চাঁদপুর ও মতলবে পৃথক ঘটনায় ২ জন খুন

চাঁদপুর থেকে মিজানুর রহমান: চাঁদপুরে পৃথক ঘটনায় ২ জন খুন হয়েছে। সালেহা বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূকে মঙ্গলবার দিনগত রাতে স্বামী শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এই ঘটনায় পুরাণবাজার পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ঘাতক স্বামীকে আটক করে থানায় সৌপর্দ করেছে।

অপরদিকে একই দিন সকাল ১০টার দিকে মতলব উত্তরে দশানী এলাকায় মেঘনা নদীতে ছলেমান মেম্বারের মালিকানাধীন আনিকা নামক বালি কাটার ড্রেজারে প্রতিপক্ষের হামলায় রাসেল প্রধানীয়া (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়। নিহত রাসেল হানিরপাড় মৃত রমজান আলী প্রধানীয়ার ছেলে। এই ব্যাপারে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর রঘুনাথপুর খান বাড়ীতে সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে ঝগড়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করলো পাষন্ড স্বামী বাবুল। বুধবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আজ সকালে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়ণা তদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসে। ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ঘাতক স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। জানাযায়, গত ৪ বছর পুর্বে উত্তর রঘুনাথপুর তেরিসপুল কালাম মাষ্টার খান বাড়ীর মৃত নজিবউল্লাহ খানের ছেলে বায়োজীত খান বাবুল (৩২) এর সাথে দোকান ঘর এলাকার মিজি বাড়ীর লতিফ মিজির মেয়ে ছালমা বেগমের সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ছালমার পিতা আশা সমিতি থেকে লোন করে মেয়ের জামাই ও তার পরিবারের চাহিদা অনুয়ায়ী ২ লক্ষ টাকার মধ্যে নগদ ৬০ হাজার টাকা যৌতুক প্রদান করে। তাদের সংসারে রিফাত নামের আড়াই বছরের একটি সন্তান রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, বাবুল তার স্ত্রীকে বাপের বাড়ী থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য প্রায়ই বেদম মারধর করতো। গত কিছুদিন পুর্বে স্বামীর যৌতুকের চাহিদা মেটাতে স্ত্রী ছালমা বেগম পূনরায় আশা সমিতি থেকে ৪০ হাজার টাকা লোন করে দেয়। সেই লোন বাবদ প্রতি সপ্তাহে ১১শ টাকা পরিশোধ করার কথা ছিলো। আজ রাতে স্ত্রী তার স্বামীর কাছে কিস্তি পরিশোধ করার জন্য ১১শ টাকা চায়। স্বামী সে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে উল্টো ছালমার বাপের বাড়ী থেকে টাকা এনে কিস্তি পরিশোধ করার কথা বলে। এ নিয়ে তাদের স্বামী স্ত্রীর মাঝে বাক বিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে স্বামী বাবুল তার স্ত্রীর গলা টিপে ধরে শ্বাষরুদ্ধ করে হত্যা করে। এ বিষয়ে স্বামী বাবুল মডেল থানা পুলিশের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে বলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY