দম্পতি সাগর-রুনি খুনের বার্ষিকীতে ফের ঐক‌্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক সাংবাদিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাঁচ বছর আগে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত‌্যাকাণ্ডের পর বিচারের দাবিতে ঐক‌্যবদ্ধ আন্দোলনে নেমেছিল সাংবাদিক সংগঠনগুলো।

ধারাবাহিক নানা কর্মসূচির পর বছর গড়াতে সেই আন্দোলন একদিকে স্তিমিত হয়ে আসে; অন‌্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের গতিও আটকে যায়। এই প্রেক্ষাপটে সহকর্মী দম্পতি হত‌্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পূর্তিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে পুনরায় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ঐক‌্যবদ্ধভাবে নামার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন বক্তারা।

সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের মৃত‌্যুর প্রেক্ষাপটে এবার সাগর-রুনি খুনের বার্ষিকী পালন করেন গণমাধ‌্যমকর্মীরা।

রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে প্রতিবাদ সমাবেশে রুনির ভাই নওশের রোমান বলেন, “প্রথমদিকে বিচারের দাবিতে অনেকেই সোচ্চার ছিলেন। এখন পাঁচ বছরে বিচার প্রক্রিয়া যেন অনেকটাই ধাপাচাপা পড়ে গেছে।“বিচারের আশা আমরা অনেকটাই ছেড়ে দিয়েছি। আপনারা নিজেদের লেখনীর মাধ্যমে এই হত্যার বিচার যেন দ্রুত হয় সেটি নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করুন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, “সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের পর আমরা চুপ থাকতে পারি না। আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। সব মত পথ ভুলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলি।”বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে সাংবাদিকদের অধিকার আদায় হবে।

এরপর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা সারাদেশে সাংবাদিক হত‌্যা ও নির্যাতনের বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে অংশ নিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে বৈঠক করার ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে ঐক্যের ডাক উঠেছে। সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচারের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণার দাবি উঠেছে। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করলে সফল হওয়া যাবে বলে আশা রাখি।”

আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ডিআরইউ নেতারা বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দুই অংশ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের দুই অংশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।Babul---1_(12)

ওই দিন সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সব সাংবাদিকদের উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানান ডিআরইউ সভাপতি।সমাবেশে রুনির ভাই রোমান নিহত দুই সাংবাদিককে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘দায়সারা’ বক্তব‌্যের সমালোচনা করেন।

বিএফইউজে মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, “পাঁচ বছর হলেও এখনও তদন্ত প্রতিবেদনই জমা দেওয়া হয়নি। প্রতিদিন দেশে সাংবাদিক নির্যাতন হচ্ছে। ওই সব ঘটনার কোনো সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার হচ্ছে না।”

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের অধিকারের প্রশ্নে নীরব ভূমিকা পালন করছেন দাবি করে তিনি বলেন, “বিএনপির সময় যেসব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিতেন, এখনকারও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও যেন তাদের ভাষায় কথা বলছেন।”

ডিইউজের একাংশের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক হত্যার ঘটনার বিচার না হওয়ায় সরকারের যেমন দায় আছে, তেমনি সাংবাদিকদেরও দায় কম না।

“বড় কর্মসূচি দিলে অনেক সাংবাদিক অংশ নেন না। ঐক্যবদ্ধ কোনো কর্মসূচি দিলে আপনারা এক থাকবেন কি না’- প্রশ্ন করলে উপস্থিত সাংবাদিকরা হাত তুলে তাকে সমর্থন করেন।

প্রতি মাসের ১১ তারিখ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া দুই মিনিটের জন্য ‘ব্ল্যাক আউট’ রাখা প্রস্তাব দেন তিনি।

এই প্রস্তাবের বিষয়ে বিএফইউজে মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, “আমাদের নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল দেশের বাইরে আছেন। তিনি এলে সবাই সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করব।”

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, রুহুল আমীন গাজী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলম সমাবেশে বক্তব‌্য দেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মুরসালীন নোমানী।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY