অবসরে ঘুরে আসুন নগরের ঢাকেশ্বরীতে

নুরুল করিম, ঢাকা: একটু অবসরে নগরের ভেতরে ঘুরতে চান? হাজারো সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য বহন করে যুগের পর যুগ ধরে আমাদের রাজধানী ঢাকাতেই রয়েছে ঢাকেশ্বরী মন্দির। ঢাকেশ্বরী মন্দির যেখানে দেবী ঢাকেশ্বরী অধিষ্ঠিত বলে মানা হয়। পূজার ছুটিতে হোক কিংবা সাপ্তাহিক বন্ধের দিনই হোক, মনটাকে প্রশান্ত করতে একবার ঘুরে দেখেই আসতে পারেন ঢাকেশ্বরীর দেবীর মন্দির। জাতীয় পরিচিতি অনুযায়ী এই এলাকার নাম ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নামেই। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, রাজা বল্লাল সেন ১২০০ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করেছিলেন এই মন্দির। পরবর্তীকালে মন্দিরটিকে এর তাৎপর্য বিবেচনা করে জাতীয় মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ঢাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্দির হচ্ছে ঢাকেশ্বরী মন্দির । সলিমুল্লাহ হল থেকে আনুমানিক ১.৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঢাকেশ্বরী রোডের উত্তর পার্শ্বে একটি অনুচ্চ আবেষ্টনী প্রাচীরের মধ্যে মন্দিরটি অবস্থিত। মন্দির অঙ্গনে প্রবেশের জন্য রয়েছে একটি সিংহদ্বার। সিংহদ্বারটি নহবতখানা তোরণ নামে অভিহিত।

জনশ্রুতি অনুযায়ী মন্দিরটির নির্মাতা বল্লাল সেন নামে একজন রাজা। তবে এ বল্লাল সেন প্রকৃত অর্থেই সেন বংশের বিখ্যাত রাজা কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট মতপার্থক্য আছে। কেউ কেউ দাবি করেন যে, এখানে প্রতিষ্ঠিত ঢাকেশ্বরী মূর্তি ও মন্দির মহারাজা বল্লাল সেনের আমলের। কিন্তু স্থাপত্য নির্মাণ কৌশলের বিবেচনায় এটি গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানদের আগমনের পূর্বে তথা সেন রাজবংশের রাজত্বকালে বাংলার স্থাপত্যশিল্পে মর্টার হিসেবে চুন-বালি মিশ্রণের ব্যবহার ছিল না। কিন্তু ঢাকেশ্বরী মন্দিরটি আগাগোড়াই চুন-বালির গাঁথুনিতে নির্মিত, যা বাংলার মুসলিম আমলেরই স্থাপত্য রীতির বৈশিষ্ট্য।

নুরুল করিম

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মূল ফটক দুইটি। এছাড়া মাঝখানে একটি ফটক আছে। মূল ফটকের সোজাসুজি দূর্গা মার প্রতিমা। পাশের প্রবেশ গেটের প্রবেশ পথেই নাঠ মন্দির আর একটু এগোলেই পুকুর। পাশেই আরেকটি ভবন। এখানে ৪টি শিব মন্দির আছে এবং তার পাশেই সন্তোষী মাতার মন্দির, অনুভোগের স্থান, রান্নাঘর, ফল কাটার কক্ষ, জুতা রাখার স্থান এবং পূর্ব পাশের বিশাল ভবনটি প্রশাসনিক ভবন ও কোয়ার্টার অফিস কক্ষ, গেষ্ট রুম/অতিথী কক্ষ, সভাকক্ষ, লাইব্রেরী, আনসার ক্যাম্প ও পাশেই পাবলিক টয়লেট এবং মেলাঙ্গন। প্রতিটি ভবনের উপর যেমন শিব মন্দির ও নাঠ মন্দির এ গম্বুজ আছে।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আরেকটি অন্যতম অংশ হল এর ভেতরে অবস্থিত পুকুরটি। যা এখনও মন্দিরের শোভা বাড়ায়। প্রাচীন এই পুকুরটিতে পূণ্যার্থীরা স্লান ও ভোগ দিয়ে থাকেন। পুকুরটির দু’পাশে বাধাই করা। এখানে বিভিন্ন প্রজাতীর ছোট-বড় মাছ আছে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে মন্দিরটিকে আরও সুন্দরভাবে সাজানো ও সংস্কার করা হয়েছে। তার মধ্যে অভ্যন্তরে ফুলের বাগানটি অন্যতম উদাহরণ। নতুনভাবে নানা জাতের ফুলগাছ দিয়ে মন্দিরটির সৌন্দর্য্যকে আরও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

পূজা

যেভাবে যাবেন :

রিকশা, বাস অথবা সিএনজি যেকোনো একটাতে চড়েই যেতে পারেন ঢাকেশ্বরী মন্দির। মিরপুর থেকে বিকল্প বা সেফটি পরিবহনে করে সরাসরি যেতে পারবেন ঢাকেশ্বরী। ভাড়া ২৫ টাকা। এ ছাড়া যারা শাহবাগ, গুলিস্তান এসব জায়গা থেকে যাবেন তারা রিকশায় করেই যেতে পারেন। ভাড়া দরদাম করে নেওয়াই ভালো। তবে খেয়াল রাখতে হবে মন্দির সব সময় খোলা থাকে না। শুধু পূজার সময়গুলোতে যাওয়াই ভালো।

যা খাবেন :

প্রতিদিনই মন্দিরে প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়। তবে প্রসাদ খেতে হলে আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে পূজা শেষ হওয়ার। এ ছাড়া বাইরের দোকানে পাবেন সন্দেশ, খই, মিষ্টিসহ অনেক কিছু।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের স্থাপত্য রীতি, গঠনবিন্যাস, শিল্পচাতুর্য মন্দিরটির সামগ্রিক দৃশ্যকে এতই মাধুর্যমণ্ডিত করে তুলেছে যে এর চেয়ে সুন্দর, নয়নাভিরাম মন্দির আপনি বাংলাদেশের অন্য কোথাও হয়তো দেখতে পাবেন না।

ছবি: শেখ মো. আশফাক (আশু)।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY