত খুনিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। লিটনের হত্যাকারীরা যে-ই হোক না কেন, তাদের খুঁজে বের করা হবে। কেউ রেহাই পাবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাংসদ লিটন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের মুখোমুখি করা হবে। তাদের খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি চৌকস দল কাজও শুরু করেছে।

রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিদের উত্থান ও তাদের তৎপরতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজর রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে যেসব জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বন্দুকযুদ্ধে যতজন জঙ্গি নিহত হয়েছে, তাদের অনেকের বাড়ি রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়। আবার কেউ এ অঞ্চলে লেখাপড়া করে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

আসাদুজ্জামান খান আরও বলেন, ‘জঙ্গিদের খুঁজে বের করার জন্য অ্যান্টি টেররিজম গ্রুপ তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে। আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি। জঙ্গি দমন হবেই।’

দেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশে জঙ্গি তৎপরতা রয়েছে। সেসব দেশে বড় বড় অঘটন ঘটছে। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। তারা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং ঐক্যবদ্ধ। যে কারণে দেশে জঙ্গিবাদ এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জঙ্গিরা সহজে মাথাচাড়া দিতে পারবে না।’

জাতীয় সংসদের বাইরে এই প্রথম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো রংপুরে।

বৈঠক প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি সাংসদ টিপু মুনশি বলেন, ‘আমি রংপুরের মানুষ। রংপুরের সংসদ সদস্য। যে কারণে রংপুরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক করার আগ্রহ প্রকাশ করলে জাতীয় সংসদের স্পিকার তাতে সম্মতি দেন।’ তিনি বলেন, সভায় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সাংসদ টিপু মুনশি বলেন, ‘সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আগামী জাতীয় সাংসদ অধিবেশনেই পাস হয়ে যাবে বলে আশা করছি। এরপরই মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম শুরু হবে।’

বৈঠকে কমিটির সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ছাড়াও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) এ কে এম শহীদুল হক, র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন। পরে কমিটির সদস্যরা রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার পরিদর্শন করেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY