দেশ বাঁচাতে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন: মাহমুদুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবাধিকার প্রবক্তা ও দৈনিক আমার দেশের কারা-নির্যাতিত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বর্তমান অপশাসন থেকে দেশকে রক্ষার জন্য গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। ভয়কে জয় করে জনগণ ও রাজনৈতিক শক্তিকে গর্জে উঠতে হবে। চূড়ান্ত আত্মত্যাগের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

আজ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সেমিনার হলে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহবান জানান। ডিইউজের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তৃতা করেন বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদ, সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সাংবাদিক নেতা আবদুস শহিদ, সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাকের হোসাইন এবং পেশাজীবী নেতা অধ্যাপক ডাক্তার এজেডএম জাহিদ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু ও অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। এতে ডিইউজে, বিএফইউজে, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ডিআরইউ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্রিডম হাউসের সর্বশেষ রিপোর্টে এবার জোরালোভাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এখন সংবাদমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই। সত্যিই আজ দেশের সংবাদমাধ্যম এশটি নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায় পরিণত হয়েছে। সংবাদমাধ্যম তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত। একটি দালাল শ্রেণী এবং সরকারের পক্ষশক্তি, একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী শক্তি এবং অন্যটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী ভিন্নমতের মিডিয়াশক্তি। কিন্তু এই ভিন্নমতের শক্তিকে কোণঠাসা করে দেয়া হয়েছে। অনকে গণমাধ্যম আজ বন্ধ এবং সাংবাদিকরা বেকার।

তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের জন্য যেমন দুঃসময় চলছে, তেমনি দেশের ১৬ কোটি জনগণেরও আজ দুঃসহ অবস্থা। আইসিটি আইন দিয়ে সাংবাদিকদের নিগৃহীত করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য প্রতিনিয়ত কালাকানুন তৈরি করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের যেমন আজ সুরক্ষা নেই, তেমনি বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় রাজনৈতিক সুরক্ষাও নেই। প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির পক্ষেও কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নানাভাবে লেখনীর দ্বারা জনগণকে উজ্জীবিত কওে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে গণবিপ্লব করার আহবান জানান।

শওকত মাহমুদ বলেন, সাংবাদিকদের ঐতিহ্যই হচ্ছে রুখে দাঁড়ানো। যে কোনো মূল্যে জুলুমের প্রতিবাদ করতে হবে এবং জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে না পারলে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে আমাদের অবস্থার পরিবর্তন হবে না। আবদুল হাই শিকদার সব বন্ধ মিডিয়া খুলে দেয়া, নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষনা, সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ সহ সম্মেলনের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

বক্তারা বন্ধ মিডিয়া অভিলম্বে খুলে দেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, আজ শত শত সাংবাদিক বেকার হয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। এ সরকারের নির্যাতনে সাংবাদিকরা দিশেহারা। মাহমুদুর রহমানকে সরকার তার আট বছরের শাসনামলে পাঁচ বছরই জেলে বন্দী করে রেখেছে, রিমান্ডে নির্যাতন করেছে। তার নামে ৮১টি মামলা দেয়া হয়েছে। আজ তিনি বিদেশে চিকিৎসারও সুযোগ পাচ্ছেন না। শওকত মাহমুদকে দশ মাসেরও বেশি সময় কারারুদ্ধ করে রাখা হয়। তার বিরুদ্ধেও ৫০টির বেশি মামলা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY