বিএসএফের অমানুষিক নির্যাতনে বাংলাদেশী নিহত

যশোর প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের অমানুষিক নির্যাতনে হাফিজুর রহমান (১৮) নামে এক বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন।

এ সময় আব্দুল হাকিম (২৫) নামে এক কলেজছাত্র আহত হয়েছেন। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাফিজুর রহমান ঝিকরগাছা উপজেলার মুকুন্দপুরের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে। আর আব্দুল হাকিম একই গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে। তিনি নাভারণ ডিগ্রি কলেজের বিএ’র ছাত্র।

সোমবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। তবে পুটখালি বিজিবি ক্যাম্পসহ বিজিবির বিভিন্ন মহলে দিনভর যোগাযোগ করা হলেও তারা বিষয়টি স্বীকার করেনি। পরে মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হয়।

হতাহতদের স্বজনেরা জানান, হাফিজুর রহমান ও আব্দুল হাকিম গত শনিবার ভারতে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে সোমবার দিনগত রাতে বেনাপোলে পুটখালীর বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংরাইল সীমান্তের বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে।

এরপর রড দিয়ে তাদের বেদম মারপিট করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত করে বিএসএফ সদস্যরা।এতে হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলেই মারা যান। আর সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন আব্দুল হাকিম। তখন দু’জনই মারা গেছে ধারণা করে বাংলাদেশ সীমান্তে তাদের ফেলে রেখে যায় বিএসএফ।

পরে সোমবার সকালে স্থানীয়রা হাফিজুর রহমানকে মৃত ও আব্দুল হাকিমকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন এবং বাড়িতে খবর দেন।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এনাম উদ্দিন শিপন জানান, দু’জনকেই হাসপাতালে আনা হয়। এদের মধ্যে হাফিজুর রহমান আগেই মারা গেছেন। তবে আব্দুল হাকিমের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তিনি জানান, দু’জনের শরীরেই নির্যাতনের চিহ্ন স্পষ্ট। পরে পরিবারের সদস্যরা হাফিজুর রহমানের লাশ বাড়িতে নিয়ে যান।

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক এনকে আলম জানান, নির্যাতনের মাত্রা এতই বেশি যে, হাকিমের সমস্ত শরীর ক্ষতবিক্ষত ও ফুলে গেছে। তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় সোমবার রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আহত হাকিমের পিতা নুর ইসলাম জানান, ঢাকায় চাকরি করতে যাচ্ছি এ কথা বলে হাকিম শনিবার বাড়ি থেকে বের হন। হাফিজুর রহমান খারাপ প্রকৃতির ছেলে। তার মা মঞ্জুয়ারা মুম্বাই থাকেন। তিনি জানান, হাফিজুর রহমান ঢাকায় যাওয়ার অজুহাতে কৌশলে ফুসলিয়ে আমার ছেলেকে ভারতে নিয়ে গেছে।

নিহত হাফিজুরের স্বজনেরা জানিয়েছেন, পুলিশি ঝামেলা এড়াতে বিষয়টি গোপন রেখে সোমবার সন্ধ্যায় লাশের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। ঝিকরগাছার হাজিরবাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টু জানান, পুটখালি সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতনে হাফিজুরের মৃত্যু এবং হাকিমের আহত হওয়ার কথা তিনি শুনেছেন।

ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই নজরুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়াই হাফিজুরের লাশ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।তিনি জানান, হাফিজুর রহমান ও তার মা ভারতে থাকেন। তবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন, তা জানাতে পারেননি এসআই নজরুল।

এ ব্যাপারে ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পুটখালি ক্যাম্প কমান্ডার আব্দুল জলিল বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার সীমান্তে ঘটেনি।’ তবে খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্নেল আরিফুর রহমান জানান, ‘এ ধরনের ঘটনা আমি শুনেছি।’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY