নতুন বছর মানেই নতুন বই!

এওয়ান নিউজ ডেস্ক: আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় পাশের হার বৃদ্ধি, নারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উৎসাহব্যঞ্জক উপস্থিতি এবং মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণ- এগুলো শিক্ষাক্ষেত্রে ধণাত্মক নির্দেশক। এখন গুণগত পরিবর্তনের বিষয়টি গভীরভাবে দেখার সময় কারণ প্রতি বছর পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পাশের হার আর শিক্ষার মান ঠিক উল্টোগতিতে পেছনে যাচ্ছে। সরকার ২০১০ সাল থেকে  প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের  শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ করে আসছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে ধরা হয়।
বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের হাতে বই তুলে দেওয়া একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। সেজন্য নতুন বছরের জানুয়ারি মাসের পহেলা তারিখে সরকার বই উৎসবের ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা হলো সার্বজনীন অর্থাৎ বিনাখরচে সব শিশুর জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেজন্য আগে প্রতি বছরের শুরুতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রত্যেক ক্লাসের ছাত্রদের বিনামূল্যে নতুন একসেট বই বিতরণ করা হতো, কিন্তু এখন তা আরো সম্প্রসারিত করে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত করা হয়ে থাকে।
২০১৬ সালের বই উৎসব সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। বছরের শুরুর দিন থেকে দুই দিনব্যাপী এই উৎসব চলে। সেই হিসেবে এবছর জানুয়ারি মাসের ১ ও ২ তারিখ রবিবার ও সোমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুইদিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এজন্য যে, যদি কোনো শিক্ষার্থী ১ জানুয়ারি বই নিতে না পারে, তাহলে তাদের আবার ২ জানুয়ারিতে বই প্রদান করা হবে। একটি উৎসবের আমেজে সবার জন্য নতুন বই তুলে দেওয়া একটি রেওয়াজ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বছরের শুরুতে নতুন ক্লাসে উঠে নতুন বই হাতে পাওয়ার যে কি আনন্দ সেটা ছেলেমেয়েরাই ভালো বলতে পারবে।
১৯৮০-৮১ সালের কথা, তখন স্কুলের বোর্ডের বই পোস্ট অফিসের মাধ্যমে আসত এবং তা সরাসরি ছাত্রছাত্রীদের গ্রহণ করতে হতো। তখন চার-পাঁচ বছর পরপর বই নতুন করে সংশোধিত সংস্করণ ছাপানো হতো, তাও আবার কেবল বাংলা কিংবা ইংরেজি বই। সেজন্য এক বছরের পুরাতন বই বেশ কয়েকবছর চালানো যেত। স্কুলে তখন এভাবে বিনামূল্যে নতুন বই বিতরণের নিয়ম ছিল না। প্রতিবছরই নতুন ক্লাসের জন্য যাদের প্রয়োজন তাদের নতুন বই কিনতে হতো। কিন্তু এখন প্রতিবছরই সরকার থেকেই প্রত্যেকটি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে নতুন বই বিতরণ করা হয়ে থাকে। প্রথমদিকে এই কার্যক্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দিয়ে শুরু হলেও এখন সব স্কুল ও মাদ্রাসায় তা বিতরণ করা হচ্ছে।
বই বিতরণের বিষয়টিকে আরো অর্থবহ ও সর্বজনীন করা সরকারের একটি ঐকান্তিক ইচ্ছা। তারই অংশ হিসেবে এবার শিক্ষান্ত্রী বই বিতরণের দিনে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেসব এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধ ও রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিশিষ্ট শিক্ষবিদকে ওই উৎসবে উপস্থিত থেকে উৎসাহ প্রদানের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY