সোমবার 20 মে 2019 - ৬, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬

গ্রামবাংলার জনপ্রিয় গরুর গাড়ি এখন শুধুই স্মৃতি! 

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ১৯:১০:২৭

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট অফিস : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে   গ্রামবাংলার জনপ্রিয় গরুর গাড়ি এখন শুধুই স্মৃতি! কালের বির্বতনে আধুনিকতার স্পর্শে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী আঁকাবাঁকা মেঠো পথে ধীরে ধীরে বয়ে চলতো আর সেই গরুর গাড়ী এখন আর চোখে পড়ে না। যা একসময় আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাহন হিসেবে প্রচলিত ছিল এবং গ্রাম বাংলায় গরুর গাড়ীই যোগাযোগের একমাত্র বাহন ছিল।

সময়ের বিবর্তনে আজ গরুর গাড়ী চালক (গাড়ীয়াল) না থাকায়, হারিয়ে যাচ্ছে চিরচেনা গাড়িয়াল ভাইয়ের কণ্ঠে সেই অমৃত মধুর সুরের গান। গাড়ী চালানোর সময় আনন্দে গাড়ীয়ালরা গাইতো ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই কত রব আমি পন্থের দিকে চাইয়া রে..’ এখন আর চাইয়া থাকলেও গরুর গাড়ী চোখে পড়ে না। আর গানও গায়না গাড়ীয়ালরা।

এক সময় জনপদে এই বাহনের সরগরম অস্তিত্ব ছিল, সর্বত্র কদরও ছিল গরুর গাড়ীর। মাত্র দুই যুগ আগেও পণ্য পরিবহন ছাড়াও বিবাহের বর-কনে বহনে বিকল্প কোন বাহন কল্পনাই করা যেত না। যেসব পরিবারে গরুর গাড়ী ছিল, তাদের কদরের সীমা ছিল না। কৃষকরা প্রতিদিন ফজরের আজানের আগে গরুর গাড়ীতে কখনো জৈবসার (গোবর সার) কখনো গরুর খাবার ও লাঙ্গল-মই- জোয়াল নিয়ে মাঠে যেত। সুপ্রাচীনকাল থেকে দেশের গ্রামীণ জনপদে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে গরুর গাড়ির বহুল প্রচলন পরিলক্ষিত হতো। পায়ে চলার পথে মানুষ পশুর শ্রমে চলিত গরুর গাড়ী যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহার করত প্রাচীনকাল থেকেই। এখন আর তাকিয়ে থাকলেও গরুর গাড়ীও চোখে পড়ে না। আধুনিকতার দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ী। সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে গাড়ীয়াল পেশাও। যা একদা ছিল বংশ পরম্পরায়। সময় অতিবাহিত হবার সাথে সাথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের ধারকবাহক অনেক বাহনেরই আমূল পরিবর্তন, আধুনিকায়ন সাধিত হয়েছে।

আমাদের   বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবিরের পাঠানো তথ্যর ভিতিতে জানা যায় সরেজমিনে  মতবিনিময় কালেএ বিষয়ে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম ওমো: আবুল হোসেন বলেন, আমরা নিজেদের ব্যাবহারের জন্য যেমন প্রাইভেটকার বা মটরসাইকেল ক্রয় করে থাকি, ঠিক তেমনি আগে গ্রামের লোকজন গরুর গাড়ী তৈরী করে বাড়ীতে রাখতেন। আপদ-বিপদে তা তারা বাহন হিসেবে ব্যবহার করতেন। গরুর গাড়ী এখন শুধুই স্মৃতি। গরুর গাড়ী এখন থেকে স্মৃতির জাদুঘরে রূপান্তরিত হচ্ছে। আমরা চাই জাদুঘরে খুব যতœ ও গুরুত্বের সাথে এটি সংরক্ষণ করা হোক। কারণ আধুনিকায়নের কাছে এটি এখন মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। আগামী প্রজন্মের জন্য এগুলো ইতিহাস হয়ে থাকবে।দুই যুগ আগে গরুর গাড়িতে চড়ে বর-বধূ যেত। গরুর গাড়ি ছাড়া বিয়ে হতো না। বিয়ে বাড়ি বা মাল পরিবহনে গরুর গাড়ি ছিল একমাত্র পরিবহন বাহন। বরপক্ষের লোকজন বরযাত্রী ও ডুলিবিবিরা বিয়ের জন্য ১০ থেকে ১২টি গরুর গাড়ির ছাওনি (টাপর) সাজিয়ে শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ি আসা-যাওয়া করত। রাস্তাঘাটে গরুর গাড়ি থেকে পটকাও ফুটাত। যে সব পরিবারে গরুগাড়ি ছিল, তাদের কদরের সীমা ছিল না। কৃষকরা প্রতিদিন ফজরের আজানের আগে গরুর গাড়িতে কখনো জৈব সার তথা গোবরের সার, কখনো গরুর খাবার ও লাঙ্গল-মই-জোয়াল নিয়ে যেত মাঠে। গাইত উঁচু সুরে গাইত, ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই, কত রবো আমি পন্থের বিধি...’।

গরুর গাড়ির চালককে বলা হয় গাড়িওয়াল। আর তাই চালক উদ্দেশ্য করে বলত, ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই, আস্তে বোলাও গাড়ি, আরেক নজর দেখিবার নাও মুই দয়ার বাপের বাড়িরে গাড়িয়াল’। ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটারের রাস্তা পাড়ি দিয়ে কৃষকেরা জমি চাষাবাদ এবং মালামাল বহনের জন্য গরুর গাড়ি বাহন হিসেবে ব্যবহার করত। অনেক অঞ্চলে রাস্ত পাকা না থাকায় এক সময় যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করত না। ফলে গরুর গাড়িই ছিল একমাত্র ভরসা। তবে বর্তমানে নানা ধরনের মোটরযান চলাচলের কারণে অপেক্ষাকৃত ধীর গতির এই যানটির ব্যবহার অনেক কমে এসেছে। তাই এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।

বর্তমান যুগ হচ্ছে যান্ত্রিক যুগ। মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় মালামাল বহনের জন্য বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাক, পাওয়ার টিলার, লরি, নসিমন-করিমনসহ বিভিন্ন মালগাড়ি। মানুষের যাতায়াতের জন্য রয়েছে মোটরগাড়ি, রেলগাড়ি, বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা ইত্যাদি। ফলে গ্রামাঞ্চলেও আর চোখে পড়ে না গরুর গাড়ি। অথচ গরুর গাড়ির একটি সুবিধা হলো, এতে কোনো জ্বালানি লাগে না। ফলে ধোঁয়া হয় না। পরিবেশের কোনো ক্ষতিও করে না। এটি পরিবেশবান্ধব একটি যানবাহন।

রিকশা বা ঠেলাগাড়ির মতো গরুর গাড়িও একটি পরিবেশবান্ধব যান। এতে কোনো জ্বালানি খরচ নেই। শব্দ দূষণ নেই। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এসব কিছুই এই যানে ব্যবহার হয় না। এই গরুর গাড়ি ধীর গতিতে চলে বলে তেমন কোনো দুর্ঘটনাও নেই। কিন্তু যুগের পরিবর্তনে আমাদের প্রিয় এই গরুরগাড়ি প্রচলন আজ হারিয়ে যাচ্ছে।



এ সম্পর্কিত খবর

খালেদা জিয়াকে আজীবন জেলে রাখার প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়ন করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

খালেদা জিয়াকে আজীবন জেলে রাখার প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়ন করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয়

বিএনপি এখন ধার করা নেতৃত্ব দিয়ে চলছে: হাছান মাহমুদ

বিএনপি এখন ধার করা নেতৃত্ব দিয়ে চলছে: হাছান মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি এখন ধার করা নেতৃত্ব দিয়ে চলছে বলে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান

আমরা কোথায় আছি

আমরা কোথায় আছি

আমরা এমন একটি সময়ে এমন একটি সমাজে আছি, যেখানে এখন নিরাপদে বসবাস দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।


বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: কতটা সুবিধা পাবে চ্যানেলগুলো?

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: কতটা সুবিধা পাবে চ্যানেলগুলো?

এওয়ান নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের একমাত্র স্যাটেলাইট 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১' এর ব্যান্ডউইথ বিনামূল্যে ব্যবহার করার বিষয়ে স্যাটেলাইটের

সহকর্মীদের পুরস্কার বা বখশিশ প্রতিষ্ঠানের জন্য কতটা সুফল আনে?

সহকর্মীদের পুরস্কার বা বখশিশ প্রতিষ্ঠানের জন্য কতটা সুফল আনে?

এওয়ান নিউজ ডেস্ক: "অফিসে কেউ যদি সত্যিই ভাল কিছু করে থাকে তাহলে আমরা তাকে সাধারণত

পাঁচ দুর্ধর্ষ নারী গোয়েন্দা

পাঁচ দুর্ধর্ষ নারী গোয়েন্দা

এওয়ান নিউজ ডেস্ক:চ্যালেঞ্জিং পেশা গুপ্তচরবৃত্তি। নারীরাও এতে পিছিয়ে নেই। গোপনীয় তথ্য জোগাড় করতে কখনো তারা


২০০ ঘণ্টায় বানানো গাউনে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন

২০০ ঘণ্টায় বানানো গাউনে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন

বিনোদন ডেস্ক: দক্ষিণ ফরাসি উপকূলে সূর্যের আলো যতটা, এর চেয়েও জ্বলজ্বলে মনে হলো ঐশ্বরিয়া রাই

এবার কানের লালগালিচায় কালোদের জয়জয়কারের প্রতিচ্ছবি

এবার কানের লালগালিচায় কালোদের জয়জয়কারের প্রতিচ্ছবি

বিনোদন ডেস্ক: যে যেভাবে ইচ্ছে নাচতে শুরু করেছে। প্রত্যেকের গায়ে বিচিত্র পোশাক। অথচ কানের লালগালিচায় ছেলেদের

গর্ভপাতের বৈধতা চেয়ে কান উৎসবের লালগালিচায় ‘সবুজ’ প্রতিবাদ

গর্ভপাতের বৈধতা চেয়ে কান উৎসবের লালগালিচায় ‘সবুজ’ প্রতিবাদ

বিনোদন ডেস্ক: সবুজ স্কার্ফের ঢেউ উঠলো কানসৈকতে। সবার মুখে স্লোগান, ‘নারীদের জন্য সংহতি’। মাইক বাজিয়ে



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ






আমরা কোথায় আছি

আমরা কোথায় আছি

২০ মে, ২০১৯ ১২:৫১