ককসবাজারে ৪ চীনা নাগরিককে হাইওয়ে পুলিশের নাজেহাল

জামাল জাহেদ ককসবাজারঃ কক্সবাজারের রামু তুলাবাগান হাইওয়ে পুুলিশ ফাঁড়ির এস.আই সাইফুলের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হয়েছেন চট্টগ্রাম ইপিজেডস্থ চীনা কোম্পানি সানসাইন’র এক উর্ধতন কর্মকর্তা। গতকাল (সোমবার) সকাল ১১ টায় কক্সবাজার লিংকরোড বাসস্টেশনে এই ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে প্রাইভেট কারে করে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা চার চীনা নাগরিককে সিটবেল্ট না বাঁধার অজুহাতে বিতর্কিত হাইওয়ে পুলিশের এস.আই সাইফুল এই কা-টি ঘটিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে কথা বলে ও ঘটনাস্থল ঘুরে জানা যায়, চট্টগ্রাম ইপিজেডস্থ সানসাইন গ্রুপের ৪ চীনা নাগরিক গতকাল (সোমবার) চট্টমেট্রো-গ-১২-২৫১৭ প্রাইভেট কারে করে কক্সবাজার বেড়াতে আসেন। পথিমধ্যে সকাল ১১টায় প্রাইভেট কারটি লিংকরোড বাস স্টেশনে পৌঁছলে আগ থেকে অবস্থান নেয়া রামু তুলাবাগান হাইওয়ে পুলিশের এস.আই সাইফুলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কারটিকে চ্যালেঞ্জ করে। এসময় প্রাইভেট কারের ড্রাইভার কামাল যাবতীয় কাগজপত্র দেখালেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি এস.আই সাইফুল। চার চীনা নাগরিক ও ড্রাইভার কেন সিটবেল্ট পরেননি এই অজুহাত তুলে তাদেরকে গাড়ি থেকে নামাতে বাধ্য করেন। সাথে সাথে গাড়িটির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেন এবং গাড়িটি আটক করেন। ঘটনায় হতবিহ্বল চীনা নাগরিক হাতজোড় করে এস.আই সাইফুলের কাছে ক্ষমা চাইলেও তিনি ইংরেজিতে উল্টো তাদেরকে আইনের মারপ্যাচের কথা শুনান। এরপর চার চীনা নাগরিক অন্য টেক্সিতে করে শহরে ঢুকতে চাইলেও খারাপ আচরণ করে এস.আই সাইফুল তাদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন এবং সাময়িক জিম্মি করে রাখেন। এসময় চীনা নাগরিকরা বিষয়টি উর্ধতন মহলকে জানানোর কথা বললে এস.আই সাইফুল পুলিশের আইজিও তাকে কিছু করতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। প্রায় আধঘণ্টা ধস্তাধস্তির পর প্রাইভেট কারসহ চীনা নাগরিকদের ছেড়ে দেন এই এস.আই।

জানা যায়, রামুর তুলাবাগান হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পটি হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নে ন্যস্ত। যার কারণে ধরাকে সরাজ্ঞান করে প্রত্যহ ব্যস্ততম লিংকরোড বাস স্টেশনে অবস্থান নিয়ে সকাল বিকাল প্রকাশ্যে চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত রয়েছে হাইওয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্তারা।

এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জেলা কক্সবাজার জেলা শ্রমিকলীগ নেতা আনোয়ার জানান, এস.আই সাইফুল চীনা নাগরিকদের সাথে যে আচরণ করেছেন তা গর্হিত অপরাধ। যেখানে চীনের সাথে বাংলাদেশের রেকর্ড অর্থনৈতিক চুক্তির স্বাক্ষর হয়েছে, চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেখানে পুলিশের এই অসাধু কর্মকর্তার বেপরোয়া কান্ডে বাংলাদেশের ব্যাপারে বহির্বিশ্বে নেতিবাচক ধারণা জন্মাবে।

এ বিষয়ে রামু তুলাবাগান হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল কালাম জানান, সকাল ১১ টায় এস.আই সাইফুলের ডিউটি ছিল ঠিক আছে। কিন্ত চীনা নাগরিককে লাঞ্চিত করার মতো ঘটনা ঘটেনি। সিটবেল্ট না বাধার কারণে তাদের সাথে কথা হয়েছে। ড্রাইভার সিটবেল্ট না বাঁধায় ভুল স্বীকারও করেছেন। তবে এস.আই সাইফুল বুঝতে পারেনি তারা চীনা নাগরিক।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY