সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহবান: প্রধানমন্ত্রী

নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ার‌ম্যানদের শপথ

এওয়ান নিউজ, ঢাকা: নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আপনাদের লক্ষ্য হবে মানুষের সেবা করা।’

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলায় নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের শপথ অনুষ্ঠান শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন। নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী নিজে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও শপথ যথাযথভাবে জাতির সেবায় নিবেদিত হতে হবে। এদেশের মানুষ দীর্ঘদিন শোষিত ও বঞ্চিত ছিল। ক্ষমতায় ধারাবাহিকতা ছিল বলে গত আট বছরে দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের নিজ নিজ জেলায় উন্নয়ন কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা- সেদিকে খেয়াল রাখবেন। কী কী করতে আরও উন্নয়ন করা যায় সেদিকেও খেয়াল রাখবেন। আপনাদের অনেক কাজ। অনেক বাধা চড়াই উৎরাই পার হয়ে উন্নয়নের মহাসোপানে পা রেখেছে বাংলাদেশ। এটা যেন আর পেছনের দিকে না যায়।’000

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতা চেয়েছিলেন মানুষের সেবার জন্য। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়েছে। জেলা পরিষদ নির্বাচন এবার প্রথম হলো ইলেকটোরাল ভোটের মাধ্যমে। আগে সিলেকশনের মাধ্যমে চেয়ারম্যানদের বসানো হতো। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের সেবা দেওয়া। স্বাধীনতার পর দেশের মানুষ ছিল সাড়ে সাত কোটি কিন্তু এখন সেটা বেড়ে ১৬ কোটি হয়েছে। ক্ষমতা যতো বিকেন্দ্রীকরণ করতে পারবো জনসেবা তত সহজ হবে।’

নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ার‌ম্যানদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ভালভাবে সেবা দেয়া যায়। এলক্ষ্যে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিই। আগে জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো। এবার সরাসরি নির্বাচন দেয়া হলো।

তিনি আরো বলেন, শপথ নিয়ে আপনাদের কাজ হবে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা। দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত হয়ে আপনাদের কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অনেক বাঁধা আছে, তা পেরিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। 03

জেলা পরিষদের সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস‌্যরা আগামী ১৮ জানুয়ারি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শপথ নেবেন বলে স্থানীয় সরকার সচিব আবদুল মালেক জানান। তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথমবারের মত নির্বাচনের আয়োজন করা হলেও আদালতের আদেশে কুষ্টিয়া ও বগুড়ায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন আটকে যায়।

বিএনপি ও জাতীয় পার্টির বর্জনে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দল মনোনীত ২১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ভোটের আগেই। ভোটের দিন আওয়ামী লীগ ও তাদের বিদ্রোহীরা জেতেন ৩৮ জেলায়। প্রতি জেলায় একজন করে চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত হন এ নির্বাচনে।

১৯৮৮ সালে এইচ এম এরশাদ সরকার প্রণীত স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে সরকার কর্তৃক নিয়োগ দেওয়ার বিধান ছিল; পরে আইনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ১৯৮৯ সালে তিন পার্বত্য জেলায় একবারই সরাসরি নির্বাচন হয়েছিল। ২০০০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচিত জেলা পরিষদ গঠনের জন্য নতুন আইন করে।

এরপর ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর সরকার ৬১ জেলায় আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়। অনির্বাচিত এই প্রশাসকদের মেয়াদ শেষে এবারের নির্বাচন হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY