ভাসানীর প্রতি অবহেলা ক্ষমার অযোগ্য – ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

 

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আমাদের জাতীয় রাজনীতির অহংকার মওলানা ভাসানী নির্যাতিত-নিপিড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে কঠোর সংগ্রামের মধ্যদিয়েই অতিক্রম করেছেন সারাটা জীবন। তিনি এ জাতির হৃদয়-প্রাণ। কোন সরকার তার জন্য কি করলো তাতে কিছু আসে যায় না। তিনি সরকারী ও বিরোধী রাজনীতিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলবেন, স্বাধীনতার কথা বলবেন আর মওলানা ভাসানীর কথা বলবেন না এটা আত্মপ্রতারনা ছাড়া কিছুই নয়।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ১৩৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় স্মরণ মঞ্চ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখছিলেন। মঞ্চের আহŸায়ক এ.এইচ.এম. মনিরুজ্জামান দেওয়ান মানিকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশগ্রহন করেন বিএনপি চেয়াপার্সনের উপদেষ্টা এডভোকেট নজমুল হক নান্নু, মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম.গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম প্রধান, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবদুল আউয়াল ঠাকুর, কল্যাণ পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান তামান্না, গণ সংস্কৃতি দলের সভাপতি এস.আল-মামুন, মুক্তিযোদ্ধা আমিরুজ্জামান, কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী, সংগঠনের সদস্য মিজান মাসুম, মোঃ বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।

ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পূনাঙ্গ তালিকা প্রনয়ন করা সরকারের দায়িত্ব। এ কাজ করতে না পারলে ইতিহাস আওয়ামী লীগ-বিএনপি আমাদের কাউকেই ক্ষমা করবে না। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও এ তালিকা করা অসম্ভব নয়। তিনি বলেন, সরকারের নতজানু ও ভুল পররাষ্ট্রনীতির কারণে আমরা রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হচ্ছি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

এডভোকেট নজমুল হক নান্নু বলেছেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর যে স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখতেন তা আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি বলেছেন, ৪৭ পূর্বে বৃটিশ বিরোধী আজাদী আন্দোলন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা, ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৭১ মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলন, ভারতীয় পানি আগ্রাসনের বিরোধী লংমার্চে কোথায় নেই ভাসানী ?  তিনি প্রশ্ন করেন কেন মওলানা ভাসানীর প্রতি এত অবহেলা ? ভাসানীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে, দেশের স্বার্থে-মানূষের স্বার্থে।

ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল বলেছেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর আপোষহীন রাজনীতি ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলো অত্যাচারী শাসকশ্রেণির, স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও সাহসী করে তুলেছিলো সাধারণ মানুষকে। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল মানুষকেই অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ করার সংগ্রাম করেছেন আজীবন তিনি।

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, মওলানা ভাসানী আমৃত্যু তিনি সা¤্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াই আর সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবতীর্ণ ছিলেন। তিনি বলেন, নাসির নগরে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, গাইবান্ধায় সাওতালদের উপর হামলা সকল কিছুর সাথেই আওয়ামী লীগ জড়িত। আর সরকার প্রকৃত অপরাধিদের আড়াল করতে বিভিন্ন নাটক সাজাচ্ছে। প্রকৃত অপরাধিদের আড়ালের চেষ্টা সরকারের জন্যই বুমরাং হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্রহীন, ভোটবিহীন সংসদ। মওলানা ভাসানীর প্রদর্শিত পথে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মনিরুজ্জামান দেওয়ান মানিক বলেছেন, মওলানা ভাসানী রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাননি বটে, তবে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তনের অনুঘটক ছিলেন। আজ মওলানা ভাসানীকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু, ষড়যন্ত্রকারীরা জানে না যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন মওলানা ভাসানী দেশপ্রেমিক মানুষের হৃদয়ে থাকবেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY