আতঙ্কিত না হয়ে করোনা মোকাবেলার আহ্বান বিএনপির

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আতঙ্ক না ছড়িয়ে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দলমত নির্বিশেষে সকলকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, “দলের পক্ষ থেকে আমরা মনে করি যে, এটা (করোনাভাইরাস) একটি জাতীয় ও বৈশ্বিক বিপর্যয়। সেজন্য আমরা দলমত নির্বিশেষ সকল জাতি-ধর্মের মানুষের প্রতি আবারো আহ্বান জানাচ্ছি-আসুন আমরা এখন আতঙ্কিত না হয়ে এটাকে মোকাবেলা করি।”

‘‘এই মোকাবেলা করতে গিয়ে আমাদের যা যা কাজ করা দরকার সেই কাজগুলো আমরা যেন করি। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে এই বৈশ্বিক বিপর্যয়কে মোকাবেলা করতে হবে।”

ফখরুল বলেন, ‘‘আমরা আমাদের লিফলেটে, আমাদের বক্তব্যে যেভাবে বলা হয়েছে জনসমাগম থেকে দূরে থাকা, স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া, মানুষদের সচেতন করে তোলা বিশেষ করে যারা গ্রামে আছেন তাদেরকে সব দলের পক্ষ থেকে বলছি ‘আপনারা বাড়িতে থাকুন’।” ‘‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা উচিত তাদেরকে- তোমরা হোম কোয়ারেনটাইনে চলে যাও।”

ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান রেখে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ব্যবসায়ীদের প্রতি আমার অনুরোধ যে, দয়া করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বৃদ্ধি করবেন না। মানুষের এই দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন।”

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় প্রাক-প্রস্তুতি না থাকার জন্য ‘সরকারের ইচ্ছাকৃত উদাসীনতা ও ব্যর্থতাকে দায়ী করেন তিনি। করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ কিট, চিকিৎসকদের বিশেষ পোশাক সরবারহ, তাদের প্রশিক্ষণসহ হাসপাতালে এই রোগের আক্রান্তদের স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও জানান ফখরুল।

প্রান্তিক-নিম্ন আয়ের মানুষদের ভাতা প্রদানের দাবি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “করোনাভাইরাসের আতঙ্কে ব্যাপক প্রভাব পড়ে গেছে। আপনারা দেখেছেন আজকের তথ্যে এপর্যন্ত দুজন মারা গেছেন, ২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এতে গোটা শহর খালি হয়ে গেছে। আমি আজকে গ্রীন রোড, ধানমন্ডি এসব এলাকায় দিয়ে এসেছি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা- রিকশা চালক, সিএনজি চালক, নির্মাণ শ্রমিকরা।”

‘‘আমরা আরো আশঙ্কা করছি যে, ইতোমধ্যে গার্মেন্টসের যে ডিমান্ড বিদেশে থেকে আসে সেই চাহিদা বাতিল হয়ে গেছে। এতে করে মালিকেরা ভয়াবহ দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন যে, গার্মেন্টসের শ্রমিকদের বেতন কিভাবে দেবেন। আমরা মনে করি নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক এই সমস্ত নিম্ন আয়ের মানুষদেরকে সরকারের তরফ থেকে ভাতা প্রদান করা উচিত। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আপদকালীন পারিবারিক ভরণপোষণ ও বিশেষ ভাতা-বীমার ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে। এটা করা অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি বলেন, ‘‘ আমরা আশঙ্কা করছি এই ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ যদি সরকার না করে আর যদি একমাস এরকম অবস্থা চলে তাহলে মেবি এ সিচুয়েশন লাইক ফেমিন। কারণ সাধারণ মানুষ তো খাবার পাবে না। এরপরে দাম বাড়তে শুরু করেছে। চালের দাম তো বেড়ে গেছে, পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।”

‘‘ কারণ সরকারের আগে কোনো প্রস্তুতি ছিলো না। চীনের যখন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে, তারা যখন জরুরি ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বার বার বলা হচ্ছে্ এই বিষয়টি তখনও কিন্তু আমাদের সরকার বিষয়টাকে হালকা করে দেখেছে, হালকা করে কথা বলেছে। আজকে যখন এক্সপ্রেস ট্রেন উপরে এসে পড়ে গেছে। এখন এটার বিষয়ে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা করা যদি না যায় তাহলে প্রচন্ড রকমের বিপর্যয় আসতে পারে বলে আমরা মনে করি।”

উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রসঙ্গ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘যে তিনটি আসনে আজকে উপ-নির্বাচন হয়েছে, আমার এই আসনগুলোর নির্বাচন বন্ধ করতে বলেছিলাম। আজকে কী হয়েছে, দেখা গেছে যে, নট ইভেন টু পারসেন্ট কাস্টিং হয়নি। একেবারেই ভোটার নেই। তারপরে আবার আমাদের দলের এজেন্টদেরকেও বের করে দেয়া হয়েছে।”

‘‘ ঢাকা-১০, বাগেরহাট ও গাইবান্ধার অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো অবিলম্বে বাতিল করে দিয়ে পুননির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।” নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘ এই কমিশন আসলে একটা ক্লাউনে পরিণত হয়েছে এবং তারা নিজেদের যে জায়গাটা কোথায়, সাংবিধানিকভাবে তাদের অবস্থানটা কোথায় সেটাও তারা বুঝে না বলে তারা এসব কাজ করে। জাতীয় দুযোর্গের মধ্যে এরকম নির্বাচন করে।”

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়. নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।