গাজীপুর রাজনীতির ম্যারাডোনা জাহাঙ্গীরই সামনে মেয়র প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুর আওয়ামী লীগের রাজনীতির কাণ্ডারি এখন সেই জাহাঙ্গীর আলম। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় গণমানুষের কাছে প্রবল জনপ্রিয় অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীরের গলায় এখন ভালোবাসার বরমাল্য। চলছে উৎসব। খুশি সবাই। দলের ভিতরে বাইরে সব। ফুলে ফুলে তাকে অভিষিক্ত করছেন মানুষ। নেতা-কর্মীরা। বিগর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হয়ে তিনি চমকে দিয়েছিলেন। বিএনপি নেত্রীও চেয়েছিলেন তাকে প্রার্থী করে নিতে। আওয়ামী লীগের নেতারাও তাকে ভোটযুদ্ধ থেকে বিরত করতে পারেননি। ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে পথ হাঁটা জাহাঙ্গীরের আস্থার জায়গা একটাই। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা তাকে জাহাঙ্গীরকে ডেকে নিতে ভোট থেকে সরে যেতে বলেন। তিনি তার নেত্রীর কথা মেনে নেন। দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া জাহাঙ্গীর তখন সবার গণসমর্থনে দেশজুড়ে আলোচিত। রাজনীতিতে নন্দিত। জাহাঙ্গীর ভোট থেকে সরে দাঁড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। তবুও সমর্থকরা এতোটাই পাগল তারা তার চাপ সৃষ্টি করতে লাগলেন নানা বিক্ষোভে উত্তাল করা কর্মসূচি দিয়ে। কিন্তু জাহাঙ্গীর ভোট করেননি। সমর্থকদের নিয়ে দলের প্রার্থীকেই সমর্থন দেন। সামনে তিনি দলের মেয়র প্রার্থী।

image_1449_353128দলের নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মেনে নেওয়ার মিলেছে এবার। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে গাজীপুর রাজনীতির মাঠের ম্যারাডোনা খ্যাত এই জনপ্রিয় তরুণকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করেছেন।

আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভের জন্য দলীয় সভানেত্রী তাকে দিক নির্দেশনাও দিয়েছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও তার সাংগঠনিক সাফল্যে এবং ইমেজে খুশি। জাহাঙ্গীরও সর্বত্র দলের কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ-গণসংযোগ করে যাচ্ছেন।

২০০৯ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লড়েছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান পদে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়েছিলেন সাড়ে তিন লাখ ভোটের ব্যবধানে। সেই নির্বাচনের ফল দেখে অনেকেই চমকে উঠেছিলেন।

একসময়ের মাঠ কাঁপানো ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম ভাইস চেয়ারম্যান হয়েই মানুষের মনে নিজের জায়গাটি পোক্ত করে ফেলেন। নির্বাচিত হয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম থেকে ছাত্রলীগকে মুক্ত রাখতে গ্রহণ করেছিলেন নানা উদ্যোগ। সফলতাও পান। হয়ে ওঠেন মানুষের আস্থার প্রতীক।

এ ছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগে তহবিল থেকে রাস্তাঘাট মেরামত, মসজিদ মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুদান, সেবা ও আপদ-বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত বাড়তে থাকে তাঁর জনপ্রিয়তা। হয়ে ওঠেন সব বয়সী মানুষের নয়নমণি। জেলাজুড়ে পরিচিতি পান ‘ক্লিন ইমেজ’ নেতার খ্যাতি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ মানুষের আইডলে পরিণত হন তরুণ জাহাঙ্গীর আলম।

আওয়ামী লীগ নেতা ছিদ্দিকুর রহমান জানান, দলের বাইরেও সাধারণ মানুষের কাছে জাহাঙ্গীর আলম ব্যাপক জনপ্রিয়। সততা ও নিষ্ঠার মডেল তিনি। দুর্নীতিবাজ, নেশাগ্রস্ত, ভূমিদস্যুদের স্থান তাঁর কাছে নেই। তাঁর নেতৃত্বে মহানগর আওয়ামী লীগে নতুনত্বের জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ওয়ার্ড, থানা ও মহানগর কমিটি গঠন প্রক্রিয়াতেও চমক এনেছেন জাহাঙ্গীর আলম। প্রতিটি ওয়ার্ড, থানা ও মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থীদের কাছ থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিগত ও বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা ও পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচিতি উল্লেখ করে বায়োডাটা আহ্বান করে মহানগর আওয়ামী লীগ। শুরুতে জটিল মনে হলেও পরে এ পদ্ধতি সকল মহলে ব্যাপক সাড়া পায়। মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ নেতা নির্বাচনের এ পদ্ধতির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আওয়ামী লীগ নেতা এসএম মোকসেদ আলম জানান, মহানগর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সফলভাবে শেষ করেও চমক দেখিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে আয়োজিত কাউন্সিলটি ছিল স্মরণকালের সবচেয়ে বড়। তাঁর বড় অর্জন, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে দখলবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা বন্ধ করা। বেকার নেতাকর্মী সমর্থকদের কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করা।  ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি বরাবরের মতই সোচ্চার।

আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন মহি জানান, বঙ্গবন্ধুর প্রতি জাহাঙ্গীর আলমের ভালবাসা পাহাড় সমান। বঙ্গবন্ধুর প্রতি কোন অসম্মান সহ্য করতে পারেন না তিনি। ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে কর্মসূচি পালনের নামে চাঁদা ওঠানো একদম অপছন্দ তাঁর। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১৫ ও গত ২০১৬ সালের জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রতিবার মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড, এতিমখানা, মাদ্রাসা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি করে শতাধিক গরু বিতরণ করেন। এটি একটি বিরল উদ্যোগ।

জাহাঙ্গীর আলম জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলের নাম ভাঙিয়ে যাতে কেউ অন্যায় কাজ করতে না, পারে সে লক্ষ্যেই নেতাকর্মীদের গড়ে তোলা হচ্ছে। ত্যাগী হলেও চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, নেশাগ্রস্থ এবং ভূমিদস্যুদের কমিটিতে রাখা হবে না।

তিনি বলেন, ‘আমার নেত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা আমার ওপর যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন তা জীবনের বিনিময়ে অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো।’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY