আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী রাজাকারের তালিকা দরকার: গাফফার চৌধুরী

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: আওয়ামী লীগের মধ্যে জামায়াতের অনুপ্রবেশকারী রয়েছে। তারা সরকারের বড় বড় পদে রয়েছেন, তাদের কথা বললে হয়তো আমাকে আর দেশে আসতে দেওয়া হবে না। রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করার আগে এসব অনুপ্রবেশকারীর তালিকা প্রকাশের প্রয়োজন ছিল। জানি না কোনো রাজাকারের হাত দিয়েই ‘রাজাকারের তালিকা’ হচ্ছে কি-না। মনে রাখতে হবে, শেখ হাসিনাকে তারা সরিয়ে দিতে পারলে তাসের ঘরের মতো আওয়ামী লীগ শেষ হয়ে যাবে।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘সম্প্রীতি, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশে বিজয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো…’ গানের রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরী।

তিনি বলেন, আজ প্রধানমন্ত্রী সাহসের সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন, ৭১-এর ঘাতকদের বিচার করছেন যা বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে হয়তো পারতেন না। কারণ বঙ্গবন্ধু কোমল হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। জেনে খুশি হয়েছি যে, রাজাকারের তালিকা আজ প্রকাশ করা হবে। তবে সন্দেহ হয়, এই রাজাকারের তালিকা করার দায়িত্ব আবার কোনো রাজাকারের ছিল কি-না। তবে রাজাকার যে শেখ হাসিনার পাশে রয়েছে, আমি প্রমাণসহ বলতে পারি। ভয়, এটা প্রকাশ করলে তারা হয়তো আমাকে আর দেশে আসতে দেবে না।

আব্দুল গাফফার চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগে জামায়াত অনুপ্রবেশের তালিকা করা প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ একজনের ওপর টিকে রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হলে আওয়ামী লীগ তাসের ঘরের মতো শেষ হয়ে যাবে। তাকে বারবার হত্যা করার ষড়যন্ত্র হয়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে এ দেশ আফগান হয়ে যাবে।

তারেক জিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, লন্ডনে তারেক জিয়ার কত টাকা রয়েছে আল্লাহ ভালো জানেন। তিনি নাইটক্লাবে যান, বড় বড় মার্কেটে ঘুরে বেড়ান, সেখানে তার বড় প্রভাব রয়েছে। তিনি স্বপ্ন দেখেন, খালেদা মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী (ডা. জোবাইদা) এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। তবে তার স্ত্রী ভালো মানুষ, অনেক কষ্টে তার সংসার করে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে নেই। আওয়ামী লীগের চতুর্থ ফেস ছিল বাকশাল, তার খারাপ-ভালো নির্ণয়ের সুযোগ দেয়নি খুনিরা। তবে বাকশাল থাকলে এমন অবস্থা তৈরি হতো না, দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করার সাহস হতো না কারও। এখন আওয়ামী লীগের পঞ্চম ফেস চলছে।

গাফফার চৌধুরী বলেন, কামালের মতো মানুষেরা বিপদের সময় দেশের বাইরে পালিয়ে যান। খুনি রাজাকারদের শহীদ উল্লেখ করে সংবাদ প্রচার হয়। তারা কোথায় শহীদ হয়েছেন?

সংগঠনটির সদস্য সচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের পরিচালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, শহীদকন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী, সাংবাদিক হারুন হাবিব, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান, সংগঠনটির সভাপতি পীযুষ বন্দোপাধ্যায় প্রমুখ।