ব্যভিচারের শাস্তি কি?

এওয়ান ইসলাম ডেস্ক: ইসলাম বিয়ে বহির্ভূত যৌনাচার তথা ব্যভিচারকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করেছে। দয়াময় আল্লাহ সর্বোচ্চ কঠিন শাস্তি নির্ধারণ করেছেন ব্যভিচারীর জন্য। এর দ্বারাই বুঝা যায়, বিষয়টিকে ইসলাম কোন দৃষ্টিতে দেখে।

জৈবিক চাহিদা নিবারণের জন্য যদি বৈবাহিক ব্যবস্থার বাধ্যবাধকতা না থাকে তবে মানুষের বংশধারা হয়ে পড়বে শৃগাল, কুকুর ও বানরের মতো অরক্ষিত। মানুষের থাকবে না কোনো পিতৃপরিচয়। যা হবে মানব সভ্যতার এক চরম বিপর্যয় ও দুর্যোগ। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষকে এমন চরম বিপর্যয় ও অমর্যাদা থেকে রক্ষা করার একমাত্র উপায় হলো- জৈবিক চাহিদা নিবারণের জন্য বিয়েকে বাধ্যতামূলক করা এবং ব্যভিচারকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা।

যদিও হালের অনেক দেশেই ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ব্যক্তি অধিকারের নামে ব্যভিচারকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়। অথচ ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ব্যক্তি অধিকারকে বিশ্বের কোনো সমাজেই অনিয়ন্ত্রিতভাবে, লাগামহীনভাবে মেনে নেওয়া হয় না। যখনই ব্যক্তি স্বাধীনতার চর্চা অন্যের জন্য, সমাজের জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত হয়- তখনই পাল্টা আইন করে ব্যক্তি স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যেহেতু বিয়ে বহির্ভূত যৌনাচারের অবাধ সুযোগ মানুষের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পিতৃপরিচয়হীন করে দিয়ে সামাজিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে; সেহেতু ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে, ব্যক্তি অধিকারের নামে আর যাই হোক ব্যভিচারকে প্রশ্রয় দেওয়া যায় না।

এলোমেলো চিন্তা-ধারায় প্রভাবিত হয়ে কোনো কোনো মুসলমান অনেক সময়ই ভেবে থাকেন, আমি যদি জোর না করি; আমার সঙ্গী যদি নিজে থেকেই সম্মত থাকেন- তাহলে এতে অন্যায়ের কী আছে। আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা ও মালিক হিসেবে বিশ্বাস না করলে ভিন্ন কথা। কিন্তু একজন মুসলমান আল্লাহকে সবকিছুর মালিক বিশ্বাস করার পরে ব্যভিচারকে এভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন না।

কেননা, মহান আল্লাহ সৃষ্টি সূত্রে সবকিছুর একচ্ছত্র মালিক। মানুষ যে দেহ ব্যবহার করছে সে দেহের মালিকও আল্লাহ। মানুষ তার নিজের দেহের মালিক নয়। মহান আল্লাহ মানুষকে দেহ দিয়েছেন শুধুমাত্র সীমিত সময় ব্যবহার করার জন্য। তিনি মানুষের হাতে তার দেহের মালিকানা স্বত্ত্ব প্রদান করেননি। নির্দিষ্ট সীমার ভেতর তাকে ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছেন।

তাই তো ইসলামে আত্মহত্যা করা হারাম, কোনো অঙ্গ কেটে ফেলা হারাম, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো অঙ্গ অকেজো করা হারাম, নিজের দেহের বড় ধরণের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে এমন যে কোনো কিছুই হারাম। নিজের দেহকে ভোগ করতে হবে, ব্যবহার করতে হবে, কাজে লাগাতে হবে আল্লাহর দেওয়া সীমার ভেতরে থেকে। সীমালংঘন করে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই।

মানুষের জৈবিক চাহিদা নিবারণের জন্য আল্লাহর অনুমোদিত বৈধ উপায় হলো- বিয়ে। তাই বিয়ে বহির্ভূতভাবে নিজের ইচ্ছামতো যাকে তাকে দেহ বিলানোর সুযোগ নেই। দেহের মালিকানা একমাত্র আল্লাহর। আল্লাহতায়ালা যেখানে অনুমতি দিয়েছেন, কেবল সেখানেই দেহ অর্পণ করা যাবে; নিজের ইচ্ছামতো নয়।

মহান আল্লাহ মুসলমানদের পরিচয় দিতে যেয়ে সূরা মুমিনুনের ৫ ও ৬ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেছেন, ‘তারা স্ত্রী ছাড়া অন্যত্র লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে।’

তিনি আরও ইরশাদ করেছেন, ‘যারা মুসলমানদের মধ্যে ব্যভিচারকে ছড়িয়ে দিতে চায়- তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ -সূরা নুর: ১৯

যেহেতু আল্লাহর দৃষ্টিতে ব্যভিচার সর্বনিকৃষ্ট নৈতিক অন্যায় এবং সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ; সেহেতু আমাদের সতর্ক করতে যেয়ে তিনি বলেছেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকবর্তীও হবে না। কেননা, তা ঘৃণিত মন্দ কাজ।’ -সূরা ইসরা: ৩২

মহান আল্লাহ শুধু ব্যভিচারকেই হারাম করেননি বরং ব্যভিচার থেকে রক্ষার জন্য এর নিকটবর্তী হওয়াকেও হারাম করেছেন। ইসলামি স্কলার ও কোরআনের তাফসিরবিদদের মতে, ‘ব্যভিচারের নিকটবর্তী’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- এমন সব কর্মকাণ্ড যা ব্যভিচারকে সহজ করে দেয়, সমাজে ব্যভিচারের পথ খোলে দেয়, মানুষকে ব্যভিচারের জন্য প্ররোচিত করে, উদ্দীপ্ত করে।

তাই শুধু নিজে ব্যভিচার থেকে বাঁচার চেষ্টা করলে হবে না। সেইসঙ্গে আরও অধিক গুরুত্ব দিয়ে ব্যভিচারের সহায়ক, ব্যভিচারের উদ্দীপক, ব্যভিচারের প্ররোচক সব কিছু থেকে নিজেকে বাঁচতে হবে। সমাজকে বাঁচাতে হবে। আল্লাহ আমাদের তওফিক দান করুন। আমিন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY