কলেজছাত্রী খাদিজার মুখে খাবার গ্রহণ শুরু

অনলাইন ডেস্ক: শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতার চাপাতির আঘাতে গুরুতর আহত সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি মুখে খাবার গ্রহণ শুরু করেছেন।

মঙ্গলবার সকালে তাকে খাওয়ার জন্য পুডিং দেয়া হয়। খাদিজার পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন খাদিজাকে হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট নগরীর শাহপরান থানার এসআই হারুনুর রশীদ।

তিনি বলেন, মামলা সংক্রান্ত কাজে খাদিজার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তার বাবা জানিয়েছেন খাদিজার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি পরিবারের সদস্যদের চিনতে পারছেন। সকালে তাকে খাবার হিসেবে পুডিং দেয়া হয় বলেও জানান এই কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, শিগগিরই এ মামলার চার্জশিট দেয়া হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, খাদিজার শারীরিক অনুভূতি ফিরে আসছে। তবে এখনও তার বাম-পা ও হাত কাজ করছে না। একইসঙ্গে তার শরীরের বিভিন্ন অংশের ব্যথার অনুভূতি ফিরে এসেছে। এদিকে সোমবার দুপুরে খাদিজার ডান হাতের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। অপারেশনের পর তাকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়।

উল্লেখ্য, ৩ অক্টোবর বিকালে সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর হামলা চালায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল আলম।

এ সময় সে চাপাতি দিয়ে খাদিজার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপাতে থাকে। এতে খাদিজা মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাত পান। পরে খাদিজার সহপাঠী ও স্থানীয়রা ধাওয়া করে বদরুলকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।

একই সঙ্গে স্থানীয়রা খাদিজাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার ভোরে খাদিজাকে রাজধানী ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

ওই ঘটনায় বদরুলকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া খাদিজাকে কোপানোর কথা স্বীকার করে গত বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বদরুল।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY