১৩ নারীকে যৌন হয়রানি ও মেয়েকে নিয়ে মন্তব্যে পিছিয়ে পড়ছে ট্রাম্প

হিরে আর সোনায় মোড়া বিলাসবহুল পেন্টহাউস ও ৩৭০ কোটি ডলার সম্পত্তির মালিক রিপাবলিকান প্রার্থী

ট্রাম্পের বিলাসবহুল পেন্টহাউস

এ ওয়ান অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচনের আর এক মাসও বাকি নেই। কিন্তু একের পর এক অভিযোগের তিরে প্রতি দিনই নতুন করে বিদ্ধ হচ্ছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিশেষ করে নারীঘটিত কেলেংকারিতেই বেশি ফাঁসছেন তিনি। প্রতিদিনই কোনো না কোনো নারী তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিপক্ষ হিলারি ক্লিন্টনের থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে ক্রমশই পিছিয়ে পড়ছেন ট্রাম্প।

বিতর্ক তৈরিতে যেমন শিরোনামে, তেমনই সম্পদ আর ঐশ্বর্যেও দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় প্রথম সারিতে নাম রয়েছে ট্রাম্পের। হিরে আর সোনায় মোড়া ট্রাম্পের বিলাসবহুল পেন্টহাউস তার বিশাল সম্পদেরই একটি অংশ।

1ফোর্বসের সমীক্ষা অনুযায়ী- ৩৭০ কোটি ডলার সম্পত্তির মালিক ট্রাম্প। কিন্তু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের দাবি এর থেকেও বেশি সম্পত্তি রয়েছে তার। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে রয়েছে ট্রাম্পের এই বিলাসবহুল পেন্টহাউস।

৬৬ তলা এই পেন্টহাউসের নাম ‘ট্রাম্প টাওয়ার’। ট্রাম্প টাওয়ারেই স্ত্রী মেলানিয়া এবং ১০ বছরের ছেলের সঙ্গে থাকেন ট্রাম্প। পেন্টহাউসের মার্বেলগুলোতে ২৪ ক্যারেট সোনা বসানো রয়েছে। বর্তমানে এই টাওয়ারটির বাজার দর প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার। তবে এই পেন্টহাউস ছাড়াও আরও অনেক ভিলা এবং বাংলোর মালিক ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শুধু সোনার মার্বেলই নয়, এই বাড়ির প্রধান দরজাটিতে সোনা এবং হিরে বসানো রয়েছে।5

১৩ নারীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের তালিকা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন নতুন যৌন হয়রানির অভিযোগ সামনে আসছে। এ পর্যন্ত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন কমপক্ষে ১৩ জন নারী। ট্রাম্প অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে ‘নোংরা রাজনীতির শিকার’ বলে দাবি করেছেন। হাফিংটন পোস্ট ও বিবিসি।

ক্যাথি হেলারের বয়স এখন ৬৩ বছর। তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৯৭ সালের দিকে তিনি স্বামী, সন্তান ও পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ট্রাম্পের মালিকানাধীন মার-আ-ল্যাগো এস্টেট-এ বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে ট্রাম্প তাকে জড়িয়ে ধরেন। সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ট্রাম্প জোর করে মুখের পাশে চুমু দিয়েছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও তার কোনো ফল পাওয়া যায়নি বলে ক্যাথি দাবি করেন। তবে এর বিপরীতে ট্রাম্পের কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।

17লস অ্যাঞ্জেলেসের মানবাধিকার আইনজীবী গ্লোরিয়া অ্যালারড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সামার জারভস নামে এক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে জারভস বলেন, মার্কিন টেলিভিশনে ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ নামে একটি রিয়ালিটি শো চালাতেন ট্রাম্প। ওই অনুষ্ঠানে পঞ্চম সেশনের প্রতিযোগী সামার জারভস বলেন, ‘চাকরির সুযোগ দেয়ার কথা বলে ট্রাম্প আমাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন। ২০০৭ সালে বেভারলি হোটেলের একটি বাংলোতে আমি ট্রাম্পের সঙ্গে সাাৎ করতে যাই। যেখানে তিনি আমার অনুমতি ছাড়াই জোর করে ঠোঁটে চুমু খান।’

18জারভস আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘ট্রাম্প পাশের সোফায় বসতে বলে আমার ঘাড় জড়িয়ে ধরে আরো জোরালোভাবে চুম্বন করতে থাকেন এবং তার হাত আমার স্তনের ওপর রাখেন। বাধা দেয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প আমাকে জোর করে তার শয়নকে নেয়ার চেষ্টা করেন এবং আমার যৌনাঙ্গ স্পর্শ করেন।’ তিনি তখন সেখান থেকে চলে আসেন বলে জানান।

সামার জারভস এবং ক্রিস্টিন অ্যান্ডারসনের অভিযোগ

ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাাৎকারে ক্রিস্টিন অ্যান্ডারসন দাবি করেন, ১৯৯০-এর দশকের প্রথম দিকে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ম্যানহাটনের একটি নাইটকাবে গিয়েছিলেন। তিনি একটি সোফায় বসেছিলেন। ক্রিস্টিনের দাবি, হঠাৎ করেই তিনি বুঝতে পারেন যে, ট্রাম্প তার স্কার্টের নিচ দিয়ে যৌনাঙ্গ স্পর্শ করেন। এই ঘটনায় তিনি এবং তার বন্ধুরা খুবই কষ্ট পান।

ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির থেকে সামার জারভস এবং ক্রিস্টিন অ্যান্ডারসনের অভিযোগকে ‘ভয়ঙ্কর মিথ্যা’ বলে প্রতিক্রিয়া16 জানানো হয়েছে। ট্রাম্পের মুখপাত্র হোপ হিকস ওয়াশিংটন পোস্টকে এক ইমেইল বার্তায় জানিয়েছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব মিথ্যা অভিযোগ খুব দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই বিনামূল্যে প্রচারণায় পেতে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের কুৎসা ছড়াচ্ছে।’

নিউ ইয়র্ক টাইমসের কাছে ৩০ বছরেরও পুরনো একটি যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরেন জেসিকা লিডস। জেসিকার দাবি, ১৯৮০-র দশকের গোড়ার দিকে তিনি একটি ফাইটে করে নিউ ইয়র্কে যাচ্ছিলেন। তার পাশের সিটেই বসা ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একপর্যায়ে ট্রাম্প ‘আর্মরেস্ট’ বা হাত রাখার হ্যান্ডেলটা উঠিয়ে রাখেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরেন। জেসিকার অভিযোগ, ট্রাম্প তাকে অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে ছিল। ‘তার হাত আমার পুরো শরীর স্পর্শ করছিল।’4

ট্রাম্প এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার এক আইনজীবী দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশনা বন্ধেরও হুমকি দিয়েছেন।

র‌্যাচেল ক্রুকসের অভিযোগ, ২০০৫ সালে তিনি ম্যানহাটনে ট্রাম্প টাওয়ারে অবস্থিত বে’রক গ্রুপের একজন রিসিপশনিস্ট ছিলেন। তখন তার বয়স ছিল ২২ বছর। একদিন লিফটের ভেতর ট্রাম্পের সঙ্গে তার দেখা হয়ে যায়। তিনি জানতেন তার কোম্পানি ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যবসা করে। তাই তিনি নিজেই ট্রাম্পের কাছে পরিচয় দেন। তারা হ্যান্ডশেক করেন। কিন্তু ট্রাম্প সেখানেই থেমে গেলেন না। র‌্যাচেল ক্রুকসের দাবি ট্রাম্প তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু দিতে শুরু করলেন। ট্রাম্প এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

৩৬ বছর বয়সী মিন্ডি ম্যাকগিলিভরে পাম বিচ পোস্ট পত্রিকার কাছে অভিযোগ করেন, ২০০৩ সালে তিনি যখন ট্রাম্পের মার-আ-ল্যাগো এস্টেটে অনুষ্ঠিত একটি কনসার্টে যোগ দিতে সেখানে যান, তখন তিনি যৌন হয়রানির শিকার হন। এক বন্ধুকে ফটোগ্রাফিতে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। মিন্ডির অভিযোগ, ‘হঠাৎ করেই মনে হলো কেউ আমাকে জড়িয়ে ধরেছে। ফিরে দেখি সেখানে ট্রাম্প দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি সেখান থেকে দ্রুত সরে আসি।’13

ট্রাম্প এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, তার আইনজীবী ওই পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে।

নাতাশা স্টয়নফ নামে এক নারী সাংবাদিকের দাবি, ২০০৫ সালে ট্রাম্প ও মেলানিয়ার বিবাহবার্ষিকী উপলে একটা নিবন্ধ লেখার উদ্দেশ্যে তিনি ট্রাম্প-মেলানিয়ার সাাৎকার নিতে যান পাম বিচের বাড়িতে, সেখানেই যৌন হয়রানির শিকার হন তিনি। নাতাশার অভিযোগ, ট্রাম্প সাাৎকার দেয়ার সময় রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে তাকে দেয়ালের সঙ্গে ঠেসে ধরে চুমু দিতে শুরু করেন। তখন ট্রাম্পের এক সহযোগী সেখানে চলে আসায় ট্রাম্প তাকে ছেড়ে দেন বলেও নাতাশা উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প এই অভিযোগ অস্বীকার করে নাতাশাকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার স্ত্রী মেলানিয়ার দাবি, নাতাশার এসব লেখা মিথ্যা এবং একেবারেই কল্পনাপ্রসূত।

14
‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ নামে একটি রিয়ালিটি শোর চতুর্থ সেশনের প্রতিযোগী জেনিফার মারফি দাবি করেন, চাকরির সুযোগ দেয়ার কথা বলে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৫ সালে ট্রাম্পের সঙ্গে সাাৎ করতে গেলে তিনি জেনিফারকে চুমু দিতে শুরু করেন। এ সম্পর্কে এখনও ট্রাম্প কোনো মন্তব্য করেননি।

১৯৯৭ সালে মিস ইউএসএ সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজক ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন মিস উতাহ হয়েছিলেন টেম্পল তাগার্ট ম্যাকডোয়েল। তখন তার বয়স ছিল ২১ বছর। সে সময় একাধিকবার তার ঠোঁটে জোর করে চুমু খেয়েছেন বলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের বিপরীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসির কাছে দাবি করেছেন, তিনি এমন কিছু করেননি।

মিস ইউনিভার্সসহ কয়েকটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার অন্যতম আয়োজক ট্রাম্প সুন্দরী নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের আকাঙ্খাও জানিয়েছিলেন।

15২০১৩ সালের মিস ওয়াশিংটন ক্যাসান্ড্রা সারলেস ফেসবুকে তার সহপ্রতিযোগীদের একটি ছবি পোস্ট দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ট্রাম্পের দিকে ইঙ্গিত করে লিখেছেন, ‘তোমাদের কি মনে আছে, একসময় স্টেজে আমাদের নির্দেশ শুনে কাজ করতে হতো, কিন্তু সেই লোক আমাদের গরু-ছাগলের মতো খাটাতো? তোমাদের কি মনে আছে, ওই লোক আমাদের লাইনে দাঁড় করিয়ে নিজের সম্পত্তির মতো আমাদের দেখতো?’

এই পোস্টে ক্যাসান্ড্রা আরো মন্তব্য করেন, ‘ওই লোক আমাকে তার কাছে টানার জন্য তার হোটেলের রুমে আমন্ত্রণ জানাতো।’

চলতি বছরের জুনে ‘জেন ডো’ নামে ক্যালিফোর্নিয়ার এক নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। ১৯৯৪ সালে জেনের যখন ১৩ বছর বয়স, তখন ট্রাম্প তাকে ধর্ষণ করেন। ওই মামলার শুনানির বিষয়ে ডিসেম্বরে আলোচনার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ট্রাম্প এই অভিযোগের নিন্দা জানিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাঘাত ঘটাতেই এমনটা করা হয়েছে।

8৩৪ বছরের জিল হার্থ অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে আমেরিকান ড্রিম ক্যালেন্ডার গার্লস নামে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন। তবে ১৯৯৩ সালের ওই ঘটনার পর ১৯৯৭ সালে ট্রাম্প ‘অনুমতি’ ছাড়াই তাকে স্পর্শ করেছিলেন বলে হার্থ যৌন হয়রানির মামলা করেন। ট্রাম্প এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, হার্থ তাকে ধোঁকা দিয়েছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম স্ত্রী ইভানা ট্রাম্প ১৯৯২ সালে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করে বলেন, তার তখনকার স্বামী ট্রাম্প তার সঙ্গে জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুসারে, স্ত্রীর সঙ্গে জোর করে যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ হিসেবেই দেখা হয়। এই তথ্য প্রথম সামনে আসে ১৯৯৩ সালে, ট্রাম্পের জীবনী ‘লস্ট টাইকুন : দ্য ম্যানি লাইভস অব ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প’-এ। পরে অবশ্য ইভানা তার অভিযোগ থেকে সরে আসেন।

তিনি বলেন, ট্রাম্পের মধ্যে যে ভালোবাসা ও আবেগ তিনি দেখতে পেতেন, সেই রাতে তা অনুপস্থিত ছিল। ট্রাম্প ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘এমন কিছুই ঘটেনি।’

3নিজের মেয়েকে যৌন আবেদনময়ী মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প!

আমেরিকার গণমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু পুরনো রেকর্ডিং প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, বিভিন্ন সময় দেয়া সাক্ষাৎকারে অন্য নারীদের পাশাপাশি মেয়ে ইভাঙ্কাকে নিয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ রিপাবলিকান প্রার্থী বেফাঁস মন্তব্য করেছেন।

রেডিও ব্যক্তিত্ব হাওয়ার্ড স্টার্নকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে দেয়া সাক্ষাৎকারগুলোর অডিও বিশ্লেষণ করার পর এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, সেখানে ট্রাম্প বারবার তার মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের দেহ নিয়ে সরস মন্তব্য করেছেন। এছাড়াও প্রকাশিত ভিডিওর মতো সাধারণভাবেই নারীদের নিয়ে অশ্লীল কথাবার্তা বলেছেন তিনি।

10ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতে এক অনুষ্ঠানে হাওয়ার্ড স্টার্ন ট্রাম্পের মেয়ে সম্পর্কে বলেন, ‘ইভাঙ্কা ট্রাম্প ইজ এ পিস অব অ্যাসস’। ট্রাম্প উত্তরে বলেন, ‘ইয়েস’। ২০০৬ সালের অক্টোবরে এক সাক্ষাৎকারে হাওয়ার্ড স্টার্নকে ট্রাম্প বলেন, ইভাঙ্কা সব সময়ই খুবই যৌন আবেদনময়ী। সে প্রায় ৬ ফুট লম্বা এবং একজন অসাধারণ সুন্দরী।

এর দু’বছর পর আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্টার্নকে ইভাঙ্কা সম্পর্কে অশ্লীল ভাষায় প্রশংসা করারও অনুমতি দেন। এছাড়া নারীর বয়সভিত্তিক বৈশিষ্ট্য নিয়েও আলোচনা ছিল সাক্ষাৎকারগুলোর বিভিন্ন অংশে।

নারী নিয়ে ট্রাম্পের বেফাঁস মন্তব্য

‘তারকা হলে পুরুষ নারীদের নিয়ে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে’—এমন মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের। শুধু তা-ই নয়, ২০০৫ সালের একটি ভিডিও টেপে তিনি সগর্বে এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টার বর্ণনা দিয়েছেন। সুন্দরী নারী দেখলেই তিনি চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন বলেও জানিয়েছেন।

নারী নিয়ে ট্রাম্পের এমন বেফাঁস মন্তব্য ফাঁস হয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার ওয়াশিংটনে পোস্টে প্রচার করা হয়েছে ওই ভিডিও। এমন মন্তব্যের জন্য খোদ রিপাবলিকান পার্টিতেই কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা তাঁকে নিয়ে বিব্রত ও লজ্জিত।

9এক বিবৃতিতে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করে ট্রাম্প বলেছেন, বহু বছর আগে ব্যক্তিগত আলাপচারিতার সময় তিনি ঠাট্টার ছলে এসব কথা বলেছেন। এ জন্য কেউ মনঃক্ষুণ্ন হলে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিল ক্লিনটন এর চেয়েও অশ্লীল কথা বলেন।

বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, ‘অ্যাকসেস হলিউড’ নামের এক অনুষ্ঠানের জন্য এনবিসি টিভির উপস্থাপক বিলি বুশের সঙ্গে এক ভিডিওতে ট্রাম্পকে কথা বলতে দেখা গেছে। অ্যাকসেস হলিউড নিশ্চিত করেছে, ওই ভিডিও টেপটি তাদের প্রতিবেদনের জন্য নেওয়া হয়েছিল। সংরক্ষণাগারে তাঁরা তা খুঁজে পেয়েছেন।

11ওই ভিডিওতে বিলি বুশের উদ্দেশে ট্রাম্পকে বলতে শোনা দেখা গেছে, ‘তারকা হলে তুমি নারীর সঙ্গে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারো।’ সেখানে কোনো একজন বিবাহিত নারীর বিষয়ে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। সে বিবাহিত ছিল।’ এরপর ট্রাম্প ওই নারীর সঙ্গে কীভাবে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন, এ নিয়ে আরও কিছু আপত্তিকর বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, সুন্দর নারী দেখলেই তিনি আকৃষ্ট হন। অপেক্ষা না করে তাঁদের চুম্বনের চেষ্টা করেন।

ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, তারকা পুরুষদের এমন আচরণ নারীরা মেনে নেন। তারকা হলে নারীদের সঙ্গে যা ইচ্ছা তা-ই করা যায়। টিভি উপস্থাপক বিলি বুশকে ট্রাম্প বলেন, ‘নারীদের …খপ করে ধরো। তারপর যা ইচ্ছা করো।’

12এমন ফুটেজ ফাঁস হওয়ায় বিব্রত টিভি উপস্থাপক বিলি বুশও। তিনি বলেন, ভিডিওর এই বিষয়বস্তুর জন্য তিনি অস্বস্তি ও লজ্জাবোধ করছেন। এর কোনো অজুহাত হয় না। ১১ বছর আগে তাঁর বয়স আরও কম ছিল। তিনি অপরিণত ছিলেন। পুরো বিষয়টির জন্য তিনি দুঃখিত।19

এ ধরনের মন্তব্যের জন্য রিপাবলিকান পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন। হাউস স্পিকার পল রায়ান বলেন, ট্রাম্পের এমন কথা শুনে তিনি অসুস্থবোধ করছেন। আজ শনিবার ট্রাম্পের রাজ্য উইসকনসিনে তাঁর নির্বাচনী প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না বলে জানিয়েছেন।

সিনেট নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেন, নারী নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য আপত্তিকর। এ ধরনের মন্তব্যের জন্য ট্রাম্পের সরাসরি সব নারীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। আরেক জ্যেষ্ঠ রিপাবলিক নেতা জন ম্যাককেইন বলেন, এ ধরনের অশোভন ও হীন মন্তব্যের জন্য ট্রাম্পের কোনো অজুহাত দেওয়া উচিত নয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY