বিভাগ - সারাদেশ

অভয়নগরে ৩ গরু চোর নিহতের ঘটনায় পাঁচশতাধিক আসামি

প্রকাশিত

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের অভয়নগরে গণপিটুনিতে তিন চোর নিহতের ঘটনায় এসআই আনিচুর রহমান বাদী হয়ে সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ আসামি করা হয়েছে। আর তিনটি গরু চুরির ঘটনায় আটক জনি শেখসহ পলাতক আরো ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনের আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রথম দিন দুই জনের পরিচয় মিললেও পরে অজ্ঞাত ব্যক্তিরও পরিচয় মিলেছে। তার নাম সাজ্জাদ হোসেন সৈকত। তার বাড়ি বাগেরহাট পিসি কলেজের পিছনে। সৈকত খুলনার পূর্ব বানিয়াখামারে বসবাস করেন।

গরু চুরির ঘটনায় পলাতক আসামিরা হলেন, ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার সোনাউটা গ্রামের মৃত আলম মুন্সির ছেলে সুলতান মুন্সি, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার লখপুর গ্রামের জিয়ারুল ইসলামের ছেলে বাদশা মিয়া, আইয়ুব আলী মোড়লের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম, গুলজার মোড়লের ছেলে ইসমাইল হোসেন রিপু ও খুলনার রূপসা উপজেলা শহরের রুবেল হোসেন।

বাদী যশোর সদর উপজেলার গাইদগাছি গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে খোরশদ আলীর দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেছেন, প্রতিদিনের ন্যায় গত ১২ জানুয়ারি রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার গোয়াল গলে থাকা তিনটি গরু চুরি হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের এক বৃদ্ধার চিৎকারে বিষয়টি জানতে পেরে আশপাশে খোঁজখবর নেন।

এছাড়া গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোণষা দেওয়া হয়। এতে চারিদিক থেকে গ্রামের লোকজন গরু এবং চোরদের বিভিন্ন স্থানে খুঁজাখুজি করে। কিছুক্ষণ পরে গ্রামের প্রতিবেশি ফজল মিয়ার পানের বরজের পাশ থেকে গরু তিনটি পাওয়া যায়। গরু তিনটি নিয়ে তিনি বাড়িতে রাখার পরে জানতে পারেন গাইদগাছি এবং পাশে অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ গ্রামের লোকজন গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে। পাশাপাশি জনি শেখকে আটক করেছে। এঘটনার মামলায় ১৪ জানুয়ারি আটক জনি শেখকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অভয়নগর থানার এসআই মহাসিন আলী জানান, গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজন নিহতের ঘটনায় অভয়নগর থানা পুলিশ আরেকটি মামলা করেছে। ওই মামলায় ৪৫০ থেকে ৫০০শ’ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি।