শীঘ্রই আসছে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা যুবদলের কমিটি

নুরুল ইসলাম (সিলেট): দেশকে অবৈধ সরকারের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং দেশের মানুষের মাঝে শান্তি, স্বস্থি আর গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দেশের ২য় বৃহত্তম দল বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ত্যাগী, পরিশ্রমী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে কমিটি ঘোষণা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটি খুব শীঘ্রই প্রকাশ পাচ্ছে।

সেখানে সভাপতি পদ প্রত্যাশা করছেন সুনাহর আলী সুহেল। তিনি দীর্ঘ দিন যাবত দক্ষতার সহিত কাজ করছেন। বর্তমানে রাজধানীর সুতরাপুর থানা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক এবং সিলেটের রাজনীতিতে কাজ করছেন। ২০০৬ সালে দক্ষিণ সুরমা ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পরে তিনি যুক্তরাজ্য চলে যান। ৪/৫ বছর প্রবাসে থাকার পরে দেশে এসে যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন।

মইনুল ইসলাম মঞ্জু তিনিও সভাপতি হতে কাজ করছেন। ২০০৫ সালের শেষের দিকে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও দক্ষিণ সুরমা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কুহিনুর আহমদের হাত ধরে জাতীয়তাবাদী যুবদলে যোগদান করেন। আসার পরেই দক্ষিণ সুরমা (সিলেট-৩) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফি আহমদ চৌধুরীর মোগলাবাজারের ইফতার মাহফিলে আক্রমণ করে পন্ড করে দেন। বঙ্গবীর রোডে বাবনা এলাকায় সাবেক এমপি শফি চৌধুরীর গাড়ি ভাংচুর ঘটনায়ও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। ২০০৭ সালে সংসদ নির্বাচনে শফি চৌধুরী বিরুদ্ধে কাইয়ুম চৌধুরী যখন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন তখন মঞ্জু কাইয়ুম চৌধুরীর পক্ষে অবস্থান নেন এবং মননোয়ন জমা দেওয়ার দিন সিলেট ক্রীন বীজের উপরের সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়েন। বতর্মানে তিনি কাইয়ুম চৌধুরীর গ্রুপ ছেড়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ গ্রুপে যোগ দিয়েছেন। ইদানিং স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে তাহার বাবা মোগলাবাজার আওয়ামী লীগের সভাপতি চুনু মিয়া চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তিনি তাহার পিতার পক্ষে কাজ করেন। দলে আসার পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেননি। এভাবে নিজ স্বার্থে দলকে ব্যবহার করে আসছেন। নিজের স্বার্থে দল পরিবর্তন করে আসছেন। যিনি এরকম সকাল বিকাল নিজের স্বার্থ খোজেন এবং তার জন্য দলের যে কোন ধরণের অগঠন ঘটাতে পারেন তিনি কী ভাবে দলের সভাপতির সম্মান আশা করেন সচেতন মহলে এমন প্রশ্ন। তবে বিগত আন্দোলন সংগ্রামে দলের সর্বস্থরের নেতা কর্মীদের উপর মামলা হলেও তার উপর একটি পর্যন্ত মামলা আজ পর্যন্ত হয়নি।

আরেক সভাপতি প্রার্থী মকছুদুল করিম নুহেল তার রাজনীতির শুরু ছাত্রদলের সভাপতি কোহিনুর আহমদের কাছ থেকে। ২০০৭ সালে এমপি শফি চৌধুরীর গাড়ি বহরে হামলা করেন ক্রীন ব্রীজের উপর এবং ঐ নির্বাচনে এমপি পদে কাইয়ুম চৌধুরীর পক্ষে ফুটবল মার্কায় ভোট দেন এবং বিএনপির এজেন্টদের পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী দিয়ে হল থেকে বের করে দেন। তিনি কাইয়ুম চৌধুরী গ্র“প ছেড়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ গ্রুপে যোগদন করেছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে মাঠে দীর্ঘ দিন যাবত কাজ করছেন সামছুল ইসলাম টিটু। তার রাজনৈতিক জীবন তিনি ১৯৯৭ সালে দক্ষিণ সুরমা সিলাম আঞ্চলিক শাখা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি দক্ষিণ সুরমা ছাত্রদলের তথকালিন সভাপতি তাজুরুল ইসলাম তাজুল ও সাধারণ সম্পাদক কামাল হাসান জুয়েলের কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০২ সালে ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ভোটের মাধ্যমে র্নিবাচিত হন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী গুমের পর আন্দোলন আরো গতিশীল করতে ইলিয়াস মুক্তি যুব সংগ্রাম পরিষদের আহবায়কের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি প্রায় ৬বার কারাবরণ করেছেন এবং প্রায় ১৭/১৮টি মামলা নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন। সিলেট জেলা যুবদলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জেল-জুলুম, হামলা-মামলায় শিকার হন এই যুবদল নেতা।

সাধারণ সম্পাদক পদে দাউদপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক বাবরুল হোসেন বাবুল মাঠে কাজ করছেন। তিনি দীর্ঘ দিনযাবত জেলা যুবদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্তা রয়েছে।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে যুবদল নেতা আলী আহমদ, এ এম শামীম, শামীম আহমদ নাজির, মোস্তাক আহমদ। উপজেলার উর্ধ্বতন নেতাকর্মীর আশ্বাস কমিটি ঘোষনার পূর্বে বিগত দিনে দলের জন্য যারা নিবেদিত প্রাণ ছিলেন এবং ত্যাগী, পরিশ্রমী কর্মঠ ও নির্র্যাতিত নেতাদের নিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY