সংবিধানের দোহাই দিয়ে একতরফা নির্বাচন জনগণ রুখে দিবে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংবিধানের দোহাই দিয়ে একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন করার যেকোন অপচেষ্টা এদেশের জনগণ সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দিবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার বেলা সাড়ে এগারটার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার জন্য সংবিধান ও নির্বাচন বসে থাকবে না আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যর জবাবে রিজভী বলেন, নির্বাচনে আস্থাশীল একটি দল, নির্বাচনে বিশ্বাসী একটি সংগঠন বিএনপি এবং বিএনপি’র চেয়ারপার্সন যিনি বারবার অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে অর্গলমুক্ত করেছেন তাঁকে ও তাঁর দলকে বাদ দিয়ে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এধরণের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে সুখের ইন্ধন দিতে পারে, কিন্তু জনগণের মধ্যে তা বড় ধরণের আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। তার বক্তব্যে যে ষড়যন্ত্র ও অশুভ পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত আছে তা কারো হৃদয়াঙ্গম করতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

তিনি বলেন, সংবিধান কোন ধর্মীয় গ্রন্থ নয় যে এটি সংশোধিত হতে পারবে না। যারা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে ভোটাধিকারকে কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে তারাই শুধু দেশের বড় দল ও দলের নেতাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে, যাতে তারা একচেটিয়া বিনা ভোটে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে। আওয়ামী লীগ হাট, ঘাট, মাঠ, টার্মিনাল, সাধারণ মানুষের জোত-জমি দখলের মতো ভোট ও নির্বাচনকেও দখল করে নিয়েছে। সংবিধানকে নিজেদের মতো করে সাজিয়েছে। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য সেই দখলেরই প্রতিধ্বণি।

আওয়ামী লীগ ও ভোট সন্ত্রাস একে অপরের পরিপূরক। বিএনপির এই নেতা বলেন, বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে পার পাওয়া যাবে না।

ভোটাধিকার মানুষের সহজাত অধিকার, তা কখনোই দাবিয়ে রাখা যায় না। ভোট সন্ত্রাস বনাম সুষ্ঠু নির্বাচনের দ্বন্দ্বেই মানুষের ভোটাধিকার বিজয়ী হবে, এটাই হচ্ছে ইতিহাসের নিয়ম। অবশ্যই বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া আগামী কোন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারবে না। আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

সরকারের অশুভ কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন আর সম্ভব হবে না। রিজভী বলেন, পদ্মা সেতুর ঠিকাদার নিয়োগে দুর্নীতির  ড়যন্ত্রের মামলায় কানাডিয়ান আদালতের রায়ের পর বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগি সংস্থা বিশ্বব্যাংকের সম্পর্কের অবনতি হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। আর এতে করে বাংলাদেশে চলমান অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নে সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

ইতোমধ্যে এনবিআর বিশ্বব্যাংকের ১৬টি গাড়ি তলব করেছে। এতো কিছুর পরও বিশ্ব ব্যাংক তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহুরুল হক শাহজাদা মিয়া, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রমুখ।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY