প্রশ্নপত্র ফাঁস মনুষ্যত্ব ধ্বংসের আয়োজন : জাতীয় ছাত্র কেন্দ্র

এওয়ান নিউজ, ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্র কেন্দ্রের আহ্বায়ক সোলায়মান সোহেল, যুগ্ম সমন্বয়কারী আলী নূর নাসিম ও গোলাম মোস্তাকিন ভুইয়া বলেছেন, বাংলাদেশে এখন এমন এক দুর্যোগ চলছে যাতে কারও শারীরিক ক্ষতি না হলেও মনুষ্যত্বের বাঁধন আলগা হয়ে যাচ্ছে। মনুষ্যত্ব ছাড়া মানুষ পরিচয়টুকুও আর থাকে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মধ্য দিয়ে চলছে মনুষ্যত্ব ধ্বংসের আয়োজন যার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে।

বুধবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দেশের সমস্ত ক্ষেত্রে দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির ফলাফলের যে চিত্র আমরা দেখতে পাই এ ঘটনা তার একটি ফলাফল মাত্র। গত কয়েক বছর থেকেই সকল পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন গণহারে ফাঁসের পরও আমাদের শিক্ষা মন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রী একই উত্তর দেন, এটা গুজব। এর নিন্দা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত মূল হোতাদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি করেন।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, একজন শিক্ষার্থী যখন একটু একটু করে পৃথিবীটাকে বুঝতে শিখছে, অল্প অল্প করে গড়ে উঠছে তার বিচার-বুদ্ধি-মানবিকতাবোধ, ঠিক সেই বয়সে পরীক্ষার আগের রাতে অভিভাবক তার হাতে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছেন, পরদিন সে হলে গিয়ে দেখছে সেই প্রশ্নগুলোই এসেছে পরীক্ষায়, শিক্ষকরা দাগিয়ে দিচ্ছেন প্রশ্নের উত্তর গুলোও। এভাবে দুর্নীতি-চুরি-শঠতার মধ্যে যে শিশু বড় হচ্ছে বয়সকালে তার ভয়াবহ পরিনতির কথা কি সরকারের কর্তাব্যক্তিরা ভেবে দেখেছেন ?

তারা বলেন, প্রশ্নফাঁসের মুল কারণ শিক্ষার বানিজ্যিকীকরণ। বানিজ্যিকীকরণের লাগামহীন ঘোড়া যে ভাবে ছুটছে তাকে থামানো না গেলে বিচ্ছিন্ন ভাবে প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা যাবে না। আমরা জানি ব্যবসা মানে মুনাফা। শিক্ষা যখন মুনাফার হাতিয়াররে পরিণত হয়, তখন ছাত্র -শিক্ষক-প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সাথে যুক্ত কর্মকর্তা- কর্মচারীর মাঝে নীতি নৈতিকতা মূল্য বোধ এসব কাজ করেনা। তাই বানিজ্যিকীকরণের সর্বগ্রাসী নীতি থেকে সরে এসে শিক্ষার সর্বজনীন অধিকারের নীতিকে প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া এই নৈতিক অবক্ষয় থেকে জাতিকে বাঁচানো সম্ভব নয়। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যত নির্মানের জন্য এই সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে ছাত্র -শিক্ষক- অভিাভাবকদের সোচ্চার হওয়ার কোন বিকল্প নাই।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY