আওয়ামী লীগ সরকার দেশ এগিয়ে গেছে: প্রধানমন্ত্রী


এওয়ান নিউজ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে শিল্পায়ন হবে, কর্মসংস্থান হবে এটা ছিল জাতির পিতার স্বপ্ন। তারই পদাঙ্ক অনুসরন করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। টানা দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকায় দেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাভারের চামড়া শিল্প নগরী, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় শিল্প পার্ক এবং সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্ক আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

প্রধানমান্ত্রী বলেন, ‘হাজারীবাগের ট্যানারি সরিয়ে আমরা সাভারে শিল্প নগরী গড়ে তুলেছি। আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের বাজার প্রসার হচ্ছে। দেশেও চাহিদা বাড়ছে। আমাদের দেখতে হবে পরিবেশের ক্ষতি না করে কীভাবে সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘জাতির পিতা মাত্র সাড়ে ৩ বছরে প্রত্যেকটি বিষয়ে যে সুষ্ঠু পরিকল্পনা করে গিয়েছিলেন। ৭৫-এর ১৫-ই আগস্ট যদি আমাদের জীবনে না আসত তবে আরো আগেই দেশ উন্নত হতো। এখন তার দেখানো পথেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’

পরে ভিডিও কনফারেন্সে প্রথমে সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্প নগরীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানকার জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা সেখানকার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ তাঁত প্রধান এলাকা। আমি একজন তাঁতি প্রতিনিধির কাছ থেকে কথা শুনতে চাই।’

এসময় সেখানকার বেলকুচি সদরের তাঁতি নান্নু মিয়া কথা বলেন। তিনি সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁতিরা আমাদের জন্য খুবই ‍গুরুত্বপূর্ণ। এটা একটা শিল্প। তাদের জন্য আরো ভালো ব্যবস্থা আমরা করব।’

সেখানকার নারী উদ্যোক্তা টগর বেগমের কথার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য মানুষের উন্নয়ন করা। কেউ অভাবী থাকবে না। সে ব্যবস্থা আমরা করব।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গোপালগঞ্জ থেকে সিরাজগঞ্জ। কয়েকদিন আগে গোপালগঞ্জ শিল্পপার্ক উদ্বোধন করেছেন। তারপরই সিরাজগঞ্জ। এতে বারবারই প্রমাণ হয়েছে আপনি গোপালগঞ্জের পরই সিরাজগঞ্জকে ভালোবাসেন। আগামী নির্বাচনে আপনাকে ভালোবেসে এ জেলার ৬ টি আসনই আপনাকে মানুষ দেবে।’

পরে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক শায়লা ফারজানার পরিচালনায় সেখানকার অনুষ্ঠানে প্রথমে কথা বলেন মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হোসেন বাবুল। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমাদের চাওয়া ছিল যুদ্ধাপরাধী, বুদ্ধিজীবী হত্যা ও ২১-শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার। আপনি মাত্র ৯ বছরেই সবগুলো কাজ শেষ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুন্সীগঞ্জে একসময় যেতাম ত্রাণ নিয়ে। সেখানে বন্যা হতো। এখন মুন্সীগঞ্জ অনেক উন্নত। সবচেয়ে বড় উন্নয়ন পদ্মা সেতু। এ পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেল লাইন যাবে। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগদেন সাভারের চামড়া শিল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ চামড়া শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চামড়া শিল্পের পরিবেশ সুন্দর রাখা একটা বড় বিষয়। এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। ঢাকায় চামড়া শিল্পের প্রয়োজন ছিলো। এখন উত্তরবঙ্গে একটা চামড়া শিল্প দরকার। সেখানে একটা করতে হবে।’

সেখানকার শ্রমিক রুমি বেগম অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি এখানে অনেকদিন ধরে কাজ করছি। খুব ভালো আছি। আমি চাই আপনি সারাজীবন প্রধানমন্ত্রী থাকেন।’এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেসে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘আমি বুড়ো হয়ে গেছি, কতদিন আর পারব।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন কার্যালয়ের মুখ্যসচিব মোহাম্মদ নজিবুর রহমান। এ সময় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের  কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।