খাতভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়নের চিন্তা সরকারের: মুজিবুল হক চুন্নু

নিজস্ব প্রতিবেদক : সমস্যা নিয়ে আলোচনার সুযোগ বিস্তৃত করতে খাতভিত্তিক (সেক্টরাল) শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ দিতে চায় সরকার।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মিকাইল হেমনিটি উইনথারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এ জন্য ডেনিশ সরকারের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশে সেক্টরভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন আছে। আমাদের দেশে ফ্যাক্টরি টু ফ্যাক্টরি। এ জন্য অনেক সময় কাজের প্রবলেম হয়। সেক্টরের যদি ট্রেড ইউনিয়ন থাকে তবে সেক্টরের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ হয়। ডেনমার্কসহ ইউরোপের অনেক দেশে ট্রেড ইউনিয়ন সেক্টরভিত্তিক।’

মুজিবুল হক বলেন, ‘তাদের (ডেনমার্ক) সেক্টরাল ট্রেড ইউনিয়ন কী রকম এটার এক্সপেরিয়েন্স আর্নড (অভিজ্ঞতা নিতে) করার জন্য আমাদের সেক্রেটারি, জয়েন্ট সেক্রেটারিসহ কয়েকজনকে তারা দাওয়াত দিয়েছিলেন। তারা দেখে এসে একটি রিপোর্ট দিয়েছেন।’

‘ওইটাই তাদের বললাম, সেক্টরাল ট্রেড ইউনিয়ন করা যায় কি না এ জন্য তোমাদের হেল্প চাই। তারা বলেছেন আমাদের টেকনিক্যালি হেল্প করবেন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখন একটি ফ্যাক্টরিতে একটি ইউনিট (ট্রেড ইউনিয়ন) আছে। তারা শুধু ওই ইন্ডাস্ট্রির প্রবলেমের কথা বলছেন। কিন্তু ওই সেক্টরে তো ওভারঅল অনেক প্রবলেম আছে। কিন্তু সেক্টরভিত্তিক তো কেউ আলোচনা করার সুযোগ পাচ্ছে না। সেক্টরভিত্তিক যদি কিছু করা যায় আমার মনে হয় তা ভালো হবে।’

চুন্নু বলেন, ‘ডেনিশ সরকারের সঙ্গে আমাদের সোশ্যাল ডায়ালগের বিষয়ে একটি প্রকল্প আছে। সোশ্যাল ডায়ালগের বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছিল। আমাদের ট্রেড ইউনিয়ন জোরদার করার বিষয়ে তাদের টেকনিক্যাল সাপোর্ট আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাক্টরি পরিদর্শনে তাদের সিস্টেমটা কী তা জানলাম, আমাদের সিস্টেমটা তাদের বললাম। আমরা যদি অকুপেশন হেলথ অ্যান্ড সেফটি নিয়ে ট্রেনিং সেন্টার করতে চাই, ডেনমার্ক গভর্নমেন্ট আমাদের কি হেল্প করতে পারবে? তারা বলেছেন তারা টেকনিক্যালি হেল্প করতে পারবেন।’

‘ফ্যাক্টরি সেফটির জন্য আমরা যদি আরও কোনো উদ্যোগ নেই তারা আমাদের টেকনিক্যাল এবং অন্যান্য সহায়তা করতে রাজি আছে’ বলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী।

সরকারের উদ্যোগে তিন হাজার ৭০০-এর মতো কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু কারখানা রেড মার্ক করে বন্ধ করে দিয়েছি। অনেকগুলো সময় বেধে দিয়ে সংস্কারের জন্য বলেছি। আমাদের নির্দেশনায় সংস্কার কাজটা একটু স্লো হচ্ছে, তবে হচ্ছে। খুব বেশি দিন বোধ হয় আর লাগবে না।’

মুজিবুল হক বলেন, ‘একর্ড অ্যালায়েন্সের কাজটা একটু তাড়াতাড়ি হচ্ছে কারণ নির্দেশনা অনুযায়ী সংস্কার না করলে অর্ডার ক্যানসেল করে দিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের উপায় থাকে না, তারা দ্রুত করে।’

পোশাক কারখানার কাজের পরিবেশ উন্নয়নে ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের চলমান পরিদর্শন ও সংস্কারের দায়িত্ব ২০১৮ সাল থেকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নেবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY