মেসিকে হারিয়ে ফিফার বর্ষসেরাও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

এওয়ান নিউজ ডেস্ক: বিস্ময়কর সাফল্যের জন্য ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হাতেই ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠবে বলেই অধিকাংশের বিশ্বাস ছিল। অবশেষে সেটিই বাস্তবে রূপ নিলো। জুরিখের আলো ঝলমলে রাতে রিয়াল মাদ্রিদ ও পর্তুগিজ সুপারস্টারকেই ‘বেস্ট প্লেয়ার’ হিসেবে নির্বাচিত করলো বিশ্বফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের ফরাসি ফরোয়ার্ড আন্তনিও গ্রিজমানকে হারিয়ে ফিফার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন রোনালদো। এর আগে গত ডিসেম্বরে ব্যালন ডি’অরও জয় করেন সিআর সেভেন।

২০০৮ সাল থেকেই ফিফার বর্ষসেরা ও ব্যালন ডি’অরকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন রোনালদো ও মেসি। এই নিয়ে গত নয় মৌসুমে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার কিং লিও পাঁচবার এবং সিআর সেভেন চারবার জিতেছেন। এবার ব্যালন ডি’অর ও ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার আলাদা হওয়ার পর দুটিতেই শেষ হাসি হাসেন রোনালদো।

২০০৮ ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন রোনালদো। এরপর ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ব্যালন ডি’অর জয় করেন তিনি। এবার পুরস্কার দুটি আলাদা হওয়ার পর ফিফার বর্ষসেরা ও ব্যালন ডি’অর দুটির পুরস্কারই ওঠে রোনালদোর হাতে।

অন্যদিকে ২০০৯ সালে ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে মেসি-রাজের শুরু। এরপর ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে ব্যালন ডি’অর জয় করেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। গত বছরও সেরার পুরস্কারটি ওঠেছিল তার হাতে। তবে এবার ফিফার বর্ষসেরা ও ব্যালন ডি’অর দুটিতেই রোনালদোর কাছে হেরে যান কিং লিও।

গত বছরের মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদকে প্রায় একক নৈপুণ্যে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতিয়েছিলেন রোনালদো। দুই মাস যেতে না যেতেই পর্তুগাল জাতীয় দলকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা এনে দেন। এই মূল্যবান দুটি ট্রফি জেতায় রোনালদোই গ্রহের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন।

গত বছরের আগস্টে নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার পরও সময়টা ভালোই যাচ্ছে রোনালদোর। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইউরোপিয়ান সুপার কাপের শিরোপা জেতার পর ডিসেম্বরে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর দলটিকে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জেতান সিআর সেভেন। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ২০ ম্যাচে ১৭ গোল করেন রোনালদো।

গত মৌসুমে রিয়ালকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানোর পথে ১৬টি গোল করেন রোনালদো। গেল মৌসুমে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটির হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ গোল করেন এই পর্তুগিজ সুপারস্টার। অন্যদিকে পর্তুগালকে ইউরো জেতানোর পথে তিনটি গোল করেন সিআর সেভেন।

এদিকে গত মৌসুমে ইনজুরির কারণে উল্লেখযোগ্য সময় মাঠের বাইরে ছিলেন লিওনেল মেসি। তবে তারপরও সময়টা একেবারেই মন্দ যায়নি আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের। বার্সেলোনাকে স্প্যানিশ লা লিগা ও কোপা ডেল রের শিরোপা জেতানোর পথে ৪৯ ম্যাচে ৪১ গোল করেন মেসি। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে প্রায় একক নৈপুণ্য কোপা আমেরিকার শতবর্ষী টুর্নামেন্টের ফাইনালে তোলেন কিং লিও। যদিও শিরোপার লড়াইয়ে হেরে যায় মেসির আর্জেন্টিনা।

অন্যদিকে গ্রিজমান অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তোলেন। ফ্রান্সকে ফাইনালে তোলার পথে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৬টি গোল করে গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুটের অ্যাওয়ার্ড জয় করেন এই অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ উইঙ্গার।

ফ্রান্স ফুটবল ও ফিফার সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ায় ব্যালন ডি’অর পুরস্কার আর ফিফার হাতে নেই। ডিসেম্বরে তাই আলাদাভাবে সেরা খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণা করে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন। ফিফাও আলাদাভাবে সেরা খেলোয়াড় ঘোষণা করে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY