পৈশাচিকতা! মানুষ এতটা নির্মম, নৃশংস, নিষ্ঠুর কীভাবে হতে পারে?

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের একটি কারখানায় পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশুশ্রমিক সাগর বর্মণকে হত্যার ঘটনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়তে হয়। এ কোন্ পৈশাচিকতা! মানুষ এতটা নির্মম, নৃশংস, নিষ্ঠুর কীভাবে হতে পারে? এ ঘটনায় প্রকৃত মানুষের বিবেকবোধ বিমর্ষ বিবশ হয়ে পড়ার মতোই। গত বছর ৩ আগস্ট খুলনায় শিশু রাকিবকে হত্যা করা হয় একই কায়দায়। এমন বর্বরতার কথা কোন সুস্থ মানুষের কল্পনাতেও আসার কথা নয়। শিশুর প্রতি বড়দের স্নেহের উদ্রেক হওয়াটাই স্বাভাবিক ও বাঞ্ছিত। এর অন্যথা হওয়া অস্বাভাবিক অসুস্থ বিষয়। শিশুদের ওপর গবেষণা ও সমীক্ষা থেকে বিশ্বে এই সত্যটিই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, শিশুদের গালমন্দ বা মারধর করা তাদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য শুভ ও ইতিবাচক নয়।

গত বছর দেশে শিশু নির্যাতন আগেকার সকল উদাহরণকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। দুই শিশু রাজন ও রাকিবের নৃশংস হত্যাকা- দেশবাসীকে যেমন কাঁদিয়েছিল, তেমনি মানুষ প্রতিবাদে গর্জেও উঠেছিল। গোটা সমাজের মর্মমূল ধরে নাড়া দিয়েছিল ওই দুটি ঘটনা। সরকারও ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওই দুটি হত্যা মামলার আসামিদের আইনের আওতায় এনে বিচার সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসনের একটি উজ্জ্বল মাইলফলক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে শিশু নির্যাতনের দায়ে দোষী ছয় পাষ-ের ফাঁসির রায় পাওয়ার ফলে আগামীতে একই ধরনের নিষ্ঠুর অপরাধ করার আগে যে কোন নরাধম শতবার ভাববে বলেই আমরা ধারণা করেছিলাম। কিন্তু শিশুর পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে বর্বর নির্যাতনের পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেখা গেল। নৃশংসতার হাত থেকে শিশুদের আমরা কিভাবে বাঁচাব সেটা বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। তাই আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরী।

সাগর হত্যা আমাদের অবক্ষয়ের, অন্যায়ের, অশালীনতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত। আমাদের এই সমাজ নেতিবাচকভাবে যেন বদলে গেছে। বদলানোর জন্য একাধিক বিষয় দায়ী। তার একটি হলো- অনেকেরই অবনতিশীল মনোভাব। মানুষ এখন যেন মানবিকতাবোধ খুইয়ে বসেছে। এই সমাজকে রসাতলে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবেও অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে! সমাজে মাঝে মধ্যে এমন সব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে যা রীতিমতো এ্যাবসার্ড নাটকের দৃশ্যকে হার মানানোর মতো। এই চরম নৈরাজ্য থেকে পরিত্রাণের পথ অবশ্যই আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। সেজন্যে আইনের শাসনের কোন বিকল্প নেই। অন্ধকার, অসভ্যতা, অসুস্থতা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে সত্য, সুন্দর ও জ্ঞানের আলোর উদ্বোধন চাই। মানবতা, মনুষ্যত্ববোধ, সুস্থ রুচি, আদর্শ এবং মূল্যবোধের চর্চা আজ জরুরী হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বিষবৃক্ষকেও উপড়ে ফেলতে হবে শেকড়সুদ্ধ।

আমরা শিশু সাগরের নৃশংস হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা জানাই। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল হত্যাকারীকে শনাক্ত করে আইনের হাতে সোপর্দ না করতে পারলে মানুষ স্বস্তি পাবে না। শিশু সাগরের জন্য আমাদের অবশ্য পালনীয় কর্তব্যবোধ থেকে পিছু হটার সামান্যতম সুযোগ নেই। শিশু নির্যাতন রোধের উপায় খুঁজে বের করার জন্য সমাজের বিবেকবানদের সক্রিয় ও সোচ্চার হওয়া চাই।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY