চায়না কোম্পানির সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

বিএসসি’র বহরে আসছে এল এন জি ক্যারিয়ার ভেসেল

এওয়ান নিউজ, ঢাকা; বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) বহরে দু’টি লিক্যুয়িড ন্যাচারাল গ্যাস (এল এন জি) ক্যারিয়ার ভেসেল যুক্ত হবে। প্রতিটি ক্যারিয়ার ভেসেলের ধারণ ক্ষমতা ৪০,০০০ কিউবিক মিটার। চট্টগ্রামের মহেশখালি দ্বীপে পেট্রোবাংলা কর্তৃক স্থাপিতব্য দেশের প্রথম এলএনজি ইমপোর্ট টার্মিনালে এলএনজি সরবরাহে এসব ক্যারিয়ার ব্যবহার করা হবে। এল এন জি ক্যারিয়ার ভেসেল দু’টির কাজ মূল চুক্তি সম্পাদনের ১৮ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আজ অনুষ্ঠিত বিএসসি’র জন্য দু’টি এল এন জি ক্যারিয়ার ভেসেল সংগ্রহ সংক্রান্ত এক নন-বাইন্ডিং সমঝোতা স্মারক (এম ও ইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

এম ও ইউ-তে স্বাক্ষর করেন বিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং চাইনিজ ইন্সটিটিউিট অব মেরিন এন্ড অফসোর ইঞ্জিনিয়ারিং এইচ বি কোম্পানি লিমিেিটডের জেনারেল ম্যানেজার ইয়ান জুন (YAN JUN)।

নৌপরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খানের উপস্থিতিতে আজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সংক্রান্ত এক সমঝোতা স্মারকপত্র (এম ও ইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিকরুর রেজা খানম, যুগ্ম প্রধান মো: এনায়েত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বিএসসি’র জন্য প্রতিটি ১,০০,০০০ থেকে ১,২৫,০০০ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন দু’টি মাদার ট্যাংকার নির্মাণে চীনের একটি কোম্পানির সাথে গত এপ্রিলে বিএসসি এমওইউ স্বাক্ষর করেছে। মাদার ট্যাংকার দু’টি পাওয়া গেলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক বিদেশ হতে আমদানীকৃত ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গর পর্যন্ত পরিবহণ করা যাবে । জাহাজ দু’টি ক্রয় করা হলে বিদেশী জাহাজের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে । তাছাড়া ক্রুড অয়েলের ন্যায় একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ন পণ্য পরিবহনে অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এছাড়াও জাহাজ ভাড়ায় দীর্ঘসময়ের জন্য স্বাহতিশীলতা বজায় থাকাসহ আর্ন্তজাতিক যে কোন প্রতিকুল পরিস্থিতিতে আলোচ্য জাহাজের মাধ্যমে তৈল পরিবহন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অধিকন্তু মেরিন একাডেমী হতে উত্তীর্ন ক্যাডেটদের যথাযথ প্রশিক্ষণসহ শিপিং সেক্টরে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্বপ্নের ‘ব্লু-ইকোনমির’ সুফল অর্জনে দেশ একধাপ এগিয়ে যাবে।

আরো উল্লেখ্য যে, বিএসসি চীন থেকে ১৬টি জাহাজ সংগ্রহ করার লক্ষ্যে চীনের একটি কোম্পানির সাথেও গত সেপ্টেম্বরে একটি এমওইউ স্বাক্ষর করেছে।। এগুলোর মধ্যে ছয়টি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার এবং ১০টি লাইটার বাল্ক ক্যারিয়ার। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্টে কয়লা পরিবহনের ক্ষেত্রে এসব বাল্ক ক্যারিয়ার ব্যবহৃত হবে। নির্মাণ চুক্তির দু’বছরের মধ্যে এগুলো দেশে এসে পৌঁছবে। মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার প্রতিটি ৮০ হাজার ডেড ওয়েট টন (ডিডাব্লিউটি) এবং লাইটার বাল্ক ক্যারিয়ার প্রতিটি ৮-১০ হাজার ডিডাব্লিউটি সম্পন্ন হবে। চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিএইচইসি) কর্তৃক চীনা ব্যাংক হতে কমার্শিয়াল লোন বা অন্য কোন ঋণ সহায়তার অধীনে বিএসসি ১৬টি জাহাজ সংগ্রহ করবে।

এছাড়া বিএসসি’র জন্য বড় ধরনের ছয়টি জাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ছয়টি নতুন জাহাজ চীন থেকে ২০১৮ সালের মাঝামাঝি দেশে আসবে। এগুলোর মধ্যে তিনটি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং তিনটি অয়েল ট্যাংকার। প্রতিটি জাহাজের পণ্য ধারণক্ষমতা ৩৯ হাজার টন। জাহাজগুলো সংগ্রহে ব্যয় হবে প্রায় ১,৮৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক দিবে ১,৪৪৮ কোটি টাকা, অবশিষ্ট ৩৯৫ কোটি টাকা দিবে বিএসসি। অয়েল ট্যাংকার দিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পরিশোধিত আমদানিকৃত তেল পরিবহন করা হবে। বাল্ক ক্যারিয়ারে খোলা পণ্য, সারসহ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা পরিবহন করা হবে। ছয়টি জাহাজ যুক্ত হলে বিএসসির আর্থিক অবস্থা চাঙ্গা হবে, বিএসসি আগের মতো ঘুরে দাঁড়াবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারের সময়ে শুরু হয় বিএসসির যাত্রা। কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ যাবত সর্বমোট ৩৮টি জাহাজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমান বিএসসি’র বহরে ০৩টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে একটি কন্টেইনার এবং দু’টি লাইটার ট্যাংকার।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY