আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন আশাবাদী ঢাকার দুই মেয়র

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী দুই মেয়র। আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন রেখে রোববার তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

সোমবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গের সংবর্ধনা ও পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠানে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, তিনি সময় নষ্ট করেননি। এজন্য আবারও মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

বিভক্তির পর ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল দুই সিটিতে একযোগে নির্বাচন হয়। নির্দলীয় সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে উত্তরে আনিসুল হক এবং দক্ষিণে সাঈদ খোকন মেয়র নির্বাচিত হন। আনিসুল হকের মৃত্যুর পর বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের বর্জনের মধ্যে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম মেয়র নির্বাচিত হন। উপনির্বাচনের আগে আইন সংশোধন হওয়ায় সেই নির্বাচনটি হয় দলীয় প্রতীকে।

মেয়র আতিক বলেন, “দায়িত্ব পাওয়ার পর যতটুকু সময় পেয়েছি আমি চেষ্টা করেছি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে এবং সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি বড় দল, একটি ঐতিহ্যবাহী দল, দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে এ দল। তারা আমার কাজের মূল্যায়ন করবে। তাই আমার প্রত্যাশা আমি আওয়ামী লীগ থেকে আবারও নমিনেশন পাব।”

পুনরায় নির্বাচিত হলে রাজধানীর যানজট সমস্যাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন বলে জানান পোশাক ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জয়ী হলে তার নয় মাস সময়কালের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন।

“যানজট নিরসনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেব। যতটুকু কাজ করা যায় আমরা তা করব। নগর উন্নয়নের সঙ্গে ৫৪টি সংস্থা রয়েছে, আমরা সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করব, এটাই আমার প্রত্যাশা।” আতিকুল ইসলামের পাশাপাশি নিজের মনোনয়নের ব্যাপারে পুরোপুরি আশাবাদী দক্ষিণের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। মেয়র হিসেবে নিজেকে সফল দাবি করে তিনি বলেন, তিনি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করতে পেরেছেন।

“আমাদের ৫২ বাজার ৫৩ গলির এই ঢাকা শহরের এমন কোনো অলিগলি নাই যেখানে ইতিবাচক পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগাতে পারিনি। সব জায়গায় আমি উন্নয়নের ছোঁয়া লাগাতে পেরেছি। শান্তিনগরের ৪০ বছরের জলাবদ্ধতা, নাজিমুদ্দিন রোডে প্রায় ৫০ বছরের সমস্যা ছিল সেটিও আমরা সমাধান করেছি। নতুন কিছু জায়গায় জলজট হচ্ছে। উন্নয়ন একটা চলমান প্রক্রিয়া। নগরবাসী যদি আমাকে ভালোবাসায় সিক্ত করে, আমাদের কাজগুলো অব্যাহত রাখার সুযোগ দেন, তাহলে সামনের দিনে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”

অনুষ্ঠানে কয়েকশ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এবারের সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই ও ৯ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়।