সোমবার 21 জানুয়ারী 2019 - ৭, মাঘ, ১৪২৫

টার্নিং পয়েন্টে দেশ, উৎকন্ঠায় মানুষ

০৭ নভেম্বর, ২০১৮ ১২:৪০:৩৮

 

আনোয়ার বারী পিন্টু : সবার দৃষ্টি এখন গণভবনে।  সারা দেশেই এক ধরনের উৎকন্ঠা আর সংশয়ের মধ্যে আছে সাধারন মানুষ।  বৈরী অবস্থানে থাকা আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি নেতাদরে এক টেবিলে বসার দৃশ্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে এনেছিলো।  তবে রাজনীতির আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা এখনো কাটেনি।  আজ ৭ নভেম্বর সকালে সরকারের সাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় দফা বৈঠকে চূড়ান্ত হবে রাজনীতির গতিবিধি।  দৃশ্যপট সামনে আসতে আর বাকী মাত্র কয়েক ঘন্টা।

এরই মধ্যে সরকার এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দুই পক্ষের মধ্যেই কিছুটা ছাড় দেওয়ার মানষিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বলা হয়েছে ৭ দফার কয়েক দফাতো মেনে নেওয়াই হয়েছে।  গতপরশু আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন,  আগামী সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংবিধান অনুযায়ী যৌক্তিক যেসব দাবি জানাবে তা ভেবে দেখা হবে। সংবিধান অনুযায়ী যদি সংসদ ভেঙে দেয়ার প্রস্তাব তারা করে সেটা নিয়েও আলোচনা হবে।  এতে সরকার কোনো চাপ অনুভব করছে না।  সংবিধানসম্মত কোনো দাবি থাকলে সেগুলো মেনে নেয়া হবে।  খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি তো এ বিষয়ে কিছু বলেনি।  প্যারোলে মুক্তি যদি ঐক্যফ্রন্ট চায় তাহলে আলোচনার পথ খোলা আছে।  তবে গতকাল ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে প্যারলে মুক্তির বিষয়টি প্রত্যাখান করে নেতারা বলেছেন, প্যারলে নয় আইনী প্রক্রিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চান তারা।      

বলা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহন মূলক করতে সরকারের মধ্যেও কিছুটা ছাড় দেওয়ার মানষিকতা তৈরী হয়েছে।  তবে আজকের সংলাপের শুরুতেই সরকারের পক্ষ থেকে দুটি বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়া হতে পারে।  প্রথমত, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হবে না এবং দ্বিতীয়ত, নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনাই বহাল থাকবেন।  ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে যদি বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়ে জোরালো দাবী তোলা হয় তাহলে আলোচনার মাধ্যমে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতেও পারে সরকার।  এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার প্রধান হিসেবে মেনে নিতে হবে।  এরপর ঐক্যফ্রন্টের অন্য দাবীগুলোর বিষয়েও নমনীয় হবে সরকার।  নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারেও ঐক্যফ্রন্টের দুই তিনজনকে নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।   

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংবিধাসসম্মত ভাবেই একটি রূপরেখা তৈরী করে আজ গণভবনে সংলাপে অংশ নিয়েছেন বলে জানা যায়।  এই রূপরেখায় জোরালোভাবে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে।  প্রথমত, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তি ও ভোটে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সাজা স্থগিত করা।  দ্বিতীয়ত, সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ।  তৃতীয়ত, নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মন্ত্রী করে তাঁদের স্বরাষ্ট্র , অর্থ ও জনপ্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়া ।

ঐক্যফ্রন্ট নেতারা মনে করেন,  সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের কথা সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে।  আর সংসদ ভেঙে দিলেওতো বর্তমান সরকারের বেশীরভাগ সদস্যই অন্তর্বর্তী সময়ে দায়িত্ব পালন করবে।  সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্যদের এক-দশমাংশ টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী রাখা যায়।  বর্তমান মন্ত্রিসভায় ৫০ জনের মতো সদস্য আছেন।  অর্থাৎ এর মধ্যে পাঁচজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী রাখা সম্ভব।

এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়টিও কোনো সমস্যা নয়।  রাষ্ট্রপক্ষ যদি তাঁর জামিনের বিরোধিতা না করে বা আপিলে সাজা স্থগিতের বিরোধিতা না করে, তাহলে ভোটের সময় খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভোটে অংশ নেওয়া সম্ভব ।  ধারনা করা হচ্ছে, ৭ দফার মধ্যে ৩টি দফা মেনে নিলেই নির্বাচন কালীন সরকার প্রধান নিয়ে ছাড় দিতে পারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।  আশা নিরাশার দোলাচলে আজকের সংলাপ ঘিরে মানুষের দৃষ্টি এখন গণভবনে।  রাজনীতির এই টার্নিং পয়েন্টে মানুষ চায় দুই পক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমােঝোতা হোক।  সাধারণ মানুষ শান্তির বার্তার অপেক্ষার।     

উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম দফা সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।  ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা গুলো হলো:

১।  অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, আলোচনা করে নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।

২।  গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

৩।  বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।

৪।  কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালো আইন বাতিল করতে হবে।

৫।  নির্বাচনের ১০ দিন পূর্ব থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্য্ন্ত বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে।

৬।  নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ভোট কেন্দ্র, পোলিং বুথ, ভোট গণনাস্থল ও কন্ট্রোল রুমে তাদের প্রবেশের ওপর ওপর কোনো ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ না করা এবং নির্বাচনকালীন সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উপর যে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে।

৭।  তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা এবং নতুন কোনো মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

 



এ সম্পর্কিত খবর

দীনের খন্ডিত ব্যাখা অনৈক্য সৃষ্টি করছে: মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম

দীনের খন্ডিত ব্যাখা অনৈক্য সৃষ্টি করছে: মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, মানুষের মাঝে দীনের খন্ডিত

সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সিলেটের লিজা 

সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সিলেটের লিজা 

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে সিলেট থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা করেছেন সিলেটের লিজা আক্তার।

সিলেটে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন আলোচনা সভা

সিলেটে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন আলোচনা সভা

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন সিলেট বিভাগ, জেলা ও মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে ২০ জানুয়ারি রোববার


খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

এওয়ান নিউজ: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন

আবেগ হারিয়েছে কলকাতা?

আবেগ হারিয়েছে কলকাতা?

নুরুল করিম: এক সময় মানুষ বলতো, হিট হয়েছে বুঝলাম কিন্তু এটি ভালো সিনেমা তো? কিন্তু

স্মার্টফোনই বলে দেবে আপনার চরিত্র কেমন!

স্মার্টফোনই বলে দেবে আপনার চরিত্র কেমন!

এওয়ান নিউজ ডেস্ক: একজন মানুষের স্মার্টফোনের ব্যাবহারের মাধ্যমে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও স্বভাব বোঝা যায়।


দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স: ভূমি মন্ত্রী

দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স: ভূমি মন্ত্রী

সাভার প্রতিবেদক: ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় ঘুষ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বন্ধ করা

এই সরকার লজ্জাহীন: সেলিম

এই সরকার লজ্জাহীন: সেলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, এই সরকার লজ্জাহীন। এই

৩০২৫ পত্রিকার দেশে অনলাইন কেন মাথাব্যথা!

৩০২৫ পত্রিকার দেশে অনলাইন কেন মাথাব্যথা!

মাজেদুল নয়ন : গত ১৫ বছরে অনলাইন সংবাদপত্র দেশে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ



আরো সংবাদ


রাঙ্গাবালীতে স্কুলে যেতে জীবনবাজি

রাঙ্গাবালীতে স্কুলে যেতে জীবনবাজি

২০ জানুয়ারী, ২০১৯ ১২:৩৩

সিম চাষে সফল শাহানা

সিম চাষে সফল শাহানা

২০ জানুয়ারী, ২০১৯ ১২:১৫

‘একটু ভালো কইরা লেইখেন ভাই’

‘একটু ভালো কইরা লেইখেন ভাই’

১৯ জানুয়ারী, ২০১৯ ১২:০৭

সুন্দরবনের বাঘ লোকালয়ে

সুন্দরবনের বাঘ লোকালয়ে

১৮ জানুয়ারী, ২০১৯ ২১:১১



‘পাখি সব করে রব’

‘পাখি সব করে রব’

১২ জানুয়ারী, ২০১৯ ১৪:২৩



সন্তান বিক্রি করতে চান এক দম্পতি

সন্তান বিক্রি করতে চান এক দম্পতি

১০ জানুয়ারী, ২০১৯ ২২:৪৮



ব্রেকিং নিউজ