আজ চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্ট শুরু

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্ট পরিসংখ্যান: এ পর্যন্ত খেলেছে আটটি ম্যাচ, টাইগাররা হেরেছে আটটিতেই

চট্টগ্রাম থেকে : আজ সকাল ১০টায় জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে চতুর্থ স্থানধারী ইংলিশরা (১০৮ পয়েন্ট) বাংলাদেশের (৫৭) চেয়ে ৫১ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে। তবে ঘরের মাটিতে সিরিজ শেষে ব্যবধান কমিয়ে আনার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছে টাইগাররা। এবারের সিরিজটি হবে দুই দেশের মধ্যকার ৫ম সিরিজ।

বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বলেছেন, তারা প্রথম ইনিংসে ৩০০ প্লাস রান করতে চান। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আগেই বলেছেন, প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার মতো সামর্থ্য বাংলাদেশের আছে। টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের কণ্ঠেও একই সুর, ২০ উইকেট নেবার মতো বোলার আমার আছে। প্রথম টেস্টের টাইগারদের নবীন সদস্য মেহেদি হাসান মিরাজ বলেছেন, আমরা হারিয়ে যেতে আসিনি।

এবার প্রায় সাড়ে ১৪ মাসের বিরতির পর টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। অপরদিকে গত ১৪ মাসে বাংলাদেশ একটা টেস্টও না খেললেও, ইংল্যান্ড খেলে ফেলেছে ১৬টি। বাংলাদেশের এই দীর্ঘ বিরতিকে বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখছেন ইংলিশ দলপতি কুক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই দীর্ঘবিরতির সুফল পাবো আমরা।

তবে সেইদিন হাথুরুসিংহে নিজেই বললেন, সত্যি কথা বলতে কী আমরা এখনো আমাদের টেস্ট কম্বিনেশন ঠিক করতে পারিনি। তিনি যেটা বলেননি সেটা হলো, কম্বিনেশনের এই ঝামেলায় সবচেয়ে ভীতিকর নাম বোলিং অপশন। মুস্তাফিজ ইনজুরিতে বেশ কিছুদিন থেকে, মাশরাফি টেস্ট খেলেন না, তাসকিনও এখনো টেস্ট খেলার মতো ফিট নন, রুবেল প্রথম ওয়ানডের পর আলোচনার বাইরে, শহীদের ইনজুরি, আল-আমিনও প্রথম টেস্টে বিবেচনায় নেই, আব্দুর রাজ্জাক অপছন্দে’র তালিকায়, জুবায়েরের অবস্থাও রাজ্জাকের মতো, মোশাররফ রুবেলের কথা বলার প্রয়োজন নেই। তাহলে হাত ঘোরাবেন কে ? সবেধন নীলমণি সাকিব। সঙ্গে তরুণ মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল, শুভাগত হোম, শফিউল, রাব্বি-কখনো রিয়াদ। এই বোলিং অপশন নিয়ে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেয়া সম্ভব নয়, সেটা হলফ করে বলা যায়।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রথম টেস্টে স্পিন সহায়ক উইকেটই হচ্ছে। এই পরিকল্পনার ছায়াতলে সাকিব, মিরাজ আর তাইজুলকে নিয়ে আশায় বুক বাঁধছেন সংশ্লিষ্টরা। বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে, সাকিব সেটা টের পেয়েছেন ওয়ানডে থেকে। অভিষেকে মিরাজকেও গুরুদায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। তাইজুল ইসলাম টেস্ট ক্যারিয়ার দারুণ শুরু করলেও শেষদিকে এসে কিছুটা তাল হারিয়েছেন। প্রথম ৯ টেস্টে এই অফস্পিনার নিয়েছিলেন ৩৬ উইকেট। সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০১৫ সালের জুলাইয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। সম্প্রতি বোলিং একশনের পরীক্ষা দিয়ে শুদ্ধ হয়েছেন। একে তো দীর্ঘদিন পর টেস্ট খেলবেন, তার ওপর আবার নতুন একশন। তাইজুলের চিন্তা হওয়াটাই স্বাভাবিক। ইংল্যান্ড দল নিয়ে চিন্তাভাবনা পরে আগে নিজেদের ঘর গোছাতে হবে। সেটা করতে গিয়েই বেকায়দায় রয়েছে টাইগার শিবির। তবে ব্যাটিং বিভাগ আছে সেরা পছন্দে, এখন টিম ম্যানেজম্যান্ট শুধু ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে গবেষণা না করলেই হলো।

bangladesh-english-test-cপরিসংখ্যানে বাংলাদেশের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে অ্যালিস্টার কুকরা। এ পর্যন্ত দুই দল দুই ম্যাচ করে মোট চারটি সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে। দু’টি ইংল্যান্ডে আর দু’টি হোম ভেন্যুতে। আটটি ম্যাচেই হেরেছে টাইগাররা। সবশেষ ২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে খালি হাতে ফেরে তারা। সে যাই হোক, সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশ দল এখন বেশ পরিণত। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ওয়ানডে সিরিজের পর টেস্টেও কঠিন লড়াইয়ের প্রত্যাশা বাংলাদেশের অগণিত ক্রিকেটপ্রেমীর।

বাংলাদেশ প্রথম টেস্টের দলে রয়েছেন, অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, কামরুল ইসলাম রাব্বি, মাহমুদ উল্লাহ, মেহেদি হাসান মিরাজ, মুমিনুল হক, নুরুল হাসান সোহান, সাব্বির রহমান, শফিউল ইসলাম, সাকিব আল হাসান, শুভাগত হোম চৌধুরী, সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম।

ইংল্যান্ড দলে আছেন, অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক, মঈন আলি, জাফর আনসারি, জনি বেয়ারস্টো, জেক বল, গ্যারি ব্যালান্স, গ্যারেথ ব্যাটি, স্টুয়ার্ট ব্রড, জস বাটলার, বেন ডাকেট, স্টিভেন ফিন, হাসিব হামিদ, আদিল রশিদ, জো রুট, বেন স্টোকস, ক্রিস ওকস।

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্ট পরিসংখ্যান। মোট : ৮, ইংল্যান্ডের জয় : ৮

৮ টেস্টের ফলাফল :

২০০৩ – ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী। ঢাকা।

২০০৩ – ইংল্যান্ড ৩২৯ রানে জয়ী। চট্টগ্রাম।

২০০৫ – ইংল্যান্ড ইনিংস ও ২৬১ রানে জয়ী। লর্ডস।

২০০৫ – ইংল্যান্ড ইনিংস ও ২৭ রানে জয়ী। চেস্টার-লি-স্ট্রিট।

২০১০ – ইংল্যান্ড ১৮১ রানে জয়ী। চট্টগ্রাম।

২০১০ – ইংল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী। ঢাকা।

২০১০ – ইংল্যান্ড ইনিংস ও ৮০ রানে জয়ী। ম্যানচেস্টার।

২০১০ – ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী। লর্ডস।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY