নতুন বছর শুরু হোক বিছানাকান্দি ভ্রমণে

এওয়ান নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের সীমান্তে মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঠাণ্ডা পানির প্রবল স্রোত থরে থরে সাজানো পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে চলে। ঠিক যেন একটি পাথুরে নদী। জায়গাটার নাম বিছানাকান্দি। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় একে বিস্নাকান্দি বলা হয়। বিছানাকান্দির স্বচ্ছ জলে ছড়িয়ে আছে সফেদ রূপের বাহার। পাথর-কণায় লুকিয়ে থাকা জলতলের সৌন্দর্য মেলে ধরেছে প্রকৃতি। পাথর ছুঁয়ে ধেয়ে নামছে মেঘালয়-চেরাপুঞ্জি পাহাড়ের স্বচ্ছ জল। সেই জলে বাসা বেধেছে পাথর। সঙ্গে নুড়িকণা। আশ্চর্য করা এই সৌন্দর্য সিলেটের গোয়াইঘাট সীমান্তের বিছানাকান্দিতে।

যা দেখবেনঃ পাথুরে নদীর স্বচ্ছ নির্মল পানিতে হবে জলকেলী, ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকবে ভারতীয় সীমান্তে অবস্থিত সুউচ্চ পাহাড় আর ঝর্ণা!! এমনই লোভ জাগানিয়া সৌন্দর্য্যে ভরপুর বিছানাকান্দি। ইচ্ছে হলে পুরো পরিবার নিয়ে যেতে পারেন, কিংবা যেতে পারেন দল বেধে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে। অবশ্য কেউ যদি শুধু বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড নিয়ে যান তাহলেও মজা খুব একটা কম হবে না। ছোট-বড়, সব বয়সের সবার জন্যই বিছানাকান্দি হল একটা পারফেক্ট এন্টারটেইনমেন্ট প্যাকেজ।

1

যেভাবে যাবেনঃ সিলেট নগরীর সৌন্দর্জ্যটা আসলে বর্ষাকালেই বেশী উপভোগ করা যায়। আর তা ছাড়া বর্ষার সময়ে বিছানাকান্দি পূর্ণযৌবন ফিরে পায়।

যেভাবে যাবেনঃ

বাসে সিলেটঃ ঢাকা থেকে সিলেট এর উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায় গাবতলী এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে৷বাস গুলো সকাল থেকে রাত ১২.৪৫ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় পরপর ছেড়ে যায়৷ঢাকার ফকিরাপুল, সায়দাবাদ ও মহাখালী বাস স্টেশন থেকে সিলেটের বাসগুলো ছাড়ে। এ পথে গ্রীন লাইন পরিবহন, সৌদিয়া এস আলম পরিবহন, শ্যামলি পরিবহন ও এনা পরিবহনের এসি বাস চলাচল করে। ভাড়া ৮শ’ থেকে ১ হাজার ১শ’ টাকা। এছাড়া শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ইউনিক সার্ভিস, এনা পরিবহনের পরিবহনের নন এসি বাস সিলেটে যায়। ভাড়া ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা। এনা পরিবহনের বাসগুলো মহাখালী থেকে ছেড়ে টঙ্গী ঘোড়াশাল হয়ে সিলেট যায়।

ঢাকা থেকে ট্রেনে সিলেটঃ ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস। সপ্তাহের প্রতিদিন দুপুর ২টায় ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ০৯টা ৫০ মিনিটে ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৪টায় ছাড়ে কালনী এক্সপ্রেস। ভাড়া দেড়শ থেকে ১ হাজার ১৮ টাকা। ট্রেনে গেলে রাত ৯.৫০ এর উপবন এক্সপ্রেসে জাওয়াটাই সব থেকে ভালো কারন আপনার যেতে যেতে সকাল হয়ে যাবে আর আপনি যদি রাতে ট্রেনে ঘুমিয়ে নিন তাহলে সকালে ট্রেন থেকে নেমেই আপনার ভ্রমন শুরু করতে পারেন আর সময় লাগবে ৭-৮ ঘন্টা।

14

চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে সিলেটঃ চট্টগ্রাম থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে যায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে উদয়ন এক্সপ্রেস। ভাড়া ১৪৫ থেকে ১ হাজার ১৯১ টাকা।ট্রেন এর টিকেট এর দাম: এসি বার্থ ৬৯৮ টাকা, এসি সিট ৪৬০ টাকা, ফার্স্ট ক্লাস বার্থ ৪২৫ টাকা, ফার্স্ট ক্লাস সিট ২৭০ টাকা. স্নিগ্ধা ৪৬০ টাকা, শোভন চেয়ার ১৮০ টাকা, শোভন ১৫০ টাকা, সুলভ ৯৫ টাকা।

টিপসঃ

১। শুষ্ক মৌসুমে বিছানাকান্দি যাওয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রতি অবশ্যই একটা করে নোজ-মাস্ক নিবেন। এটা যে কতটা কাজে দেবে তা না গেলে অনুধাবন করা অসম্ভব।

২। সম্ভব হলে সোম অথবা বুধবারে বিছানাকান্দি ভ্রমণে যান। বিছানাকান্দি ভারত এবং বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন জিরো পয়েন্টে অবস্থিত। সোম এবং বুধবারে ভারতীয় সীমান্তে অবস্থিত বাজার বাংলাদেশীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। অর্থ্যাৎ সপ্তাহে এই দুই দিন বিছানাকান্দি সীমান্ত দিয়ে আপনি বিনা পাসপোর্টে ভারতে ঢুকতে পারবেন এবং ঐ দেশের বাজার থেকে যে কোন ভারতীয় পণ্য কেনাকাটা করার সুযোগ পাবেন।

৩। নদীর স্বচ্ছ পানির নিচে থাকা পাথরগুলো অসম্ভব রকমের পিচ্ছিল এবং কোন কোনটি খুবই ধারালো হয়ে থাকে। একটি ভূল পদক্ষেপ মারাত্মক দূর্ঘটনার কারন হয়ে দাড়াতে পারে। পিচ্ছিল শিলায় পা পিছলে পড়ে গেলে হাত-পা কেটে ছড়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে। বাচ্চাকাচ্চা সঙ্গে থাকলে তাদেরকে দেখে রাখুন। নইলে আনন্দ করতে এসে দিনশেষে কান্নাকে সঙ্গী করে ফিরতে হবে। সম্ভব হলে অতিরিক্ত এক জোড়া স্যান্ডেল সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন।

u23195_605427_708756

৪। স্মার্টফোন-ক্যামেরা সহ মূল্যবান গ্যাজেটগুলো সাবধানে রাখুন। পিচ্ছিল পাথরে পা দিয়ে হাটার সময় কিংবা সাতার কাটার সময় ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী সঙ্গে না রাখাই ভাল। পানিতে পড়ে অথবা ভিজে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৫। বর্ষাকালে নদীতে ভয়ংকর স্রোত থাকে- চোখের দেখায় অনেক সময় এর বিপদের মাত্রাটা অনুধাবন করা যায় না। অতএব, সাবধান থাকুন।

৬। খাবার এবং পানি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন, কিন্তু নিজ দায়িত্বে পরিত্যক্ত খোসা, মোড়ক, বোতল ফেরৎ নিয়ে আসুন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত বিছানাকান্দি যেন নোংরা ও অপরিস্কার না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখুন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY