ঝালকাঠিতে কিশোরী ধর্ষণের দায়ে ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি: ঝালকাঠিতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের দাযে হারুন হওলাদার (৪৪) নামে এক ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মো. বজলুর রহমান এ রায় ঘোষনা করেন। সাজাপ্রাপ্ত হারুন হাওলাদার ঝালকাঠি সদর উপজেলার গুয়াটন গ্রামের মৃত ইসমাইল মিয়ার ছেলে। আদালত একই সাথে হারুন হাওলাদারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারদ-ের আদেশ দেন। সাক্ষ্য প্রমানে দোষী প্রমানিত না হওয়ায় আদালত এ মামলায় খাদিজা বেগম ও ইমাম হোসেনকে খালাশ প্রদান করেন। খাদিজা বেগম সাজাপ্রাপ্ত হারুন হাওলাদারের স্ত্রী। মামলা সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার জাফসি গ্রামের কিশোরী কন্যাকে নিয়ে তার মা ২০০৮ সালের ১৯ আগস্ট ঝালকাঠি শহরে আসে। ঝালকাঠি থেকে ওই কিশোরীর মা সন্ধ্যার পর অসুস্থ এক আত্মীয়কে দেখতে বরিশাল শেরে-বাংলা- চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে যায় এবং মেয়েকে কাউখালীর বাড়ির উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয়। কিশোরী কন্যা ঝালকাঠির ছত্রকান্দা হয়ে কাউখালী রওয়ানা হয়। কিন্তু ছত্রকান্দায় কোন যানবাহন না পেয়ে পার্শ্ববর্তী শ্রীমন্তকাঠী গ্রামের মোহাব্বেল হাওলাদারের স্ত্রী সেলিনা বেগমের কাছে আশ্রয় নেয়। সেলিনা বেগম তার পূর্বপরিচিত পাশের বাড়ির হারুন হাওলাদারকে মেয়েটিকে কাউখালী গ্রামের বাড়িতে পৌছে দেয়ার অনুরোধ করে। কাউখালী যাওয়ার পথে রাত ১০ টার দিকে শ্রীমন্তকাঠী গ্রামের একটি পরিত্যাক্ত হিন্দু বাড়িতে নিয়ে হারুন হাওলাদার মেয়েটিকে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে। এ ব্যাপারে ঘটনার পরের দিন নির্যাতিত কিশোরীর মা ঝালকাঠি থানায় ৩ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ তদন্ত করে তিনজনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্য প্রমান গ্রহণ শেষে আজ হারুন হাওলাদারে উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY