কাশ্মীরের ঘরে ঘরে যৌথ তল্লাশি, ছররা গুলিবিদ্ধদের ধরা হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক: ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ঘরে ঘরে যৌথ তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী। তারা ছররা গুলিবিদ্ধ অল্প বয়স্ক কাশ্মীরিদের বাছাই করে গ্রেফতার করছে।

বুধবার এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি বাংলা।সোমবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে শুধু বারমুলা এলাকাতেই ৭০০ বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এ সময় গ্রেফতার করা করা হয়েছে ৪৪ জনকে।

গভীর রাতে এ অপারেশন শুরুর আগে কয়েকটি এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষকে বাড়ির ভেতরে ঢুকে যেতে বলে নিরাপত্তাবাহিনী।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর বরাতে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, অভিযানকালে চীন ও পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা, লস্কর-এ-তৈয়বা এবং জায়েশ-ই-মুহম্মদের মতো সশস্ত্র সংগঠনের বই এবং পেট্রোল বোমাও উদ্ধার করা হয়েছে।

একজন ভারতীয় সেনা মুখপাত্র বলেছেন, ওই অভিযান চলাকালে অন্তত ৭০০ বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৪ জনকে। এদের সঙ্গে জঙ্গি কার্যকলাপের যোগ আছে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশবিরোধী প্রচার পুস্তিকা আর বেআইনী মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

শ্রীনগর থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, প্রতিটি বাড়িতে ঢুকে তল্লাশির সময়ে এটা দেখা হচ্ছিল যে কোন কোন অল্পবয়সী ছেলেদের গায়ে ছররার আঘাত রয়েছে। দেহে ছররার আঘাত থাকার অর্থই হলো ওই ব্যক্তি সম্প্রতি বিক্ষোভ প্রদর্শনে গিয়েছিল।

তাই সন্দেহভাজন ‘অশান্তি সৃষ্টিকারীদের’ সঙ্গেই পেলেট বা ছররার আঘাত থাকা যুবকদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে।গত ৮ জুলাই হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানি ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে নিহত হন। এরপর গত একশ’ দিনেরও বেশি সময় ধরে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভ চলছে।

বিক্ষোভকালে ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনী ব্যাপকহারে ছররা ব্যবহার করেছে বিক্ষোভকারীদের দিকে।এখনও পর্যন্ত ৮০ জনেরও বেশি মানুষ গত একশো দিনে মারা গেছেন, ছররায় আহত হয়েছেন বহু বিক্ষোভকারী। অনেকের চোখও নষ্ট হয়ে গেছে।

এদিকে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ সেখানকার বিভিন্ন এলাকায় হানা দিয়ে ১২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন ধৃতদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অশান্তি সৃষ্টি করার অভিযোগ ছিল।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY