বৃহস্পতিবার 25 এপ্রিল 2019 - ১১, বৈশাখ, ১৪২৬

আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে: মির্জা আলমগীর

২৫ মার্চ, ২০১৯ ২০:৩১:০৩

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।সোমবার বিকালে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দলের আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, ‘‘  ১৯৭১ সালের যে চেতনা যে আদর্শকে সামনে নিয়ে এই দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো, স্বাধীনতা অর্জন করে নিয়ে এসেছিলো, সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে আজকে ভুলন্ঠিত হয়েছে। স্বাধীন মানে কী? স্বাধীনতা মানে কী একটা ভুখন্ডের স্বাধীনতা, স্বাধীনতা মানে কী শুধুমাত্র একটি পতাকা। না।”

‘‘ স্বাধীনতার অর্থ হচ্ছে, এই ভুখন্ডে বাস করে যারা মানুষ তাদের স্বাধীনতা। তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, তাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং তাদের মুক্তির স্বাধীনতা। যা পুরোপুরি ধবংস করে দিয়েছে এই আওয়ামী লীগ।”মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীনতাকে ধ্বংস করেছিলো এই আওয়ামী লীগ। আজকে আবার এই ৪৮ বছর পরে ঠিক একই ভাবে তারা আজকে নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে ছন্মবেশে একটা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে।”

‘‘ আজকে সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে বিপন্ন হয়েছে, আজকে সত্যিকার সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়েছে, আজকে সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। আজকে এই দেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে। ”

তিনি বলেন, ‘‘ যারা সরকারের আছে তারা মানুষের অধিকারকে হরণ করে, জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। তারা বার বার করে এই কথা বলতে চায় যে, এখন এমন উন্নয়ন হয়েছে যে উ্ন্নয়ন অতীতে কখনো হয়নি। এটা পৃথিবীর কাছে একটা রোল মডেল হয়ে আছে।”

‘‘ ভেতরটা কী? ভেতরটা ফাঁকা। এই উন্নয়ন শুধু কথাই উন্নয়ন, এই উন্নয়ন হচ্ছে দুর্নীতির উন্নয়ন। এই উন্নয়নের ফলে কিছু সংখ্যক মানুষ ধনী থেকে ধনীতে পরিণত হচ্ছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে এখন ধনীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আমাদের আন্তর্জাতিক রিপোর্টে এসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সেজন্য আমরা বলি এই সরকারকে সরানো ছাড়া জনগনের মুক্তি সম্ভব নয়।”

খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘ যিনি শুধু আমাদের দলের নেতা নয়, তিনি বাংলাদেশের মানুষের  প্রাণের নেতা, যিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। যিনি সারা জীবন ধরে এই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এতো ত্যাগ কোনো নেতা এদেশে কেউ করেনি।”

‘‘ এই নেতা এখন পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে। প্রতিদিন তার শরীর খারাপ হচ্ছে। কী দুর্ভাগ্য ও ভয়ংকর যে, এই ভয়াবহ সরকার তার চিকিৎসা পর্যন্ত করছে না। আজকে আমাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে, যে আমরা জনগনকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করবো। তাকে মুক্ত করলেই গণতন্ত্রকে মুক্ত করা হবে।”

রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভার পর জাসাসের শিল্পীরা পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।স্বাধীনতা দিবসের দিন সকালে বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে ও পরে শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অর্পণ  এবং ২৭ মার্চ বিকালে নয়া পল্টন থেকে স্বাধীনতা র‌্যালীর কর্মসূচি রয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘‘ সআজকে যারা গায়ের জোরে ক্ষমতায় তারা স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয় নিয়ে ইতিহাসকে বিকৃত করে মানুষকে অন্যপথে পরিচালিত করতে চাচ্ছে। স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে যারা লুকোচুরি করে বা ইতিহাসকে বিকৃত করে যা কোনোভাবে ক্ষমার যোগ্য নয়। স্বাধীনতার ঘোষণা জিয়াউর রহমান দিয়েছেন এটা আমাদের বলার অপেক্ষা রাখেনা।”

‘‘ আমার কাছে ৩৬টা বইয়ের রেফারেন্স নিয়ে এসেছিলাম। এই বইগুলো বাংলাদেশের, বিদেশের এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র নায়কদের মন্তব্য রয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষক যে জিয়াউর রহমান এটা সকলে স্বীকার করেছেন। আওয়ামী লীগ স্বীকার করেনা।তারা ইতিহাস বিকৃত করছে।”

তিনি বলেন, ‘‘ আজকে দেখেন, বলা হয় ৭ মার্চ নাকী স্বাধীনতার ঘোষণা হয়েছে। তাহলে আমাদের প্রশ্ন ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস হলো কেনো? এটা ইতিহাসের কথা আমরা কথা নয়। ১৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ সাহেব ডিকলারেশন অব ইন্ডিপেডেন্স অব দি পিপলস রিপাবলিক এন্ড গর্ভামেন্ট ঘোষণা করেছেন আম্রকাননে। তিনি তার ঘোষণায় বলেছেন, যে ২৬ মার্চ চট্টগ্রামে স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি ২৬ মার্চকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে রেকগনাইজ করলেন।”

‘‘ তাহলে ৭ মার্চ যদি স্বাধীনতা ঘোষণা হয়ে থাকে তাহলে আওয়ামী লীগের নেতারাই তো ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, এখন পর্যন্ত এটা প্রতিষ্ঠিত। তাহলে এই স্বাধীনতা কে ঘোষণা করেছেন? ১৭ এ্প্রিল তাজউদ্দিন আহমেদ সাহেব আম্রকাননে ঘোষণা করেছেন যে, ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। ৩৬টি বইয়ে এটাই প্রমাণ মেলে।”

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘‘ আমরা বলতে চাই, জিয়াউর রহমানের নাম এয়ারপোর্ট থেকে মুছে দিয়ে, জাদুঘর থেকে মুছে দিয়ে কখনো জিয়ার নাম মুছে ফেলা যাবে না। এদেশের মানুষের অন্তরে জিয়ার নাম প্রথিত। ইতিহাস বিকৃত করে তাকে মুছে ফেলা যাবে না।”‘‘ এই সরকার জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ভয় পায়। সেজন্য তারা এই দলের বিরুদ্ধে, এই দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে জনগনকে বিভ্রান্ত করছে। এতে কোনো কাজ হবে না।”

জিয়াউর রহমান ফরম পুরণ করে বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের এই বক্তব্যে ‘সঠিক নয়’ দাবি করে ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘ বাকশাল যখন গঠন করা হয় বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর হেডকোয়াটারে আমি তৎকালীন উপপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলাম। একদিন সকালে ১০টার সময়ে জেনারেল জিয়া আমাকে বললেন, দেখ তো হাফিজ আমার কাছে একটা ফরম পাঠিয়েছে। আমি দেখলাম এটা বাকশালে যোগদানের ফরম। উনি বললেন, তোমরা কি বলো? আমি বললাম, স্যার এই ব্যবস্থা টিকবে না, আপনি এটাতে যোগ দেবেন না। উনি আমার দিকে তাঁকালেন। এরপর উনি বললেন, তুমি ঠিকই বলেছো, ফরমটা নিয়ে উনি ওযেস্ট পেপার বাস্কেটে মধ্যে ফেলে দিলেন।”

‘‘ আমি তার জীবন্ত সাক্ষী। আমি বলছি, যদি উনি(জিয়াউর রহমান) যোগদান করে দেখান, ফরম ফিলা আপ করে থাকেন দেখান। উই আর সি। মিথ্যাচার করে দেশটাকে আপনারা(আওয়ামী লীগ) শেষ করে দিয়েছেন। দেশের নির্বাচন হয় নাই। বাংলাদেশ একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের করদরাজ্যে পরিণত হয়েছে।”  

দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ও আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির জমিরউদ্দিন সরকার, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, এজেএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, আবদুস সালাম, অঙ্গসংগঠনের কাজী আবুল বাশার, আহসানুল্লাহ হাসান, সাদেক আহমেদ খান, শফিউল বারী বাবু, আনোয়ার হোসেইন, মামুন হাসান, হেলেন জেরিন খান, এজমল হোসেন পাইলট বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, আবদুল আউয়াল খান, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, সেলিম রেজা হাবিব, নবী উল্লাহ নবী, মো. মোহন, মোরতাজুল করীম বাদরু, শাহ নেসারুল হক, হাসান জাফির তুহিনসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 



এ সম্পর্কিত খবর

সিপিডির চেয়ে আমরা বড়: অর্থমন্ত্রী

সিপিডির চেয়ে আমরা বড়: অর্থমন্ত্রী

এওয়ান নিউজ: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) তাদের

নুসরাতের ভাইকে চাকরি দিলেই ন্যায়বিচার হবে না: আফরোজা আব্বাস

নুসরাতের ভাইকে চাকরি দিলেই ন্যায়বিচার হবে না: আফরোজা আব্বাস

ফেনী প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস বলেছেন, 'দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, আছে

৩০ এপ্রিল শাহবাগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গণজমায়েত

ধর্ষণ মহামারী আকার ধারণ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি খুবই দৃশ্যমান: ড. কামাল

ধর্ষণ মহামারী আকার ধারণ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি খুবই দৃশ্যমান: ড. কামাল

এওয়ান নিউজ: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ধর্ষণ মহামারী


ছাতকে ইমামের বাসার জানালা ভাংচুর

ছাতকে ইমামের বাসার জানালা ভাংচুর

ছাতক প্রতিনিধিঃ ছাতক উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নূরুল হকের বাসায় দুর্বৃত্তরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ

ছাতকে শিক্ষক কবিরুল ইসলাম গণসংবর্ধিত 

ছাতকে শিক্ষক কবিরুল ইসলাম গণসংবর্ধিত 

ছাতক প্রতিনিধিঃ ছাতকের চন্দ্রনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবং বিভিন্ন বিষয়ে স্বীকৃতি প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব

ছাতকে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ৯টি পরিবারের বসতঘর ভস্মিভূত

ছাতকে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ৯টি  পরিবারের বসতঘর ভস্মিভূত

ছাতক প্রতিনিধিঃ ছাতকে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৯টি বসতঘর ভস্মিভূত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার জাউয়াবাজার


৮শ শিক্ষার্থীর জন্য টিউবওয়েল নির্মাণ করলো রোটারি ক্লাব

৮শ শিক্ষার্থীর জন্য টিউবওয়েল নির্মাণ করলো রোটারি ক্লাব

রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন সিলেটের উদ্যোগে কাউকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১টি ডিপ টিউবওয়েল নির্মাণ করা

মিঠু দ্বিতীয় বারের মতো মুলাদী উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় সফিপুরে গণ-সংবর্ধনা

মিঠু দ্বিতীয় বারের মতো মুলাদী উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় সফিপুরে গণ-সংবর্ধনা

স্টাফ রিপোর্টার: বরিশালের মুলাদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব তারিকুল হাসান খান মিঠু দ্বিতীয় বারের

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনা হবে: মঞ্জু

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড গতিশীল করতে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির ৫১ সদস্য



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ