বিদ্যা ও জ্ঞানের চেতনা বাড়াতে বইমেলা

রাশিদ তরিকুল: পড়ার সবচেয়ে প্রাচীন, জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে বই। বই জ্ঞানের আধার। পৃথিবীর সকল জ্ঞান বইয়ের পাতায় ঘুমিয়ে থাকে। কোনো পাঠক যখন বইয়ের পাতা খোলে তখন ঘুমন্ত জ্ঞান জেগে ওঠে, কথা বলতে শুরু করে পাঠকের সাথে। জ্ঞানের আলো তখন পাঠককে আলোকিত করে, পাঠকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব চরাচরে।

কবি জসিমউদ্দীন যথার্থই বলেছেন, বই জ্ঞানের প্রতীক, বই আনন্দের প্রতীক। মনীষী লিও টলস্টয় শুধু এতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে মানুষের তিনটি জিনিস প্রয়োজন, বই, বই, বই। এফ টরুপার বলেছেন, একখানি ভালো বই শ্রেষ্ঠ বন্ধু, আজ এবং আগামীকালের জন্য। বন্ধুত্ব মানবজীবনে দুঃখ ও আনন্দের কারণ দুইই হতে পারে। কিন্তু একখানি ভালো বই এমন বন্ধু যা কখনো প্রতারণা করে না। তাই কবি ওমর খৈয়াম বেহেস্তের সরঞ্জামাদির তালিকা করতে গিয়েও বইকে রেখেছেন। আর রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ভালো বই আত্মশুদ্ধির শ্রেষ্ঠ উপায়। জ্ঞানের বাহন হিসেবে বই বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মাধ্যম। জ্ঞানের প্রসারে বইয়ের বিস্তারের প্রয়োজনীয়তা প্রাচীনকাল থেকেই অনুভূত ছিল। কিন্তু মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের আগে বইয়ের বিস্তার তেমনভাবে ঘটেনি। কেননা হাতে লিখে বইয়ের প্রচার কষ্টসাধ্য ছিল।

পঞ্চদশ শতকে জার্মানির গুটেনবার্গ মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কার করলে বইয়ের জগতে বিপ্লব সাধিত হয়। গুটেনবার্গ নিজের আবিষ্কৃত ছাপাখানায় ছাপা বই বিক্রির জন্য ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে নিয়ে আসতেন। তার দেখাদেখি স্থানীয় অন্যান্য বই বিক্রেতাও তাদের প্রকাশিত বই নিয়ে সেখানে বসতে শুরু করেন। সেসকল বই কিনতে বিভিন্ন শহর থেকে ক্রেতারাও আসতে শুরু করে। আর এভাবেই বিশ্বে বই মেলার প্রচলন শুরু হয়। এভাবেই বিশ্বের প্রাচীন বইমেলা শুরু হয় জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে। রেনেসাঁ ও শিল্প বিপ্লবের হাত ধরে জার্মানির দেখাদেখি ইউরোপের অন্যান্য শহরেও বই মেলার প্রচলন হয়। ১৮০২ সালে ম্যাথু কেরির উদ্যোগে প্রথম বইমেলা বসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে। ১৮৭৫ সালে প্রায় ১০০ জন প্রকাশক মিলে নিউইয়র্কের ক্লিনটন শহরে আয়োজন করে বৃহৎ এক বইমেলার। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৯ সালে জার্মানির পুস্তক প্রকাশক সমিতি ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে আনুষ্ঠানিক বই মেলার প্রচলন করে। এ মেলা এখন বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন বইমেলা।

বিশ্বের শতাধিক দেশ থেকে ২০ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান এ মেলায় অংশ নিয়ে থাকে। ফ্রাঙ্কফুর্টের পর লন্ডন বুক ফেয়ার বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই মেলাটি মূলত প্রকাশকদের মেলা পাঠকরা এখানে ততোটা গুরুত্ব পায় না। প্রকাশিতব্য বইয়ের প্রচারের জন্য, অন্য প্রকাশক থেকে বইয়ের স্বত্ব অথবা বইয়ের অনুবাদ স্বত্ব কেনাবেচার জন্য প্রকাশকরা এ মেলায় অংশ নেয়। ১৯৬৯ সালে আরব বিশ্বের সবচাইতে বড় মেলা অনুষ্ঠিত হয় মিশরের রাজধানী কারয়োতে। কাতারের দোহা ও ইরানের রাজধানী তেহরানেও বড়সড় বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৭ সালে শুরু হওয়া মস্কো ইন্টারন্যাশনাল বুক ফেয়ার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বই মেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তম বইমেলা কোলকাতা বইমেলা শুরু হয় ১৯৭৬ সালে। অনেকের মতে, এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বইমেলা। ২০১৩ সালে কলকাতা বইমেলায় বাংলদেশ ছিল থিম কান্ট্রি। বাংলাদেশে বই মেলার ইতিহাস কোলকাতার থেকে প্রাচীন।

পাকিস্তান আমলে বাংলাভাষা ও সাহিত্যের প্রসারে ১৯৫৫ সালে বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠা হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান তার এ লেখায় বলেছেন, বইমেলার চিন্তাটি এ দেশে প্রথমে মাথায় আসে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সাবেক পরিচালক সরদার জয়েনউদদীনের। তিনি বাংলা একাডেমিতেও একসময় চাকরি করেছেন। বাংলা একাডেমি থেকে ষাটের দশকের প্রথম দিকে তিনি গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদে নিয়োগ পান। তিনি যখন বাংলা একাডেমিতে ছিলেন, তখন বাংলা একাডেমি প্রচুর বিদেশি বই সংগ্রহ করত। এর মধ্যে একটি বই ছিল Wonderful World of Books. . এই বইটি পড়তে গিয়ে তিনি হঠাৎ দুটি শব্দ দেখে পুলকিত বোধ করেন। শব্দ দুটি হলো : ‘Book’ এবং ‘Fair’. কত কিছুর মেলা হয়। কিন্তু বইয়েরও যে মেলা হতে পারে এবং বইয়ের প্রচার-প্রসারের কাজে এই বইমেলা কতটা প্রয়োজনীয়, সেটি তিনি এই বই পড়েই বুঝতে পারেন। বইটি পড়ার কিছু পরেই তিনি ইউনেসকোর শিশু-কিশোর গ্রন্থমালা উন্নয়নের একটি প্রকল্পে কাজ করছিলেন। কাজটি শেষ হওয়ার পর তিনি ভাবছিলেন বিষয়গুলো নিয়ে একটি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করবেন। তখন তার মাথায় আসে, আরে প্রদর্শনী কেন? এগুলো নিয়ে তো একটি শিশু গ্রন্থমেলাই করা যায়। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। তিনি একটি শিশু গ্রন্থমেলার ব্যবস্থাই করে ফেললেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির (বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি) নিচতলায়। যত দূর জানা যায়, এটাই ছিল বাংলাদেশের প্রথম বইমেলা। এটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৬৫ সালে।

শিশু গ্রন্থমেলা করে সরদার জয়েনউদদীন পুরোপুরি তৃপ্ত হতে পারেননি। আরও বড় আয়োজনে গ্রন্থমেলা করার তিনি সুযোগ খুঁজতে থাকেন। সুযোগটি পেয়েও যান। ১৯৭০ সালে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জে একটি গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হয়। এই মেলায় আলোচনা সভারও ব্যবস্থা ছিল। সে সব আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের তৎকালীন প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল হাই, শহীদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী ও সরদার ফজলুল করিম। এই মেলায় সরদার জয়েনউদদীন একটি মজার কা- করেছিলেন। মেলায় যে রকম বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন, উৎসুক দর্শকরাও এসেছিলেন প্রচুর, বইয়ের বেচাকেনাও মন্দ ছিল না কিন্তু তাদের জন্য ছিল একটি রঙ্গ-তামাশাময় ইঙ্গিতধর্মী বিষয়ও। মেলার ভেতরে একটি গরু বেঁধে রেখে তার গায়ে লিখে রাখা হয়েছিল ‘আমি বই পড়ি না’। সরদার জয়েনউদদীন সাহেবের এই উদ্ভাবনা দর্শকদের ভালোভাবেই গ্রন্থমনস্ক করে তুলেছিল বলে অনুমান করি।
এখানেই সরদার জয়েনউদদীন থেমে থাকেননি। ১৯৭২ সালে তিনি যখন গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক, তখন ইউনেসকো ওই বছরকে ‘আন্তর্জাতিক গ্রন্থবর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে। গ্রন্থমেলায় আগ্রহী সরদার সাহেব এই আন্তর্জাতিক গ্রন্থবর্ষ উপলক্ষে ১৯৭২ সালে ডিসেম্বর মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে একটি আন্তর্জাতিক গ্রন্থমেলার আয়োজন করেন। সেই থেকেই বাংলা একাডেমিতে বইমেলার সূচনা।
১৯৭২ সালে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলা একাডেমির একুশের অনুষ্ঠানে কোনো বইমেলা হয়নি। তবে বাংলা একাডেমির দেয়ালের বাইরে স্ট্যান্ডার্ড পাবলিশার্সের রুহুল আমিন নিজামী তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রগতি প্রকাশনীর কিছু বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেন। তার দেখাদেখি মুক্তধারা প্রকাশনীর চিত্তরঞ্জন সাহা এবং বর্ণমিছিলের তাজুল ইসলামও ওভাবেই তাদের বই নিয়ে বসে যান। ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে একটি বিশাল জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সে উপলক্ষে নিজামী, চিত্তবাবু এবং বর্ণমিছিলসহ সাত-আটজন প্রকাশক একাডেমির ভেতরে পূর্ব দিকের দেয়ালঘেঁষে বই সাজিয়ে বসে যান। সে বছরই প্রথম বাংলা একাডেমির বইয়েরও বিক্রয়কেন্দ্রের বাইরে একটি স্টলে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। এভাবেই বিচ্ছিন্ন বই বিক্রির উদ্যোগের ফলে ধীরে ধীরে বাংলা একাডেমিতে একটি বইমেলা আয়োজনের জন্য গ্রন্থমনস্ক মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। (শামসুজ্জামান খান, প্রথম আলো, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৪)।

এ বিচারে দেখা যায়, বাংলাদেশে বইমেলার প্রাণপুরুষ কথা সাহিত্যিক সরদার জয়েনউদদীন। ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থাকাকালে এ বইমেলা সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। তার আগ্রহে ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক ড. আশরাফ সিদ্দীকী এই বইমেলার সাথে বাংলা একাডেমিকে সম্পৃক্ত করলে বইমেলা শক্ত ভিত্তি লাভ করে। ১৯৭৯ সালে এ বইমেলার সাথে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি যুক্ত হলে মেলার ব্যাপকতা বহুল বৃদ্ধি পায়। ওই সময় ৭ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বইমেলা অনুষ্ঠিত হতো। ১৯৮১ সালে বইমেলার মেয়াদ ২১ দিনের পরিবর্তে ১৪ দিন করা হয়। এরপর প্রকাশকদের দাবির মুখে ১৯৮২ সালে মেলার মেয়াদ আবার ২১ দিনে বৃদ্ধি করা হয়। মেলার উদ্যোক্তা থাকে বাংলা একাডেমি। সহযোগিতায় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। ১৯৮৩ সালে কাজী মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে বাংলা একাডেমিতে প্রথম অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন করেন। মূলত ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গের করুণ স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতেই এই মেলার নামকরণ হয় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ যা নিয়মিতভাবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০১৪ সাল থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা বাংলা একাডেমির মুখোমুখি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারিত হয়। চলতি বছরের বইমেলা এ যাবতকালে আয়োজিত সকল বইমেলার মধ্যে সর্বাধিক স্থান জুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৫টি চত্বরে বিভক্ত হয়ে সাড়ে ৬ শতাধিক স্টল এবারের বই মেলায় অংশ নিয়েছে। তবে এর মধ্যে প্রকৃত পুস্তক প্রকাশক যেমন রয়েছে, তেমনি পুস্তক প্রকাশক নয় এমন স্টলের সংখ্যাও কম নয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক স্টল দেয়া হয়েছে। এনজিও ও গবেষণা সংস্থা অনেক স্টল পেয়েছে। এসবের বাইরে গত কয়েক বছরের মতো এবারো বেশকিছু গণমাধ্যম মেলায় স্টল নিয়ে বসেছে। তবে স্টলের উপরে ও ভেতরে সাইনবোর্ড ও ফেস্টুন ছাড়া কিছু এনজিও ও গণমাধ্যমের স্টলে প্রদর্শনীর তেমন আয়োজনই চোখে পড়েনি। বোঝা যায়, বাণিজ্যিক প্রচারের উদ্দেশ্যেই তারা এ সকল স্টল নিয়েছে।

বইমেলার বিভিন্ন প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এবার স্টলের সংখ্যা কমানো হয়েছে। স্টলগুলো সুবিন্যস্ত হওয়ায় পাঠকদের বইমেলা প্রাঙ্গণে ঘুরতে, বই দেখতে, কিনতে অনেক সুবিধা হয়েছে। বাংলা একাডেমির পুকুর সংস্কার করায় মেলা প্রাঙ্গণের নান্দনিক সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি পাঠক ও লেখকগণ পুকুর পাড়ে বসে আড্ডা দিতে পারছে। এবারের বই মেলায় আরেকটি বিশেষ দিক হচ্ছে, দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি মোড় পর্যন্ত এলাকায় সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ করে খালি করে দেয়া হয়েছে। এই রাস্তায় কোনো বুকস্টল, ভাসমান বইয়ের দোকান ও হকারদের বসতে দেয়া হয়নি। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এ ব্যবস্থা নেয়া হলেও মেলায় আগত দর্শক ও ক্রেতারা এতে উপকৃত হচ্ছেন। তবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে স্টলের সংখ্য কমানোর ফলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিপুল জায়গায় মেলা সম্প্রসারিত হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক স্টলের জায়গা দিতে গিয়ে একাডেমি কর্তৃপক্ষ কোনো বিন্যাস করতে পারেননি। ফলে উদ্যানের ভেতর মেলার স্টল বিন্যাসে হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মেলায় আগতদের গেট দিয়ে উদ্যানের ভেতর ঢুকতেই এ হযবরল অবস্থা দেখে মেলা প্রদক্ষিণ করতে কিছুটা গোলকধাঁধায় পড়তে হচ্ছে। মেলায় আগতদের জন্য একটি তথ্য কেন্দ্র করেছে একাডেমি। কিন্তু সেখানে নতুন বইয়ের তথ্য ছাড়া আর কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

ফেব্রুয়ারি মাস বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে, বাঙালির জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস। ফেব্রুয়ারি মাস ভাষার মাস, শোকের মাস, শক্তির মাস, চেতনার মাস। বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার চেতনা অঙ্কুরিত হয়েছিল এই মাসে। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ২১ ফেব্রুয়ারিতে যারা প্রাণ দিয়েছিলেন তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলতে চাই, একুশ মানে শোক নয়, একুশ মানে শক্তি, একুশ মানে চেতনা, একুশ মানে প্রেরণা। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে একুশ মানে অর্জন। ২১ ফেব্রুয়ারি এখন সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে মর্যাদার সাথে। এ বছর জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মুর‌্যাল স্থাপিত হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মলাটে বাংলাদেশকে, বাংলা ভাষাকে, বাঙালি সংগ্রামকে বিশ্বের বুকে পরিচিত করিয়ে দিচ্ছে। সেই একুশের স্মরণে বাংলাএকাডেমির ব্যবস্থাপনায় মাসব্যাপী বইমেলা শুধু একটি মেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। একুশের বই মেলা তাই বাংলাদেশি সংস্কৃতির, বাংলাদেশি চেতনার অভিন্ন অনুষঙ্গ। ‘বাংলাদেশি’ শব্দটি জোর দিয়ে বলা হচ্ছে, কারণ বিশ্বের অন্য কোথাও বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বইও এ মেলায় প্রদর্শন করা হয় না। বাংলাদেশে প্রকাশিত অন্যভাষার বইগুলো প্রদর্শনে অবশ্য কোনো বাধা নেই।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY