রবিবার 21 অক্টোবর 2018 - ৫, কার্তিক, ১৪২৫

গ্রামবাংলার জনপ্রিয় গরুর গাড়ি এখন শুধুই স্মৃতি! 

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ১৯:১০:২৭

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট অফিস : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে   গ্রামবাংলার জনপ্রিয় গরুর গাড়ি এখন শুধুই স্মৃতি! কালের বির্বতনে আধুনিকতার স্পর্শে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী আঁকাবাঁকা মেঠো পথে ধীরে ধীরে বয়ে চলতো আর সেই গরুর গাড়ী এখন আর চোখে পড়ে না। যা একসময় আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাহন হিসেবে প্রচলিত ছিল এবং গ্রাম বাংলায় গরুর গাড়ীই যোগাযোগের একমাত্র বাহন ছিল।

সময়ের বিবর্তনে আজ গরুর গাড়ী চালক (গাড়ীয়াল) না থাকায়, হারিয়ে যাচ্ছে চিরচেনা গাড়িয়াল ভাইয়ের কণ্ঠে সেই অমৃত মধুর সুরের গান। গাড়ী চালানোর সময় আনন্দে গাড়ীয়ালরা গাইতো ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই কত রব আমি পন্থের দিকে চাইয়া রে..’ এখন আর চাইয়া থাকলেও গরুর গাড়ী চোখে পড়ে না। আর গানও গায়না গাড়ীয়ালরা।

এক সময় জনপদে এই বাহনের সরগরম অস্তিত্ব ছিল, সর্বত্র কদরও ছিল গরুর গাড়ীর। মাত্র দুই যুগ আগেও পণ্য পরিবহন ছাড়াও বিবাহের বর-কনে বহনে বিকল্প কোন বাহন কল্পনাই করা যেত না। যেসব পরিবারে গরুর গাড়ী ছিল, তাদের কদরের সীমা ছিল না। কৃষকরা প্রতিদিন ফজরের আজানের আগে গরুর গাড়ীতে কখনো জৈবসার (গোবর সার) কখনো গরুর খাবার ও লাঙ্গল-মই- জোয়াল নিয়ে মাঠে যেত। সুপ্রাচীনকাল থেকে দেশের গ্রামীণ জনপদে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে গরুর গাড়ির বহুল প্রচলন পরিলক্ষিত হতো। পায়ে চলার পথে মানুষ পশুর শ্রমে চলিত গরুর গাড়ী যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহার করত প্রাচীনকাল থেকেই। এখন আর তাকিয়ে থাকলেও গরুর গাড়ীও চোখে পড়ে না। আধুনিকতার দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ী। সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে গাড়ীয়াল পেশাও। যা একদা ছিল বংশ পরম্পরায়। সময় অতিবাহিত হবার সাথে সাথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের ধারকবাহক অনেক বাহনেরই আমূল পরিবর্তন, আধুনিকায়ন সাধিত হয়েছে।

আমাদের   বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবিরের পাঠানো তথ্যর ভিতিতে জানা যায় সরেজমিনে  মতবিনিময় কালেএ বিষয়ে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম ওমো: আবুল হোসেন বলেন, আমরা নিজেদের ব্যাবহারের জন্য যেমন প্রাইভেটকার বা মটরসাইকেল ক্রয় করে থাকি, ঠিক তেমনি আগে গ্রামের লোকজন গরুর গাড়ী তৈরী করে বাড়ীতে রাখতেন। আপদ-বিপদে তা তারা বাহন হিসেবে ব্যবহার করতেন। গরুর গাড়ী এখন শুধুই স্মৃতি। গরুর গাড়ী এখন থেকে স্মৃতির জাদুঘরে রূপান্তরিত হচ্ছে। আমরা চাই জাদুঘরে খুব যতœ ও গুরুত্বের সাথে এটি সংরক্ষণ করা হোক। কারণ আধুনিকায়নের কাছে এটি এখন মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। আগামী প্রজন্মের জন্য এগুলো ইতিহাস হয়ে থাকবে।দুই যুগ আগে গরুর গাড়িতে চড়ে বর-বধূ যেত। গরুর গাড়ি ছাড়া বিয়ে হতো না। বিয়ে বাড়ি বা মাল পরিবহনে গরুর গাড়ি ছিল একমাত্র পরিবহন বাহন। বরপক্ষের লোকজন বরযাত্রী ও ডুলিবিবিরা বিয়ের জন্য ১০ থেকে ১২টি গরুর গাড়ির ছাওনি (টাপর) সাজিয়ে শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ি আসা-যাওয়া করত। রাস্তাঘাটে গরুর গাড়ি থেকে পটকাও ফুটাত। যে সব পরিবারে গরুগাড়ি ছিল, তাদের কদরের সীমা ছিল না। কৃষকরা প্রতিদিন ফজরের আজানের আগে গরুর গাড়িতে কখনো জৈব সার তথা গোবরের সার, কখনো গরুর খাবার ও লাঙ্গল-মই-জোয়াল নিয়ে যেত মাঠে। গাইত উঁচু সুরে গাইত, ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই, কত রবো আমি পন্থের বিধি...’।

গরুর গাড়ির চালককে বলা হয় গাড়িওয়াল। আর তাই চালক উদ্দেশ্য করে বলত, ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই, আস্তে বোলাও গাড়ি, আরেক নজর দেখিবার নাও মুই দয়ার বাপের বাড়িরে গাড়িয়াল’। ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটারের রাস্তা পাড়ি দিয়ে কৃষকেরা জমি চাষাবাদ এবং মালামাল বহনের জন্য গরুর গাড়ি বাহন হিসেবে ব্যবহার করত। অনেক অঞ্চলে রাস্ত পাকা না থাকায় এক সময় যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করত না। ফলে গরুর গাড়িই ছিল একমাত্র ভরসা। তবে বর্তমানে নানা ধরনের মোটরযান চলাচলের কারণে অপেক্ষাকৃত ধীর গতির এই যানটির ব্যবহার অনেক কমে এসেছে। তাই এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।

বর্তমান যুগ হচ্ছে যান্ত্রিক যুগ। মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় মালামাল বহনের জন্য বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাক, পাওয়ার টিলার, লরি, নসিমন-করিমনসহ বিভিন্ন মালগাড়ি। মানুষের যাতায়াতের জন্য রয়েছে মোটরগাড়ি, রেলগাড়ি, বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা ইত্যাদি। ফলে গ্রামাঞ্চলেও আর চোখে পড়ে না গরুর গাড়ি। অথচ গরুর গাড়ির একটি সুবিধা হলো, এতে কোনো জ্বালানি লাগে না। ফলে ধোঁয়া হয় না। পরিবেশের কোনো ক্ষতিও করে না। এটি পরিবেশবান্ধব একটি যানবাহন।

রিকশা বা ঠেলাগাড়ির মতো গরুর গাড়িও একটি পরিবেশবান্ধব যান। এতে কোনো জ্বালানি খরচ নেই। শব্দ দূষণ নেই। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এসব কিছুই এই যানে ব্যবহার হয় না। এই গরুর গাড়ি ধীর গতিতে চলে বলে তেমন কোনো দুর্ঘটনাও নেই। কিন্তু যুগের পরিবর্তনে আমাদের প্রিয় এই গরুরগাড়ি প্রচলন আজ হারিয়ে যাচ্ছে।



এ সম্পর্কিত খবর

নীতিহীন মানুষদের জনগণ কখনোই ক্ষমা করবে না: নাসিম   

নীতিহীন মানুষদের জনগণ কখনোই ক্ষমা করবে না: নাসিম   

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: ড.কামাল হোসেন একজন নীতিহীন মানুষ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ১৪ দলের

কপিলমুনি হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি

কপিলমুনি হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি

আমিনুল ইসলাম বজলু,পাইকগাছা (খুলনা): খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহাসিকতা ও বর্ধিষ্ণু জনপদের শত বছরের পুরনো

ভোট না পেলে আফসোস নেই, দেশটা যেন ভালো থাকে: প্রধানমন্ত্রী

ভোট না পেলে আফসোস নেই, দেশটা যেন ভালো থাকে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনগণ ভোট না দিলে কোনো আফসোস করবেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ


১০-১২ দিনের মধ্যে কে-কার সঙ্গে সংলাপ করবে: ওবায়দুল কাদের

১০-১২ দিনের মধ্যে কে-কার সঙ্গে সংলাপ করবে: ওবায়দুল কাদের

এওয়ান নিউজ: এই মুহূর্তে সংলাপের কোনও পরিবেশ ও প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের

কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ  কাউনিয়ায় স্বল্প মেয়াদী (মঙ্গা তাড়ানো) বিআর-৩৩ ও বিনা-৭ সহ বিভিন্ন জাতের

নির্বাচন কমিশনের সংকট-ই রাষ্ট্রীয় সংকট: মির্জা আলমগীর

নির্বাচন কমিশনের সংকট-ই রাষ্ট্রীয় সংকট: মির্জা আলমগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন কমিশন নিজেরাই বিভক্ত হয়ে পড়েছে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম


সংবাদ পর্যালোচনা

মান্না-মাহির ফোনালাপের রাজকথন

মান্না-মাহির ফোনালাপের রাজকথন

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না আবারো ফোনালাপের কবলে পড়েছেন। আপাদমস্তক নিপাট ভদ্রালোক এবং

সংবাদ পর্যালোচনা

এ পাপ কীভাবে মোচন করবে সৌদি আরব

এ পাপ কীভাবে মোচন করবে সৌদি আরব

  যেসব তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে তাতে বিশ্ববাসীর কাছে প্রায় দিনের আলোর মতো স্পষ্ট, সাংবাদিক জামাল

ক্ষমতায় গেলে ৭ দিনের মধ্যে ডিজিটাল আইন বাতিল: মওদুদ

ক্ষমতায় গেলে ৭ দিনের মধ্যে ডিজিটাল আইন বাতিল: মওদুদ

বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় গেলে সাত দিনের মধ্যে বর্তমান সরকারের করা ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ ও ‘সম্প্রচার



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ









আমাদের পরম বন্ধু ফাদার রিগন 

আমাদের পরম বন্ধু ফাদার রিগন 

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ১৮:৫৯