দুই সিটির সহযোগিতায় নবরূপে আসছে ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্ধিত সীমানায় নতুন যুক্ত হওয়া ১৬ ইউনিয়নকে পাল্টে দিতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নতুন সংযুক্ত হওয়া এসব ইউনিয়নকে সাজাতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরসমূহকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে নতুন ১৬ ইউনিয়নের বর্তমান চেহারাই বদলে দেয়া হবে। সার্বিক উন্নতি কল্পে দুই সিটির সহযোগিতায় তৈরি করা হচ্ছে মহাপরিকল্পনা। এর মাধ্যমে দ্বিগুণ আয়তনের সীমানা নিয়ে সাজানো হবে নতুন ঢাকা।

নতুন এলাকায় উন্নত পর্যায়ের নানা নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিদ্যুত, পানি, ড্রেনেজ, গ্যাসলাইন, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও রাস্তার জন্য তৈরি করা হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান। ১৬ ইউনিয়নে নতুন ছয়টি আঞ্চলিক অফিস ও ৩৬ ওয়ার্ড তৈরি করা হবে বলে জানা গেছে। খুব শীঘ্রই এসব এলাকার রাস্তায় বৈদ্যুতিক আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইউনিয়নগুলোতে নতুন ভবন নির্মাণ অনুমোদন বন্ধ করা হয়েছে। এসব এলাকার ব্যবসায়ীরদের ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। সীমানা নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ইউনিয়নগুলো আর ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত থাকবে না বিধায় এসব এলাকার নাগরিকগণ পাবেন উন্নত শহরে জীবনের নানান সুবিধা। এসব এলাকার বাসিন্দাদের ইতোমধ্যেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ সীমিত আকারে সেবার আওতায় নিয়ে এসেছে। যার প্রভাব গত ঈদ-উল-আযহায় লক্ষ্য করা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুই সিটি কর্পোরেশনের সীমানা বৃদ্ধির সরকারী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট দুই সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ এসব ইউনিয়নের উন্নতিকল্পে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এই মহাপরিচকল্পনার আওতায় নতুন এলাকায় কোথায় কী হবে ও কেমন হবে, স্থান নির্ধারণ, অলিগলিসহ বিভিন্ন ছোটবড় রাস্তার আয়তন নির্ধারণ করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার নক্সা প্রণয়ন, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতসহ বিভিন্ন সেবা সার্ভিসের সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা করা, নতুন খেলার মাঠ, পার্ক, জলাধার সংরক্ষণ করা, রাস্তা ও অলিগলিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করে দ্রুত আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া নতুন অঞ্চল, ওয়ার্ড ও প্রতিটি এলাকার সীমানা নির্ধারণ, আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করা, ওয়ার্ড কার্যালয়, এলাকা পরিচালনার জন্য জনবল নিয়োগ, পশু জবাইয়ের নির্ধারিত স্থান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করা, ট্রেড লাইসেন্সসহ একাধিক বিষয়াদির সঠিক ও সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে চলছে। এর বাইরে ঢাকা ওয়াসাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এসব উদ্যোগ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে কয়েকদফা বৈঠক করেছে। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ও ঢাকা জেলা প্রশাসন দুই সিটি কর্পোরেশনের উর্ধতন কর্মকর্তাগণসহ নতুন ১৬ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বারদের সঙ্গে কোন্ পদ্ধতিতে এসব এলাকার নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে কী কী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায় সে বিষয়ে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। এ বিষয়ে আরও একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে সিটি কর্পোরেশন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক এসব এলাকার সার্বিক উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতে বুয়েটের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাছাড়া এসব এলাকার বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে ডিএনসিসি প্রকৌশলীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, নগরবাসীর সেবা বাড়াতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের আশপাশের ১৬টি ইউনিয়নকে ঢাকা উত্তর (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ (ডিএসসিসি) সিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। গত ৯ মে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সিদ্ধান্ত দেন। এতে ঢাকা উত্তর সিটিতে ৮টি এবং দক্ষিণ সিটিতে ৮টি ইউনিয়ন যুক্ত করা হয়। নতুন আয়তন অনুসারে দ্বিগুণ হয়েছে ঢাকা নগরীর আয়তন। এসব ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় দুই ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের এলাকার আয়তন ১২৯ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে ২৭০ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। তবে ডিএসসিসির চেয়ে ডিএনসিসির আয়তন বেশি।

১৬টি ইউনিয়ন সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আসায় এখানকার কমপক্ষে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ এ দুই সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এসেছে। ঢাকা উত্তর সিটিতে যুক্ত হওয়া আট ইউনিয়ন হলো, বেরাইদ, বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল, হরিরামপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও ডুমনি (খিলক্ষেত)। ঢাকা দক্ষিণে যুক্ত হওয়া আট ইউনিয়ন হলো শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদ। ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে এই দুই সিটি কর্পোরেশন মিলে ঢাকার জনসংখ্যা দাঁড়াবে এক কোটি ৮১ লাখ ৮৪ হাজার ৪১ জন। তবে ধারণা করা যায়, এই সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

ডিএসসিসির সঙ্গে নতুন যুক্ত হওয়া ইউনিয়নগুলোর জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মেয়র সাঈদ খোকন গত ২৪ জুলাই বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে বেশকিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে গত ৩০ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি), জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর (ডিপিএইচই), স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা জেলা প্রশাসনকে নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তাদের নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে দুই সিটির উর্ধতন কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর ঢাকার দুই মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইউনিয়নগুলো নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি করছেন। এ ছাড়া সরকারের যে কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে তারা প্রস্তুত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তা হচ্ছে :

পশু জবাই দিতে হবে নির্ধারিত স্থানে ॥ পবিত্র ঈদ-উল-আযহাসহ সকল পশু নির্দিষ্ট স্থানে জবাই করতে হবে। গত ঈদে কোরবানি উপলক্ষে দক্ষিণ সিটির ইউনিয়নগুলোতে সর্বমোট ৭৫টি অস্থায়ী কোরবানি পশু জবাই খানার ব্যবস্থা করা হয়। এ জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানদের নেতৃত্বে একটি করে কমিটি করা হয়। কমিটিতে মসজিদের ইমাম ও কসাইদের তালিকার পাশাপাশি কোরবানি দাতাদের নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই দিতে উৎসাহিত করা হয়।

ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের ॥ কর্পোরেশনের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে নতুন এলাকার সকল ছোট-বড় ব্যবসায়ীকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। নতুন যুক্ত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ব্যবসায়ীদের নতুন করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করতে হলে সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। এর আগে যারা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ব্যবসার অনুমতি নিয়েছেন, কর্পোরেশনের কাছে তাদের নাম ও ঠিকানাসহ তালিকা পাঠাতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানসহ নতুন সকল প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের ফি’সহ কর ধার্যের ব্যাপারে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নতুন করে লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে ট্যাক্স ধার্যের বিষয়টি নিয়েও কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন।

নতুন ভবন অনুমোদন বন্ধ ॥ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নতুন যুক্ত হওয়া এসব ইউনিয়নে ভবন নির্মাণের নক্সা অনুমোদন দেয়া বন্ধ থাকবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। এরই মধ্যে যেসব নক্সা অনুমোদন দেয়া হয়েছে সেগুলোর একটি তালিকা সিটি কর্পোরেশনে পাঠাতে হবে। তবে এর আগে যারা নক্সা অনুমোদন নিয়েছেন তারা ভবন নির্মাণকাজ শুরু করতে পারবেন।

রাস্তায় আলো জ্বলবে ইউনিয়নগুলোতে ॥ নতুন যুক্ত হওয়া এসব ইউনিয়নের সড়কগুলোতে নতুন করে স্ট্রিট লাইট লাগানো হবে। প্রাথমিক অবস্থায় সিটি কর্পোরেশন লাইট সরবরাহ করবে। তবে ইউনিয়ন পরিষদকে তার নিজস্ব অর্থায়নে সেগুলো লাগাতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে ॥ অবহেলিত পুরো জনপদকে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় আনছে সিটি কর্পোরেশন। এ জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ করছে সংস্থাটি। প্রাথমিক অবস্থায় এলাকার চাহিদা দিতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনে আসছে সস্পত্তির মালিকানা ॥ যুক্ত হওয়া ইউনিয়নগুলোর মালিকানায় থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির তালিকা তৈরি করে সিটি কর্পোরেশনের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভৌত অবকাঠামোর তালিকাও দিতে হবে।

মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আসছে পুরো এলাকা ॥ নতুন বর্ধিত অংশে নতুন অঞ্চল স্থাপন, ওয়ার্ড বৃদ্ধি, জনবল কাঠামো, সীমানা নির্ধারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। এ জন্য নগর পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে অতি দ্রুত একটি বৈঠক আহ্বান করবে সিটি কর্পোরেশন। এছাড়া বিশ্বব্যাংক ও বেশ কয়েকটি বিদেশী সংস্থা এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনকে প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) নতুন করে আরও ৩৬টি ওয়ার্ড যুক্ত করা হচ্ছে। যুক্ত হওয়া ইউনিয়নগুলো দুই সিটিতেই ১৮টি করে ভাগ করে দেয়া হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সিটি কর্পোরেশনের আলোচনা চলছে। বর্তমানে ডিএসসিসির ওয়ার্ড রয়েছে ৫৭টি আর ডিএনসিসির ৩৬টি। ঢাকা জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি এ বিষয়ে কাজ করছে। কমিটিতে রাখা হয়েছে দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, উভয় সিটির জন্য ১৮টি করে মোট ৩৬টি ওয়ার্ড হতে পারে। তবে এর সংখ্যা কম-বেশিও হতে পারে। তবে কোন্ ইউনিয়ন কোন্ ওয়ার্ড বা কোন্ জোনের আওতায় আসবে তা ওয়ার্ড সংখ্যা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হওয়ার পর বলা যাবে। উল্লেখ্য, গত ৯ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন পায়। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের আয়তন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ২৮ জুন এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সচিব খান মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, আমরা ডিএসসিসিতে কতটি ওয়ার্ড প্রয়োজন বা আঞ্চলিক অফিস কতটি নির্মাণ করা হবে তা নিয়ে আলোচনা করছি। তবে এর সংখ্যা নির্ধারণে কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া যুক্ত হওয়া ইউনিয়নগুলোর সার্বিক বিষয় নিয়ে আমরা একাধিক বৈঠক করেছি। বৈঠকে ওই এলাকার উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বেশকিছু বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, খুব দ্রুতই এসব ইউনিয়নে উন্নয়নের আলো জ্বলবে। এ জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কয়েকটি বৈঠক করেছি। মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতে খুব শীঘ্রই নগর পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে একটি সভা আহ্বান করা হবে। এরপরই এসব ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজ শুরু করা হবে। ইতোমধ্যেই মেয়রের নির্দেশে নাগরিকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন উদ্যোগ আমরা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে তথ্য সংগ্রহে আমাদের বিভিন্ন দফতরকে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সঙ্গে কাজ শুরু করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেন, আমরা নতুন যুক্ত হওয়া ৮টি ইউনিয়নে বসবাসরত বাসিন্দাদের বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার আওতায় আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে এসব ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে একটি মাস্টারপ্ল্যান করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বুয়েটের শিক্ষকদের একটি দলের সঙ্গে ইতোমধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীগণসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থা ও দফতরের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিক বৈঠক করছি। ডিএনসিসির প্রকৌশলীগণ এসব ইউনিয়নের রাস্তা, বিদ্যুত, ড্রেনেজ সমস্যা, মাঠ, পার্কসহ বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কিত সকল তথ্য সংগ্রহে কাজ শুরু করেছেন। প্রাথমিকভাবে আটটি ইউনিয়নকে আমরা নাগরিক সেবা প্রদানের স্বার্থে ৩টি আঞ্চলিক অফিস ও ১৮টি ওয়ার্ড করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তবে কতটি ওয়ার্ড করা হবে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এছাড়া সকল বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা পরামর্শ ও বৈঠক করে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। গত ঈদে আমরা এসব এলাকার বাসিন্দাদের সুবিধার্থে ৩টি গরুর হাট ইজারার মাধ্যমে পরিচালনা করেছি। সরকার ও আমাদের গৃহীত কর্মকা- অনুযায়ী আশা করি নতুন যুক্ত হওয়া ৮ ইউনিয়নের নাগরিকগণ দ্রুতই উন্নত নাগরিক সেবা পাওয়া শুরু করবেন। এ লক্ষ্যেই পুরোদমে কাজ চলমান রয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY