বৃহস্পতিবার 27 জুন 2019 - ১৩, আষাঢ়, ১৪২৬

আহা, সুন্দরবন!

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১৮:৩২:৪০

দ্বীপ বিশ্বাস: আমার মনে হয়েছে সাতক্ষীরা অংশের সুন্দরবন সবচেয়ে বেশী সুন্দর। সেক্ষেত্রে আপনি সাতক্ষীরা থেকে সুন্দরবন দেখা শুরু করতে পারেন। ঢাকার সায়েদাবাদ-গাবতলী থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের উদ্দেশ্যে অনেক বাস ছেড়ে যায়।সাতক্ষীরা শহর থেকে শ্যামনগর ৬০ কিমি। শ্যামনগর থেকে মুন্সিগন্জের নীলডুমুর ঘাট।দূরত্ব ১৪ কিমি।সাতক্ষীরার গাবুরা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন এবং শ্যামনগর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় থানা।আগে থেকেই আপনার ট্রলার ঠিক করে রাখতে হবে।যে কয়দিন থাকবেন সেই কয় দিনের বাজার করে ট্রলারে উঠতে হবে। ট্রলারেই রান্না করতে হবে,খেতে হবে এবং টয়লেটের ব্যবস্হাও ট্রলারে। সুন্দরবনে গোসল করাটা ঝামেলার। সব জায়গায় লোনা পানি। তবে আপনি দুবলার চর মসজিদের পাশে,বাগেরহাট শরনখোলা রেন্জের কোকিলমনি কোস্টগার্ড ক্যাম্প এবং হিরন পয়েন্টে মিঠা পানির পুকুর পাবেন। চাইলে সেখানে গোসল করতে পারেন। আগে থেকে বনবিভাগের অনুমতি নিতে হবে। সাথে ২ জন বন পুলিশ নিতে হবে। এই গুলো ট্রলারের মালিক ব্যবস্হা করে দিবে। অনুমতি সহ যাবতীয় সবকিছু। আগে থেকে আপনার যারা যাবেন তাদের সবার ন্যাশনাল আইডি কার্ড এবং টাকা পাঠাতে হবে।

আমার মনে হয়েছে সুন্দরবনের আসল রুপ জাহাজে গিয়ে দেখা সম্ভব না। ট্রলারে ঘুরলে অনেক গভীরে যাওয়া যায় এবং অনেক কিছুই দেখা সম্ভব। আপনি নীলডুমুর ঘাট থেকে প্রথমে কলাগাছিয়া বিচ যেতে পারেন। কলাগাছিয়াতে প্রচুর হরিন আর বানর দেখতে পারবেন। কলাগাছিয়া বিচের হরিন খাবারের জন্য লোকালয়ে উঠে আসে।ওদের খাবার দিলে আপনার একেবারে কাছাকাছি চলে আসবে। কলাগাছিয়া বিচ দেখে কলাগাছি নদী এবং ঘোলপেটুয়া নদীর অসাধারন ভিউ দেখতে দেখতে রাতে ভ্রমরখালী টহল ক্যাম্প ঘাটে ট্রলার নোঙ্গর করতে পারেন। বন কর্মকর্তারা নতুন মানুষ পেলে প্রচুর গল্প করবে। কারন মাসের পর মাস গভীর জঙ্গলে একাকী দিন কাটে তাদের। ভ্রমরখালী টহল ক্যাম্পের পেছনে গিয়ে টর্চ মারলে প্রচুর হরিন দেখতে পারবেন। আর টহল ক্যাম্পের পেছনের রাস্তা দিয়ে কিছু দূর সামনে গেলে একটা মিঠা পানির পুকুর আছে। ঐ খানেও প্রচুর হরিন থাকে রাতে। কিন্তু বন কর্মকর্তা এবং তাদের সাথের বন্দুক ছাড়া ঘাটের পাড়ে যাবেন না। অবশ্য এমনিতেই বন কর্মকর্তারা আপনাকে একা যেতে দিবে না। রাতে ভ্রমরখালী টহল ক্যাম্পের ঘাট মোটামুটি নিরাপদ। ঘাট থেকে একটু দূরে ট্রলার নোঙ্গর করলেই আর কোন সমস্যা নাই।ভ্রমরখালী টহল ক্যাম্পের ঠিক বিপরীত পাশেই ভাগ্য ভালো বা ভাগ্য খারাপ হলে রাতে রয়েল বেঙ্গল এর গর্জন শুনতে পারবেন।

পরের দিন সকালে ভ্রমরখালী থেকে একটু সামনে গেলেই পড়বে বাগেরহাটের কোকিলমনি কোস্ট গার্ড ক্যাম্প।ওইখানে নাম এন্ট্রি করার জন্য নামতে হবে।এই ফাঁকে আপনি কোকিলমনি কোস্ট গার্ড ক্যাম্পের পেছনের লাল শাপলার পুকুর এবং জঙ্গল না দেখলে অনেক কিছু মিস করে ফেলবেন।লাল শাপলার পুকুরে হরিন পানি খেতে আসে।লাল শাপলা ভরা পুকুরে হরিনের পানি খাওয়া দেখতে মন্দ লাগবে না।তবে অবশ্যই বন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে যাবেন।ওইখান থেকে সুন্দরবনের বিভিন্ন নালা,খাল,বন এবং বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে ৬ ঘন্টা লাগবে বাগেরহাটের শরনখোলা রেন্জের কটকা পৌঁছাতে।কটকাতে প্রচুর হরিন এবং ভাগ্য ভালো থাকলে টাইগার টিলায় বাঘও দেখতে পারবেন।কটকা থেকে কচিখালী যাবেন।কটকা থেকে জামতলী বিচ যেতে ১০ মিনিট লাগবে।জামতলী বিচ যাওয়ার সময় বাঘবনের মধ্যে দিয়ে মূল বিচে যাওয়ার সময়টুকু আপনার সারা জীবন মনে থাকবে।গাঁ ছমছম করা পরিবেশ।চারদিক খুব ভালো ভাবে লক্ষ্য করে সামনের দিকে এগোতে হবে।অবশ্যই সবার সামনে একজন বন্দুকধারী বন পুলিশ এবং সবার পেছনে আরেকজন বন্দুকধারী বন পুলিশকে রেখে সামনের দিকে এগোতে হবে।জামতলী থেকে ৪ ঘন্টার মতো লাগবে দুবলার চর পৌঁছাতে।দুবলার চরের জেলে পাড়া এবং শুঁটকি পল্লি দেখতে ভুলবেন না।দুবলার চরের সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত খুবই সুন্দর।আর জেলেদের মাছ নিয়ে শুঁটকি পল্লি যাওয়ার দৃশ্যও খুবই সুন্দর।রাতে দুবলার চর থেকে পরের দিন সকালে চলে যান খুলনা রেন্জের হিরন পয়েন্ট।হিরন পয়েন্টে একটা মিঠা পানির পুকুর আছে।মিঠা পানির পুকুরে গোসল সেরে নিতে পারেন।এরপর হাড়বাড়িয়া,করমজল এবং মান্দারবাড়ীয়া সি বিচ দেখে সাতক্ষীরা অথবা খুলনা দিয়ে ফিরে আসতে পারেন।ট্রলারে ঘুরলে অনেক গভীরে যেতে পারবেন।বিশেষ করে রাতে যখন গভীর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ট্রলার চলবে তখন সারা শরীরে অদ্ভুত এক শিহরন জাগবে।সুন্দরবনের বনের মধ্যে দিয়ে রাতের ট্রলার ভ্রমন সারা জীবন মনে রাখার মতো।

সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বনভূমি।গঙ্গা,মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীত্রয়ের অববাহিকার বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত এই অপরূপ বনভূমি বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দুই জেলা উত্তর চব্বিশ পরগনা ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জুড়ে বিস্তৃত। সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখণ্ড বনভূমি।১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে এবং বাকি অংশ রয়েছে ভারতের মধ্যে। সুন্দরবন ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এর বাংলাদেশ ও ভারতীয় অংশ বস্তুত একই নিরবচ্ছিন্ন ভূমিখণ্ডের সন্নিহিত অংশ হলেও ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ভিন্ন ভিন্ন নামে সূচিবদ্ধ হয়েছে; যথাক্রমে “সুন্দরবন” ও “সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান” নামে। সুন্দরবনকে জালের মত জড়িয়ে রয়েছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদা চর এবং ম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ততাসহ ক্ষুদ্রায়তন দ্বীপমালা। মোট বনভূমির ৩১.১ শতাংশ, অর্থাৎ ১,৮৭৪ বর্গকিলোমিটার জুড়ে রয়েছে নদীনালা, খাঁড়ি, বিল মিলিয়ে জলাকীর্ণ অঞ্চল।বনভূমিটি বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার এর কারনে।এছাড়াও নানান ধরণের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত সুন্দরবন।জরিপ মোতাবেক সুন্দরবনে ১০৬ টি বাঘ ও ১০০০০০ থেকে ১৫০০০০ চিত্রা হরিণ রয়েছে।

১৯১১ সালে সুন্দরবনকে ট্র্যাক্ট আফ ওয়াস্ট ল্যান্ড হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়, যা না তো কখনো জরিপ করা হয়েছে আর না তো কোনদিন শুমারীর অধীনে এসেছে। তখন হুগলী নদীর মোহনা থেকে মেঘনা নদীর মোহনা পর্যন্ত প্রায় ১৬৫ মাইল (২৬৬ কি.মি.) এলাকা জুড়ে এর সীমানা নির্ধারিত হয়। একই সাথে চব্বিশ পরগনা , খুলনা ও বাকেরগঞ্জ এই তিনটি জেলা অনুযায়ী এর আন্তঃসীমা নির্ধারণ করা হয়। জলাধারসহ পুরো এলাকার আয়তন হিসেব করা হয় ৬,৫২৬ বর্গমাইল (১৬,৯০২ কি.মি)। জলবহুল সুন্দর বন ছিল বাঘ ও অন্যান্য বন্য জন্তুতে পরিপূর্ণ। ফলে জরিপ করার প্রচেষ্টা খুব একটা সফল হতে পারেনি। সুন্দরবনের নামকরণ হয়েছে খুব সম্ভবত এর প্রধান বিশেষ গাছ সুন্দরীর (Heritiera fomes) নাম থেকেই। তথ্যসূত্র: ইউকিপিডিয়া

যেভাবে যাবেন

ঢাকা-সাতক্ষীরা-শ্যামনগর-মুন্সিগন্জের নীলডুমুর ঘাট-যেখান থেকে ট্রলার রিজার্ভ করে কলাগাছিয়া বিচ-কলাগাছি নদী-ঘোলপেটুয়া নদী-ভ্রমরখালী টহল ফাঁড়ি-হংশরাজ নদী-কোকিলমনি কোস্টগার্ড ক্যাম্প-যেখান থেকে বঙ্গোপসাগর পাড়ি নিয়ে কটকা-কটকা থেকে জামতলী বিচ-জামতলী থেকে কচিখালী-সেখান থেকে দুবলার চর-মান্দারবাড়ীয়া বিচ-হাড়বাড়ীয়া-হিরন পয়েন্ট-করমজল হয়ে খুলনা অথবা সাতক্ষীরা দিয়ে ফিরতে হবে।আবার আপনি আপনার সুবিধামতো ওলটপালট করে জায়গাগুলোতে দেখতে পারেন।



এ সম্পর্কিত খবর

আহা, সুন্দরবন!

আহা, সুন্দরবন!

দ্বীপ বিশ্বাস: আমার মনে হয়েছে সাতক্ষীরা অংশের সুন্দরবন সবচেয়ে বেশী সুন্দর। সেক্ষেত্রে আপনি সাতক্ষীরা থেকে

এটাই সুখ, এটাই জীবন

এটাই সুখ, এটাই জীবন

ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ বহু পুরাতন, সেই সৃষ্টির শুরু থেকেই। কখনো সম্পদ, কখনো রাজত্ব নিয়ে। একই

এক হার না মানা যোদ্ধার অবিশ্বাস্য গল্প

এক হার না মানা যোদ্ধার অবিশ্বাস্য গল্প

আবির রহমান: “নিক, নিক! কী করছো তুমি? সর্বনাশ! কতক্ষণ ধরে পানিতে ডুব দিয়ে আছো সোনাটা!



আরো সংবাদ



তারুণ্যের ঈদ ফ্যাশন

তারুণ্যের ঈদ ফ্যাশন

৩১ মে, ২০১৯ ১৬:৫৯








৩০ ফুট লম্বা পাঞ্জাবি!

৩০ ফুট লম্বা পাঞ্জাবি!

২২ মে, ২০১৯ ১১:৪৮



ব্রেকিং নিউজ