হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক: হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট হানোস আদেরের সঙ্গে বৈঠকে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তা বিনিময়ে জোর দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুদাপেস্টে আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলনে বক্তব‌্য রাখার পর সোমবার বিকালে স্যান্ডার প্যালেসে হাঙ্গেরির রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। সম্মেরনে বক্তব‌্যেও প্রধানমন্ত্রী পানির প্রাপ‌্যতা নিশ্চিত করতে সাত দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। সম্মেলনে আলোচনায় পানি ব‌্যবস্থাপনায় সহায়তা বিনিময়ের বিষয়টিও স্থান পায়।

বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তার ধরনের বিষয়ে জানতে চান ইউরোপের দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ কী করছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশ কীভাবে মোকাবেলা করছে, তা জানতে চান আদেরে।

বিভিন্ন গবেষণা ও সমীক্ষার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি দুই থেকে আড়াই মিটার বৃদ্ধি পেলে দুই থেকে আড়াই কোটি নাগরিকের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটবে। জলবায়ু-দুর্গতদের জন‌্য নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

আদেরের সহায়তার করতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী ঋণ কিংবা আর্থিক সহায়তার চেয়ে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তা বিনিময়ে জোর দেন বলে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানান।

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা হল, আমাদের সমস্যা, আমাদের নিজেদেরকে সমাধান করতে হবে। এখান থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থা কে কতটুকু করবে, ওই আশায় বসে থাকলে হবে না। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী চিন্তা বিনিময়ে বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরির মধ্যে সহযোগিতার কথা বলেছেন, ঋণ বা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার থেকে।”

বাংলাদেশের বন্যা প্রবণ এলাকায় পানি শোধনের বিষয়ে নিজ দেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট।
শহীদুল হক বলেন, “পিসিকালচার এবং অ‌্যাকুয়া কালচার- এই দুইক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে হাঙ্গেরির রাষ্ট্রপতি প্রস্তাব দিয়েছেন।”

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বৃত্তির কথা হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার ঘোষণা করবেন বলে শেখ হাসিনাকে জানান জ্যানুস আদের।চিকিৎসা, প্রযুক্তি এবং কৃষিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হবে।প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ এবং তথ্য প্রযুক্তি শিল্পে সম্ভাবনার কথা হাঙ্গেরির রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা হাঙ্গেরির রাষ্ট্রপ্রধানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের প্রতিশ্রুতি দেন।

বৈঠকে শেখ হাসিনা ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পক্ষে সমাজতান্ত্রিক হাঙ্গেরির অবদানের কথা স্মরণ করেন। হাঙ্গেরি ইউরোপের প্রথম দেশ হিসাবে ১৯৭২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে হাঙ্গেরির দূতাবাস ছিল। সেসময় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিভিন্ন দ্বার উন্মোচিত হতে থাকলেও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর এই সম্পর্কে আর বেশি দূর এগোয়নি। অন‌্যদিকে হাঙ্গেরিতেও দুই যুগ আগে সমাজতন্ত্রের অবসান ঘটে।

শহীদুল হক বলেন, “দুই দেশের পুরনো সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরি অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছে। আগামীকাল দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক সই হবে। নতুন নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়টি ডকুমেন্টেড হবে।”

ওয়ার্ল্ড ওয়াটার সামিটের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ‘সাসটেনেইবল ওয়ার্ল্ড সলিউশনস এক্সপো’ পরিদর্শন করেন। এই প্রদর্শনীতে যে নতুন উদ্ভাবনী কৌশলের উন্নয়ন হচ্ছে, সেগুলো প্রধানমন্ত্রী দেখেন। একই সাথে পানি শোধনের ক্ষেত্রে নতুন যে প্রযুক্তি আসতে যাচ্ছে, তাও দেখেন তিনি।

পরে মরিশাসের প্রেসিডেন্ট আমিনাহ্ গারিব-ফাকিমের অনুরোধে তার সঙ্গে শেখ হাসিনার পানি সম্মেলন কেন্দ্রে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক।

বৈঠকে ফাকিম তার দেশের বিভিন্ন শিল্পে বাংলাদেশি কর্মীদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জানান। এছাড়াও দু’দেশে দু’দেশের বিনিয়োগ কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে দুজনে আলোচনা করেন। শহীদুল হক বলেন, মরিশাসের তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের বেশ কিছু কর্মী ভালোভাবে কাজ করছেন। আমরা তুলনা করে দেখেছি, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশী কর্মীরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন।

রাতে প্রধানমন্ত্রী তার সৌজন্যে হাঙ্গেরির রাষ্ট্রপতির দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেন। মঙ্গলবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সফরের তৃতীয় ও শেষ দিন বুধবার ‘হাঙ্গেরি-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY