মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে ‘নাৎসি পদ্ধতি’ ব্যবহারের অভিযোগ ট্রাম্পের

এওয়ান নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র নয়দিন আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে রীতিমতো লড়াইয়ে নেমেছেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ‘নাৎসি পদ্ধতি’ ব্যবহার করে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ করেছেন।

উল্লেখ্য, নাৎসি জার্মানিতে ভিন্নমত দমনের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থা বিভিন্ন বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে ভিন্ন মতাবলম্বীদের হেয় প্রতিপন্ন করতো।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের চার প্রধান গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে রাশিয়ার হ্যাকিংজনিত যে গোপন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন তার মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ গোয়েন্দাদের আপোসেরও অভিযোগ রয়েছে। ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পের ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং তার ব্যক্তিগত জীবনের ‘স্পর্শকাতর’ কিছু তথ্য ধামাচাপা দিয়েছিলেন রুশ গোয়েন্দারা।

বুধবার নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছ থেকে ফাঁস হওয়া কিছু ‘বানোয়াট’ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কিছু সংবাদমাধ্যম রাশিয়ার সঙ্গে তার সমঝোতা করার খবর প্রকাশ করছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা ছিল লজ্জাকর, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বরাতে প্রকাশিত খবর মিথ্যা এবং ভুয়া। এটা এমনই লজ্জাকর, এ ধরনের পদ্ধতি শুধু জার্মানির নাৎসিরাই করত।’

এই সংবাদ সম্মেলনটি মূলত ট্রাম্প তার ব্যবসা যে ছেলেদের হাতে তুলে দিচ্ছেন, তা নিয়েই আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানকার বেশিরভাগ কথাই ছিল রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের কথিত ‘সমঝোতা’ সম্পর্কিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ওপর।

ট্রাম্প বলেন, “এসব তথ্য কখনওই ফাঁস করা উচিত হয়নি। সবগুলোই ভুয়া খবর। এগুলো এমন তথ্য, যা কখনওই বাস্তবে ছিল না। ‘কিছু অসুস্থ মানুষ’ এগুলো প্রকাশ করছেন। এটা খুবই লজ্জাকর।”

ট্রাম্প জানান, ‘মার্কিন গোয়েন্দাদের মানহানি হবে’ বলে তিনি ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলবেন না। তবে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে তথ্য ফাঁসের বিষয়টিকে তিনি ‘কলঙ্ক’ বলে উল্লেখ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘পুতিন (রুশ প্রেসিডেন্ট) যদি আমাকে পছন্দ করে থাকেন, তাহলে সেটা কোনও দায় নয়, এটা সম্পদ।’ পরে এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেছেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থার এসব তথ্য ফাঁস করা উচিত হয়নি। আমরা কি নাৎসি জার্মানিতে বাস করছি?’

অপর এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, ‘রাশিয়া আমার সঙ্গে কখনও আপোসে যাওয়ার চেষ্টা করেনি। রাশিয়ার সঙ্গে আমার কিছু নেই-কোনও চুক্তি, ঋণ, কিছুই নেই!’ এদিকে, ট্রাম্পকে নিয়ে রাশিয়ার কাছে ‘স্পর্শকাতর তথ্য’ রয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা নাকচ করে দিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। এ অভিযোগকে ‘বানোয়াট’ বলে উল্লেখ করেছে তারা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ট্রাম্পের তথ্য গোপন রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দাবি করেছেন, এ অভিযোগটি ‘সাজানো’। সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য এমন অভিযোগ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY