ট্রাম্পের সুসময়, হিলারির কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ….

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি হইতে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টি হইতে ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনয়ন নিশ্চিত হইয়াছে। মুসলিমবিদ্বেষ, অভিবাসী বিতাড়নসহ নানাবিধ উত্তেজক ইস্যু ব্যবহার করিয়া ট্রাম্প তাহার প্রতিদ্বন্দ্বীদিগকে মনোনয়ন লড়াই হইতে বলিতে গেলে বিতাড়িত করিয়া ছাড়িয়াছেন। নির্বাচকমণ্ডলীর সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট পাইবার কারণে, শীর্ষস্থানীয় অনেক রিপাবলিকান নেতার বিরোধিতাতেও তাঁহার মনোনয়ন আটকায় নাই। হিলারি ক্লিনটনের মনোনয়নলাভ কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত সহজ ছিল না। প্রগতিশীল হিসাবে খ্যাত সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তাঁহাকে লম্বা সময় ধরিয়া দারুণ বেগ দিয়াছে। মনোনয়ন জিতিতে না পারিলেও, স্যান্ডার্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভিতরে দস্তুরমত নূতন একটি ধারা তৈয়ার করিয়া দিয়াছেন। স্যান্ডার্সের প্রভাবে হিলারি জনকল্যাণ সংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে কিছু কিছু পরিবর্তনও আনয়ন করিয়াছেন।

 

মনোনয়ন নিশ্চিত হইয়া যাইবার পরে নতুন কয়েকটি ঘটনা ট্রাম্প শিবিরকে উল্লসিত করিয়া তুলিয়াছে। পক্ষান্তরে, উইকিলিকসের কারণে ডেমোক্র্যাটরা পড়িয়াছে দারুণ বিপাকে। উইকিলিকসের ফাঁস করিয়া দেওয়া ই-মেইলগুলি হইতে জানা যাইতেছে যে, স্যান্ডার্সকে বিপাকে ফেলিবার জন্য রক্ষণশীল অঞ্চলের ভোটারদিগের সম্মুখে তাঁহার ধর্ম বিশ্বাস সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলিবার পরিকল্পনা করিয়াছিলেন হিলারির কোনো কোনো নীতিনির্ধারক।

এহেন অপকৌশল ফাঁসজনিত ক্ষতি সামাল দিবার জন্য ডেমোক্র্যাটরা যথেষ্টই তত্পর হইয়াছেন। স্বয়ং বার্নি স্যান্ডার্স এবং ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা ডেমোক্র্যাটিক কনভেনশনে আসিয়া হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখিয়াছেন। ইহাতে ক্ষতি কতখানি মেরামত হইবে তাহা অবশ্য এখনই বলা মুশকিল। বিশেষ করিয়া, স্যান্ডার্সের কট্টর সমর্থকদের অনেকের মধ্যে হিলারি বিষয়ক ঘোরতর আপত্তির কারণে আশঙ্কাটি জোরালো হইতেছে। উল্লেখ্য, মনোনয়ন লড়াইয়ে হিলারির প্রায় ১৭ মিলিয়নের বিপরীতে ১৩ মিলিয়নের অধিক ভোট পাইয়াছিলেন স্যান্ডার্স। এই বিপুল সংখ্যক সমর্থকের একটি অংশ এইবার দলীয় প্রার্থী হিসাবে হিলারির প্রতি আস্থা না রাখিলে, আসন্ন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে পোয়াবারো হইবে তাহা বলার অপেক্ষা রাখে না।

হিলারির কপালে যখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ বাড়িতেছে, ট্রাম্পের তখন সুসময় চলিতেছে। সিএনএন পরিচালিত সদ্য-প্রকাশিত এক জরিপে এই প্রথমবারের মত হিলারি (৩৯ শতাংশ) অপেক্ষা ট্রাম্পকে (৪৪ শতাংশ) অধিক জনপ্রিয় হিসাবে দেখা যাইতেছে। উল্লেখ্য, দলীয় মনোনয়ন পাইবার পর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ছয় শতাংশ বাড়িয়াছে। ২০০০ সালের পরে আর কোন প্রার্থীর ক্ষেত্রে এইরূপ দেখা যায় নাই। এইখানেই শেষ নহে। মূলধারার শ্বেতাঙ্গদের মধ্যেও তাঁহার জনপ্রিয়তা বাড়িয়াছে। কলেজ ডিগ্রিধারী নহে এমন বিপুল সংখ্যক ভোটারের মধ্যেও হিলারির (২৩ শতাংশ) তুলনায় ট্রাম্প (৬২ শতাংশ) এখন অধিক জনপ্রিয়। বহু বুদ্ধিজীবী ও বিশ্লেষক ট্রাম্পকে আমেরিকার জন্য একটি দুর্যোগ হিসাবে আখ্যায়িত করিয়াছেন। হইলে কি হইবে, ট্রাম্প ঠিকই অগ্রসর হইতেছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা ট্রাম্পের রাজনীতিকে আমেরিকার জন্য মঙ্গলজনক মনে করিতেছেন। এই প্রবণতা যদি নভেম্বরে নির্বাচনের সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তাহা হইলে আমেরিকা এমন একজন প্রেসিডেন্ট পাইবে যিনি প্রকাশ্যেই অন্য জাতি, অন্য বর্ণ ও অন্যের ধর্মবিদ্বেষী এবং যিনি হইবেন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব ধরিয়া রাখিবার ক্ষেত্রে সামরিক প্রয়াসে বিশ্বাসী!

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY