নিউইয়র্কে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন করেছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্কে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার রাতে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এ্যাভিনিউতে ‘৫ জানুয়ারি’ উপলক্ষে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন।

এ সময় বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা, বাংলাদেশে নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানান। বাংলাদেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিতের দাবি করে অবিলম্বে সব ধরণের বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ড, খুন, গুম বন্ধের দাবিও জানান প্রবাসী বিএনপি নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অন্যতম দু’নেতা গিয়াস উদ্দিন এবং ওমর ফারুকের যৌথ পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সিনিয়র নেতা আব্বাস উদ্দিন দুলাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবুল কাশেম, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রকিব উদ্দিন দুলাল, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন সবুজ, ঢাবির সাবেক ছাত্রনেতা আবদুস সবুর, বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়া, নোয়াখালী জাতীয়তাবাদী ফোরামের সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান মানিক, সীতাকুন্ড পৌরসভার সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ, প্রবাসী নেতা মোহাম্মদ হোসেন কচি, আহসান উল্লাহ বাচ্চু প্রমুখ।

এছাড়া বিক্ষোভ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন- নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে আজাদ, সাবেক ছাত্রনেতা নুরে আলম, লোয়ার হোসেন শিপন, নাসির উদ্দিন, আহসান উল্লাহ মামুন, মোস্তাক আহমেদ, সালেহ আহমেদ রুমেল, ইঞ্জিনিয়ার হারুনুর রশিদ, মঞ্জুর কাদের সোহাগ, শামীম মাহমুদ, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।0000-12

সভাপতির বক্তব্যে মিজানুর রহমান মিল্টন ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে দেশের মাটিতে স্বাভাবিক রাজনীতি করতে দেয়া হচ্ছে না। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে আজকে কথা বলার কোনো অধিকার নেই। দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই। যেন দেশের মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে বর্তমান সরকার। দেশে গণতন্ত্রের নামে যা খুশি তাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের মাটিতে কথা বলার কোনো অধিকার নেই। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো- সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেফতার ও কারাবরণের ঘটনা। বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ববাসী দেখেছে শফিক রেহমানের মতো একজন জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব ও প্রবীণ সাংবাদিকে কিভাবে হয়রানি করা হয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পর্কে মিজানুর রহমান মিল্টন ভূঁইয়া বলেন, যতদিন স্বচ্ছতার সঙ্গে দলের প্রবাসী নেতারা কাজ করবেন। ততদিন আমি আমার সবকিছু দিয়ে তাদের পাশে থাকবো।

এদিকে বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা ‘বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এ সরকার গণতন্ত্রকে কবরে পরিণত করেছে। প্রতিবেশি দেশের তাবেদার সরকারকে দেশবাসী একদিনের জন্যও ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তারা বলেন, দেশে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে এবং গণমানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই একটি নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY