মাহির যত আষাঢ়ে গল্প


রাজনীতির মাঠে আবারো আলোচনায় উঠে আসেন মাহি বি চৌধুরী। সুদর্শন চেহারা আর কথা বলার অসাধারন বাগ্নিতায় মাহি সহজেই মানুষের দৃষ্টি কাড়তে স্বক্ষম হন। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি আসেন একেকবার একেক বিষয় নিয়ে। কয়দিনের হইচই, চটকদার কথা, বিতর্ক আবার সেই সুনসান নীরবতা। এ পর্যন্ত তার কোন উদ্যেগই আলোর মুখ দেখেনি। নির্দিষ্ট সময়ের পর তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। ঠিক এভাবেই কেটেছে মাহির রাজনৈতিক জীবনের অধিকাংশ সময়। রাজনীতিতে আপাদমস্তক এক ব্যর্থ যুবকই বলা যায় তাকে।  

বিশ্লেষনে দেখা যায়, মাহি এক সময় বেশ ক্ষমতাধরই ছিলেন। বাবা অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির রাজনীতি করার সুবাধে খুবই দ্রুতই বিএনপির রাজনীতিতে উঠে আসে। গঠন করেন ‘আমরা জিয়া হবো’ নামের সংগঠন। এই সংগঠনটির উদ্যেগে প্রশিক্ষনসহ নানা কর্মসূচি ঘোষনা করেন। কিন্তু ঘোষনা ঘোষনাই থেকে যায়।  ২০০১ সালে মাহি দায়িত্ব নেন বিএনপির নির্বাচনী প্রচারনার। বিটিভিতে তার পরিচালনায় নির্মিত হয় প্রামাণ্য চিত্র ‘সাবাস বাংলাদেশ’। এতে উপস্থাপনা করেন তার বাবা অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী।  ২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে অধ্যাপক বি. চৌধুরী হন রাষ্ট্রপতি। উপ-নির্বাচনে মাহি. বি চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়ে এমপি বানিয়ে আনে বিএনপি। এরপর কোন কিছুতেই তিনি সফল হতে পারেনি। সংসদ সদস্য পদটিও ধরে রাখতে পারেনি। 

এরপর বিএনপি থেকে বহিস্কৃত হয়ে ২০০৪ সালে বাবা ছেলে মিলে গঠন করেন ‘বিকল্পধারা বাংলাদেশ’ নামে একটি রাজনৈতিক দল। এতে মাহি ১ নম্বর যুগ্ন মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। তারপর আওয়ামীলীগের সাথে জোট করে মহাজোটের সকল কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করেন। অবস্থান বদলাতে বেশী দেরী হয়নি মাহির। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটি জনগনের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। সংকুচিত হয়েই থাকে দলটির সাংগঠনিক কাঠামো। রাজনীতিতে খবর চড়াও হয় ‘বিকল্প ধারা বাংলাদেশ’ বিলুপ্তির পথে। কার্যত রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডের মধ্যে নেই দলটি। তাই অনেকেই এখন দলটিকে ‘বিকল ধারা’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন। দলটির রাজনৈতিক মৃত্যু আরো ত্বরান্তিত হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মাহি বি চৌধুরীর মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ফলে। ওই নির্বাচনেই মূলত বিকল্প ধারার জনপ্রিয়তা ও ভোটের রাজনীতিতে দলটির অবস্থান পরিষ্কার হয়ে যায়। 

এরপর ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ‘হয় সমঝোতা, নয় অবসর’ এই বার্তা নিয়ে মাহি বি চৌধুরী গঠন করেন ‘ব্লু ব্যান্ড কল’ নামের একটি সংগঠন। এই সংগঠনটিকেও মাহি কোন আলোর মুখ দেখাতে পারেনি।  এরপর একই বছর দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে  অনলাইনে ‘প্রজন্ম বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করেন মাহি বি চৌধুরী।  ব্লু ব্যান্ড কল, প্রজন্ম  বাংলাদেশের পর আবারো ২০১৫ সালের মে মাসে মাহী বি. চৌধুরী গঠন করেন ‘সিজিসি’ (সেন্টার ফর জেনারেশনাল চেঞ্জ)। এই সময়ে জানান, একটি যুব চার্টার এবং একটি ছায়া যুব মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হবে।” অথচ কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরাবরেই মতোই অজানা কারনে তার সব সংগঠন মুখ থুবড়ে পড়েছে।  

বর্তমানেও একই অবস্থা। চারটি দলকে নিয়ে গড়া বি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের উপর ভর করে মাহি আবারো রাজনীতির ব্যর্থ খেলায় মেতে উঠেছেন। বিএনপির সাথে ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে জুড়ে দিয়েছেন কয়েকটি  শর্ত। প্রথম দফয় বিএনপিকে জামাত ছাড়তে হবে। দ্বিতীয়টি হলো , আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে শরিকদের জন্য অর্ধেক আসন (১৫০টি) ছাড়তে হবে। খোদ যুক্তফ্রন্টের নেতারাই বলছেন, মাহি এমন শর্ত অবাস্তব, বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলতে এ সব । 

এ বিষয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘২০০১ আমলে বিএনপি-জামাত ঐক্যবদ্ধ ভাবেই নির্বাচন করে। তখন মাহি বি চৌধুরী বিএনপি করতেন। তখন তাঁর জামাতে অরুচি ছিল না, এখন হলো কীভাবে?‘  
মাহি বি চৌধুরীর রাজনীতির ছোট্র এই খতিয়ানই বলে দেয় তার রাজনৈতিক অবস্থান।  বারবার অবস্থান আর সংগঠন বদলের ফলে মানুষের আস্থা কখনোই অর্জন করতে পারেনি। তার এইসব অস্থির কর্মকান্ডের কারনেই মানুষ বিরক্ত হয়েছে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তার সব চিন্তাই আষাঢ়ে গল্পে পরিণত হয়েছে। 
 


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের  কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।