বিভাগ - বিএনপি

আগামীতে রাজপথে লড়াই বাধবে, সরকার পতনে প্রস্তুত হন: নেতাকর্মীদের গয়েশ্বর

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: আগামীতে রাজপথে বাধা দিলে লড়াই বাধবে বলে মন্তব্য করে বিএনপিরএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এই সরকার দেবে না। যদি এই সরকার থাকে তাহলে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। এখন আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন করবো না, সরকার পতনের আন্দোলন করবো। এই সরকারের পতন না হলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে না। আপনারা কি শেখ হাসিনার সরকার পতনের আন্দোলন করবেন তাহলে প্রস্তুত হন।’

রবিবার (২৪ নভেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।

গয়েশ্বর বলেন, ‘বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে যেখানে যাবেন একটাই আওয়াজ পাবেন, শেখ হাসিনার এই সরকার ‘দুর্নীতিবাজ’। জনগণের এখন একটি দাবি ‘শেখ হাসিনা কবে যাবি’। এই শ্লোগানের জন্যই কি আমরা প্রস্তুত? তাহলে আপনারা প্রস্তুতি নেন, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ঢাকা মহানগরীতে এতো লোক সংগঠিত হতে পারেন যারা আজকে উপস্থিত আছেন, তারা যদি ফোন করেন এবং আন্দোলনের মাঠে নামেন তাহলে শেখ হাসিনা থাকার কোনও ক্ষমতা আছে বলে আমি মনে করি না।’

তিনি বলেন, ‘বহুদিন কষ্ট করেছেন, জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, আপনার আশেপাশে অনেক ভাই মারা গেছেন, গুম হয়েছেন। সুতরাং আর গুম-খুনের তালিকা বৃদ্ধি না করে এখনই রাজপথে নামতে হবে। এবং কোন বাধা আসলে সেই বাধা মোকাবেলা করতে হবে। বাধা দিলে বাধবে লড়াই সে লড়াইয়ে জিততে হবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আর সরকারের অনুমতি বা পুলিশের অনুমতি নিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন হয় না। আমাদের এখন মানসিক প্রস্তুতি থাকতে হবে আর কোনো অনুমতি নয়। আমাদের অধিকার আন্দোলনের আমাদের অধিকার সমাবেশের আমাদের অধিকার মিছিলের আমরা কার কাছে অনুমতি চাইব?’

গয়েশ্বর বলেন, ‘আজকের এই সরকার শেখ হাসিনার নিশি রাতের পাখি। তিনি নিশিরাতে মানুষের ভোট চুরি করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। এদেশের জনগণের উপরে তাঁর কোন দরদ নেই। তাঁর ক্ষমতায় থাকতে হলে যাদের প্রতি তাঁর দরদ আছে তারা হলো বিশাল শক্তিশালী প্রতিবেশী একটি দেশ। তাদের ইচ্ছা পূরণে একমাত্র তাঁর দায়িত্ব। তাদের স্বার্থ পূরণ তাঁর একমাত্র দায়িত্ব।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস-চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, নিতাই রায় চৌধুরী, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আব্দুস সালাম, আমান উল্লাহ আমান।সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, নাজিম উদ্দিন আলম, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনসি বজলুল বাসিত আনজু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, মহিলা দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মাহবুবুল হক নান্নু, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, রফিক সিকদার, শাম্মী আকতার, সাইফুল ইসলাম পটু, আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল প্রমুখ।