ব্যবসায় সফলতা আনতে ওয়ারেন বাফেটের কিছু পরামর্শ

এওয়ান লাইফস্টাইল ডেস্ক: ওয়ারেন বাফেটকে চিনেন না এমন মানুষ দুনিয়াতে খুবই কম। তিনি বিশ্বের শীর্ষধনীদের মধ্যে। মার্কিন এই বিনিয়োগ ব্যবসায়ী তার সাফল্যের গোপন রহস্যগুলো প্রকাশে কখনোই দ্বিধা করেন না। বিনিয়োগকারীদের প্রতি তার বার্ষিক প্রতিবেদনগুলো ব্যক্তিগত জীবন থেকে শেখা সহজ-সরল বিনিয়োগ জ্ঞানে পূর্ণ থাকে।

এখানে তার এমন কয়েকটি বিনিয়োগ প্রজ্ঞার উল্লেখ করা হলো যেগুলো ব্যবহার করে আপনি ২০১৭ সালে আরো সফল একজন বিনিয়োগকারী হতে পারবেন।

১. পরিমাণের চেয়ে গুনগত মানের গুরুত্ব বেশি: সাধারণ হীরার মালিক হওয়ার চেয়ে বরং হোপ ডায়ামন্ডের সামান্যতম মালিকানাও ভালো। — ওয়ারেন বাফেট ২০১৩

হোপ ডায়ামন্ড হলো ৪৫ ক্যারেটের অতি মূল্যবান নীল হীরা, যা খুব কমই আছে পৃথিবীতে। এই হিরা কিনতে পাওয়া যায়না। যা শুধু যাদুঘরে প্রদর্শনীতে থাকে। ফলে সাধারণ কোনো হীরার পুরো মালিকানার চেয়ে এর সামান্যতম অংশের মালিকানাও ভালো।
আর এ কারণেই ওয়ারেন বাফেট ভালো ভালো কম্পানিতে স্বল্প পরিমাণে হলেও বিনিয়োগ করেন।

২. অনিশ্চয়তা মেনে নেওয়া: অনেক দিন আগে চার্লি মুঙ্গের তার সবচেয়ে দৃঢ় উচ্চাভিলাষ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন: আমি শুধু জানতে চাই কোথায় আমার মৃত্যু হবে, যাতে আমি সেখানে যাওয়া এড়িয়ে চলতে পারি। – ওয়ারেন বাফেট ২০০৯

কৌতুকটিতে এই বিষয়েরই প্রকাশ ঘটছে যে, এমনকি ওয়ারেন বাফেটও যখন স্টক কেনেন তিনিও জানেন না ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে। জীবনের বেশিরভাগ জিনিসের মতোই স্টক সম্পর্কেও কোনো পূর্বানুমান করা সম্ভব নয়। এবং আপনার সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও এমন কিছু অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হতে পারে যা ফলপ্রসু নাও হতে পারে।

৩. নগদ অর্থই রাজা: ওয়ারেন বাফেটের নগদ অর্থের মজুদ কিংবদন্তীতূল্য। এর ফলে অনেক সময় তার আয় কম হয় কিন্তু বাজার টালমাটাল থাকে তখন এই মজুদ তাকে রক্ষা করে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই মজুদ তাকে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং যখন দর ঠিক থাকে তখন কিনতে সহায়তা করে। এটি এমন একটি জয়ের সমীকরণ যা নির্দেশ করে যে সকল বিনিয়োকারীরই উচিৎ তাদের নগদ কিছু অর্থ মজুদ রাখা।

৪. নিষ্ক্রিয়তা এড়িয়ে চলা: ওয়ারেন বাফেটের মতে, অল্প কিছু বাজে সিদ্ধান্তের দৃশ্যমান ক্ষতি খুব বেশি ধীর গতিতে নেওয়া বা আমলাতন্ত্রিক জটিলতায় আটকে যাওয়া সিদ্ধান্তের অসংখ্য অদৃশ্য ক্ষতির চেয়ে ভালো।

আর এ কারণেই নতুন কোনো ধারণা পেলে ওয়ারেন বাফেট দেরি না করে তা কাজে লাগানোর চেষ্টায় লেগে যান। তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি হয়তো প্রতিবারই সঠিক নাও হতে পারেন কিন্তু তিনি এও বিশ্বাস করেন যে, নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে না থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে কোনো সুযোগের সম্ভাবনা উপলব্ধি করা যায়। আর চুড়ান্ত বিচারে পদক্ষেপ গ্রহণের আত্মবিশ্বাস থাকা অধ্যাবসায় করার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

৫. পুরস্কারের ওপর চোখ: বিনিয়োগকারীদের মনে রাখা উচিৎ উত্তেজনা এবং ব্যয় তাদে শত্রু। বাজারের চলমান তালে গা না ভাসিয়ে ওয়ারেন বাফেট তার নিজস্ব বিনিয়োগ শৃঙ্খলা মেনে চলেন। একটি স্বাস্থ্যকর নগদ অর্থের মজুদ এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিকতা তাকে উঁচু দরের স্টকের পিছু ছোটা থেকে রক্ষা করে। আর এর ফলে এমনকি বাজার যখন পড়তির দিকে থাকে তখনও তিনি মুনাফা করেন। তবে বাফেটের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তার নিজস্ব বিনিয়োগ শৃঙ্খলা।

৬. নিজের গুরুত্বপূর্ণ স্পটটি চিহ্নিত করুন: কোনো ব্যবসায় বিনিয়োগের সময় পূর্বনির্ধারিত প্রবেশ কৌশল অবলম্বন করলেও তা থেকে বের হওয়ার কোনো কৌশল নেয়না ওয়ারেন বাফেটের কম্পানি বার্কশায়ার। কারণ তিনি কোনো ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন তাতে স্থায়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই। আর এ কারণেই তিনি প্রবেশকালীন সময়টাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। বের হওয়ার বিষয়টি মাথায়ই আনেন না। এর মাধ্যমে ওয়ারেন বাফেট ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন সহজেই।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY