নতুন বছরে কেমন বাংলাদেশ চাই?

নুরুল করিমঃ রাত যত গভীর হয়, নতুন সূর্য, নতুন সম্ভাবনা, নতুন দিন ততই নিকটবর্তী হয়। সেই সত্যের ওপর ভর করেই কিছু দিনক্ষন পর বিদায় নিচ্ছে আরও একটি বছর। ৩১ ডিসেম্বরের কালস্রোতের ঊর্মিমালায় বিলীন করে পশ্চিম দিগন্তে মিলিয়ে যাবে সূর্য, বিদায় হবে ২০১৬।

রবিবারে রবি উঠে জানিয়ে দিবে- এসেছে ২০১৭। এক বছরের আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশা আর সাফল্য ব্যর্থতার পটভূমির ওপর আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ নতুন বছরে পর্বতদৃঢ় একতায় দুঃসময়কে জয় করবে অজেয়-অমিত শক্তি নিয়ে, এই সংকল্পে শুরু হোক আমাদের পথচলা। নতুন বছরে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সকল বাংলাদেশির সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রত্যাশা। আরও প্রত্যাশা হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও হানাহানি পরিহার করে বাংলাদেশটা পরিণত হবে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সুখী ও সুন্দর মানুষের দেশে।

অনেক স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রতি বছর পহেলা জানুয়ারি আমাদের মাঝে আসে। যেমন আসে পহেলা বৈশাখ। এ দুটি বিশেষ দিনকেই আমরা বরণ করে নিই। একটির মধ্যে নিহিত রয়েছে আন্তর্জাতিকতা, অন্যটি আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে ধারণ করে বাঙালি হৃদয়ে আবর্তিত হয়। নতুন বছরে নতুন দিন আসে, আমরা জাগ্রত হই। নতুন জীবনের জয়গান গেয়ে অন্তত ওই দিন উজ্জীবিত হই। উল্লাসেও ফেটে পড়ি। আনন্দ-উল্লাসের পাশাপাশি আমরা অঙ্গীকার করি, নতুন বছরে নতুনভাবে চলতে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গীকার এর মধ্যে প্রধান হয়ে ওঠে। ব্যক্তিচরিত্র বদলেরও অঙ্গীকার করি আমরা। এসবই বিগত বছরের ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে নতুনভাবে, স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে পথচলার অঙ্গীকার। প্রাসঙ্গিক কারণেই প্রশ্ন ওঠে, আমরা কি আমাদের ব্যক্তিচরিত্র ঠিক করতে পারছি? আর ব্যক্তিচরিত্র ঠিক না হলে জাতীয় চরিত্র কিভাবে ঠিক হবে।

নতুন বছরে দেশের প্রতিটি মানুষের জীবন সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক, দেশ ও জাতির সুনাম আন্তর্জাতিক পরিম-লে আরো বিস্তার লাভ করুক এ প্রত্যাশা আমাদের। আমরা চাই বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা, আবেগ ও অনুভূতিকে যথাযথ মূল্যায়ন করে দেশটির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন ও রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে।

আমরা গণতন্ত্র বিকাশ ও প্রতিষ্ঠার কথা মুখে বলে বলে ফেনা তুলি, কিন্তু গণতন্ত্রচর্চা করি না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি গণতন্ত্রচর্চায় বলিষ্ঠ ভূমিকা না থাকে, তবে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে কী করে। প্রত্যাশা করি, নতুন বছর হোক গণতন্ত্রচর্চার বছর, অর্থনৈতিক উন্নয়নের বছর। ব্যক্তিচরিত্র বদল ও আত্মসমালোচনা ও আত্মমূল্যায়নের বছর। নতুন বছরে নতুন করে সম্ভাবনা তৈরি হয়, আবার উবে যায়। আবার সম্ভাবনা তৈরি হয়, আবার উবে যায়। এ তৈরি হওয়া এবং উবে যাওয়ার মধ্যেই আমাদের দিনযাপন বেঁচে থাকা।

আমরা প্রতিটি নতুন বছরে স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বীজ বুনি, এ বীজ আবার অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। হতাশাগ্রস্ত হয়েও আমরা আবার আশায় বুক বাঁধি, নতুন করে স্বপ্ন দেখি। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন, অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন। একটি সুষ্ঠু, সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনের স্বপ্ন। কিন্তু আমাদের স্বপ্ন বার বার হোঁচট খায়, চোরাবালিতে আটকে যায়, মাঠে মারা যায়। আমরা মুখ থুবড়ে পড়ি। আমাদের জাগিয়ে তোলার যেন কেউ নেই। সবাই আমাদের আশার বাণী শোনায়। চারদিকে কথার ফুলঝুরি শুনে শুনে আমরা একবার আশায় বুক বাঁধি, আবার আশাহত হই।

নতুন বছরের কাছে প্রত্যাশা ভালো থাকার, সুন্দর থাকার। দেশটা হোক অস্থিতিশীলতা-সহিংসতা-নৃশংসতামুক্ত। চাই অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
নতুন বছরের কাছে চাওয়া একটি সুন্দর জীবন। সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ, শিক্ষাঙ্গণে সুস্থ পরিবেশ, মানুষে মানুষে শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা। সব মিলে হবে একটি শান্তিময় দেশ।

বিদায়ী বছরজুড়ে সংঘাতের রাজনীতির মর্মমূল থেকে উত্সারিত এক একটি ঘটনা সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ, ব্যথিত ও শোকাহত করলেও আর নয় হানাহানি, রক্তপাত। নতুন বছরে উন্মোচিত হোক সম্ভাবনার দিগন্ত। এই প্রত্যাশায় সবার জন্য শুভ কামনা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY