অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদ, রাজনীতিক ও বিশিষ্টজনদের শোক

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্য, রাজনীতিকসহ বিশিষ্টজনরা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সর্বজন শ্রদ্ধেয় বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদের মৃত্যুতে দেশের জন্য অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে বলে এসব শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়। শোক বার্তায় ড. আনিসুজ্জামানের আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আনিসুজ্জামানকে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ছিলাম স্যারের টিউটোরিয়াল গ্রুপের শিক্ষার্থী।’ প্রধানমন্ত্রী এসময় শিক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর মতো বিদগ্ধ ও জ্ঞানী মানুষের মৃত্যুতে দেশের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

শোকবার্তায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক , তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বস্ত্র ও পাট বিষয়ক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।

এছাড়া শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল শোক প্রকাশ করেন।

এছাড়াও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

শোকবার্তাগুলোতে বলা হয়, প্রফেসর আনিসুজ্জামান শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীর জন্য ছিলেন আশীর্বাদস্বরূপ।তিনি দুই বাংলার মানুষের কাছেই প্রিয়মুখ ছিলেন। তাঁর অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের পাশাপাশি গোটা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে রয়েছে। তাঁর মতো একজন গুণী শিক্ষাবিদের মৃত্যুতে জাতীর অপুরণীয় ক্ষতি হয়েছে। কোনও কিছুর বিনিময়েই এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।

এছাড়াও বলা হয়, স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আমাদের ৫২’র ভাষা আন্দোলন ও ৭১’র জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তী প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গেও তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। স্বাধীন রাষ্ট্রের সংবিধান রচনায় অবদান রাখাসহ বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তার অনুসন্ধানী গবেষণার জন্য তিনি পাথেয় হয়ে থাকবেন। তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী এবং পথ প্রদর্শককে হারালো।