সন্ত্রাসবাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান বাংলাদেশের

নিরাপত্তা পরিষদের মুক্ত বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: সন্ত্রাসবাদ থেকে উদ্ভূত হওয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে জাতিসংঘে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘে নিয়োজিত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিরাপত্তা পরিষদে এ আহ্বান জানান। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স নীতি বহাল রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘প্রটেকশন অব ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাসটাকচার অ্যাগেইন্সট টেররিস্ট অ্যাটাকস’ শিরোনামে নিরাপত্তা পরিষদে অনুষ্ঠিত এক মুক্ত বিতর্কে অংশ নিয়ে মোমেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ জাতিসংঘের সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্সসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

সন্ত্রাসী হামলার কারণে মানুষ ও পরিবেশ হুমকির মুখে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর প্রতি হুমকিগুলোর সিংহভাগই আন্তর্জাতিক প্রকৃতির এবং সেকারণে এ হুমকি মোকাবেলায় আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে অবশ্যই সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রাধান্য, হুমকিতে থাকা অবকাঠামো ও বেসামরিকদের সুরক্ষায় আগাম সতর্কতা ও তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জোর দেওয়ার প্রয়োজন নেই’।

মোমেন আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতির কারণে তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার বলে বিবেচিত হয়।’যখন কয়েকটি দেশ সরকারি ও বেসরকারি খাতে অংশীদারত্ব জোরালো করার ব্যাপারে গুরুত্ব দিচ্ছে না, তখন মোমেন জানান, বাংলাদেশ এ ব্যাপারে আগ্রহী।

এর আগে নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া এক প্রস্তাবে সন্ত্রাসী হামলার চ্যালেঞ্জবিষয়ক জ্ঞান বাড়াতে এবং সচেতনতা জোরালো করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার জন্য সব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। জাতিসংঘের সবচেয়ে শক্তিশালী কর্তৃপক্ষ বলে পরিচিত নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধ, প্রশমন ও মোকাবেলায় সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের কেবিনেট চিফ মারিয়া লুইজা রিবেইরো ভিয়োত্তি বলেন, অবকাঠামোগত নেটওয়ার্ক ও সিস্টেমগুলো আগে একসময় স্বতন্ত্রভাবে কাজ করলেও এখন তা আন্তঃসম্পর্কযুক্ত। এক খাতে হামলা হলে অন্য খাতে প্রভাব পড়তে পারে যার মধ্য দিয়ে ভাঙ্গন ও ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

নিরাপত্তা পরিষদে তিনি আরও বলেন, কাউন্টার টেরোরিজম কমিটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরেট আইএস ও অন্য সংগঠনগুলোর হামলার ঝুঁকিকে চিহ্নিত করেছে এবং সীমান্তজুড়ে কতটি ফ্যাসিলিটি ও নেটওয়ার্ক কাজ করছে তা নির্ধারণ করেছে। অবকাঠামোর ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হলে অনেকটা নিশ্চিতভাবেই এর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব থাকে।

ভিয়োত্তি মনে করেন, ‘কৌশলগতভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই একত্রিত হতে হবে এবং আরও সৃজনশীল, প্রতিরোধী ও কার্যকরীভাবে হুমকি মোকাবেলা করতে হবে। এর জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দৃঢ় অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে’।

জাতিসংঘে নিয়োজিত ভারতীয় স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবর উদ্দিন বলেন, ‘হুমকিতে থাকা অবকাঠামোর সুরক্ষা দেওয়াটা প্রাথমিকভাবে একটি জাতীয় দায়িত্ব ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্টক মার্কেট, বড় কোনও বাঁধ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা এ ধরনের অন্য স্থাপনায় হামলার হুমকি জাতীয় সীমানাকে ছাপিয়ে ব্যাপকতর প্রভাব তৈরি করে।’

চীনের প্রতিনিধি লিউ জিয়েই বলেন, হুমকিতে থাকা অবকাঠামোগুলো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর লক্ষ্যবস্তু। ক্রমবর্ধমান এবং বিচিত্ররকমের হুমকি থেকে এগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। চীনা এ কূটনীতিক মনে করেন, জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং আইন প্রয়োগকারী বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার প্রচেষ্টাকে সুসংহত করাটা সংকটের কাজ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY