ছাতকে প্রবাসীর বাসাসহ সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ


ছাতক প্রতিনিধিঃ ছাতকে জ¦াল-জ¦ালিয়াতির মাধ্যমে কেয়ারটেকার কর্তৃক এক প্রবাসীর বাসা-বাড়ি ও সহায় সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ওই প্রবাসী মারা গেলে এসব সহায় সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ তুলেন তার উত্তরাধিকারিরা। বাসা-বাড়িসহ পিতার রেখে যাওয়া সহায় সম্পত্তি কেয়ারটেকারের কাছ থেকে ফিরে পেতে জনপ্রতিনিধি, গ্রাম ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রবাসী পুত্র। 

জানা যায়, উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের মঈনপুর গ্রামের বাসিন্ধা আবদুল গফুর পরিবার-পরিজন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে আসছিলেন। যুক্তরাজ্যে বসবাসের কারণে প্রায় ৪০ বছর ধরে তার বাসা-বাড়িসহ যাবতীয় সহায় সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন একই গ্রামের সিদ্দেক মিয়ার পুত্র তারই শ্যালিকার জামাই (ভায়রা) আশিক মিয়া। আশিক মিয়া প্রবাসীর নতুন একটি বাড়িতেও বসবাস করে আসছিলেন। পূর্বের আত্মীয় সম্পর্ক ছাড়াও উভয়ের ছেলে মেয়ে বিয়ে দিয়ে নতুন করে তারা বিয়াই সম্পর্ক গড়ে তুলেন। এ সম্পর্ক দীর্ঘদিন স্থায়ি থাকলেও প্রবাসী আবদুল গফুর মারা যাওয়ার পর বাস্তবতা পাল্টে যায়। এক পর্যায়ে প্রবাসীর নতুনবাড়িসহ তার ক্রয়কৃত কৃষি জমি জ¦াল-জ¦ালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতে মেতে উঠেন ওই কেয়ারটেকার। 

এদিকে, প্রবাসী আবদুল গফুর ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যে মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া বাসা-বাড়ি, কৃষিজমিসহ পৈত্রিক সম্পত্তির জায়গা দলীল বুঝে নিতে সম্প্রতি দেশে আসেন পুত্র আবদুল জলিল কয়েছ। দেশে এসে তিনি কেয়ারটেকার আশিক মিয়াকে মঈনপুর কলেজ সংলগ্ন বাসা ছাড়তে বলেন। এক পর্যায়ে দোলারবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সায়েস্তা মিয়া ও ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন কুতুবের উপস্থিতিতে কেয়ারটেকার আশিক মিয়া তাদের কাছ থেকে ৮মাসের সময় নেন। আট মাসের মধ্যে তিনি অন্যত্রে বাড়ি তৈরি করে এ বাসা ছেড়ে চলে যাবেন বলেন। কিন্তু এর কিছুদিন পর প্রবাসী আবদুল গফুরের বাসাটি নিজেদের ক্রয়কৃত বাসা বলে দাবি তুলেন কেয়ারটেকার আশিক। এ নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। নিস্পত্তির জন্য গ্রামে একাধিকবার সালিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা ব্যর্থ হয়। হঠাৎ করে কেয়ারটেকার আশিক মিয়ার এমন আচরণে গ্রামবাসীও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে মঈনপুরবাজারে গ্রামবাসির উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনের আয়োজন করলে তাৎক্ষনিক এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে এসব কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিষয়টি নিস্পত্তির লক্ষে উপস্থিত গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উভয় পক্ষের জায়গা সক্রান্ত দলীলাদি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সায়েস্তা মিয়াকে প্রধান করে ১০সদস্য বিশিষ্ট একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান সায়েস্তা মিয়া বলেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মরহুম আবদুল গফুরের বাসা ছাড়তে বলা হলে ৮ মাসের সময় নিলে বর্তমানে এ দ্বিতলা বাসাটি তাদের ক্রয়কৃত বাসা বলে দাবি করছে আশিক মিয়া। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাকে প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি যাচাই-বাচাই কমিটি গঠন করে দিয়েছেন এলাকার গন্যমান্য মুরব্বিরা। মঈনপুর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আমির উদ্দিন ও জমিরুল হক বলেন, প্রবাসীরা অনেক কষ্ট করে টাকা পয়সা উপার্জন করে বাসা-বাড়িসহ সহায় সম্পত্তি করে। তেমনি করেছিলেন মরহুম আবদুল গফুর। আমরাও জানতাম এ বাসাটি আবদুল গফুরের। কিন্তু ওই বাসায় বসবাসকারি আশিক মিয়া দাবি করছেন বাসাটি তার। বিষয়টি এখন খতিয়ে দেখতে মুরব্বিরা ১০ সদস্যের যাচাই-বাছাই কমিটিতে তাদেরকে রেখেছেন। তাই দু’পক্ষের জায়গা জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।

এ ব্যাপারে কেয়ারটেকার আশিক মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাই ফারুক মিয়া ও ভাতিজা আবদুল কাদির রুনু বলেন, বিরোধকৃত বাসাসহ জায়গাটুকু আশিক মিয়ার। আবদুল গফুরের দেয়া পাওয়ার এ্যাটোনির ব্যক্তির কাছ থেকে এ বাসাসহ হাওরে অনেক কৃষি জমি তিনি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়েছেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী মরহুম আবদুল গফুরের প্রবাসী পুত্র আবদুল জলিল কয়েছ বলেন, সম্পূর্ন জ¦াল-জ¦ালিয়াতির মাধ্যমে কেয়ারটেকার আশিক মিয়া জোরপূর্বক তার পৈত্রিক সম্পত্তি বাসা-বাড়ি, কৃষি জমিসহ সহায় সম্পত্তি আত্মসাত করার অপচেষ্টা লিপ্ত রয়েছে। নতুন বাসা, কৃষি জমিসহ সিলেট শহরের বাসার জায়গা, বাজারের দোকান কোঠা, কুড়াছাতল বিলের জমি, গ্রামের ভেতরের দু’টি বসতবাড়িসহ যাবতীয় পৈত্রিক সম্পত্তি আশিক মিয়া কর্তৃক আত্মাসাতের আশঙ্কা করছেন। তিনি বাসা-বাড়িসহ তার পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা নিস্পত্তির উদ্যোগে নিয়েছেন। 


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের  কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।