বিভাগ - অর্থনীতি

আবারও ঝাঁজ বেড়েছে পেঁয়াজের

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: রাত পোহালেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নানা অজুহাতে সবজির বাজার চড়া হলেও সিটি নির্বাচনের কোনো প্রভাব নেই বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা নিম্নমুখী রয়েছে সবধরনের সবজি। বাজারে সবজিভেদে কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে দাম।

তবে সবজির দাম কমলেও আবারও ঝাঁজ বেড়েছে পেঁয়াজের। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। দাম বেড়েছে আমদানিকৃত পেঁয়াজেরও। অন্যদিকে আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল, মসলা ও চাল-ডালের বাজার। দাম কমেছে সবধরনের মাছের। কিছুটা বাড়তি মুরগির দাম। অপরিবর্তিত আছে গরু-খাসির মাংস, লবণসহ অন্যান্য পণ্যের দাম।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার (খুচরা বাজার), মগবাজার, মালিবাগ, মালিবাগ রেলগেট, ফকিরাপুল কাঁচা বাজার, কমলাপুর ঘুরে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

এসব বাজারে কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমে প্রতিকেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শিম (কালো) ২৫ থেকে ৩০ টাকা, শিম (সাদা) ২০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৬০ টাকা, নতুন আলু ৩০ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঝিঙা-ধুন্দুল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, চিচিংগা ৫০ টাকা, করলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, উস্তা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ১০ থেকে ২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এছাড়া আকারভেদে প্রতিপিস বাঁধাকপি ও ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা, লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। দাম অপরিবর্তিত আছে শাকের বাজারে। প্রতিআটি (মোড়া) কচুশাক পাঁচ থেকে সাত টাকা, লালশাক আট টাকা, মূলা ১০ টাকা, পালংশাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, লাউশাক ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে দাম বেড়েছে সবধরনের পেঁয়াজের। সপ্তাহের ব্যবধানে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে বর্তমানে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে মিশরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা, বার্মার ১১০ টাকা ও চায়না পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজিদরে। তবে অপরিবর্তিত আছে আদা ও রসুনের দাম।

বাজারে ইলিশের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় দাম কমেছে সবধরনের মাছের। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা, ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬০০ টাকায়। এছাড়া ছোট ইলিশ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কাচকি ৩০০ টাকা কেজি, মলা ৩৫০ টাকা, ছোট পুঁটি (তাজা) ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি (গলদা) ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, বাগদা ৪০০ থেকে ৯০০ টাকা, দেশি চিংড়ি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, রুই (আকারভেদে) ২২০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙাস ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, কৈ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, কাতল ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে ডিমের দাম না বাড়লেও কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি বয়লার ১৩০ টাকা, লেয়ার ২২০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৮০ টাকা, সোনালি ২৬০ থেকে ২৮০ কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা, খাসির মাংস ৭৮০ টাকা, বকরির মাংস ৭২০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে।

আগের বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল চাল ও মসলার বাজার। খোলা সয়াবিন (লাল) বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা লিটার, খোলা সাদা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা লিটার। অপরিবর্তিত আছে সরিষার তেল।

এসব বাজারে বস্তাপ্রতি ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে প্রতিবস্তা চিনিগুড়া চাল ৫০০০ হাজার থেকে পাঁচ হাজার ২৫০ টাকা, মিনিকেট (নতুন) ২৪৫০ টাকা, মিনিকেট (পুরানো) ২৫০০ থেকে ২৫৫০ টাকা, আটাশ ১৮৫০ টাকা, বিভিন্ন প্রকার নাজিরশাইল চাল ২২৫০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪৬০০ থেকে ৫৫০০ টাকা কেজিদরে। অথচ এক/দেড় মাস আগে এলাচ বিক্রি হয়েছিল ২৭০০ থেকে ৩০০০ টাকা কেজিদরে। জয়ত্রী বিক্রি হচ্ছে ৩৫০০ থেকে ৩৬০০ টাকা কেজিদরে। এর আগে জয়ত্রী বিক্রি হয়েছিল ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা কেজিদরে। জায়ফল গত দেড় মাসে দুই গুণ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজিদরে। এর আগে জায়ফল বিক্রি হয়েছিল ৪০০ থেকে ৪৬০ টাকা কেজিদরে।

নারগিস পারভিন নামে মালিবাগ বাজারের এক ক্রেতা বলেন, এমনিতেই বাজারে বাড়তি চাল-ডাল, মসলার বাজার। আবারও যোগ হলো পেঁয়াজ। সরকারিভাবে বাজার মনিটরিং করা এখন সময়ের দাবি। এটা করতে না পারলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে নিত্যপণ্য।

এ বাজারের বিক্রেতা ইকরাম হোসেন বলেন, আমরা কোনো পণ্যের দাম বাড়াতে পারি না। বাড়তি দামে কিনলে, বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করা লাগে। পাইকারি বাজারে দাম কমলে দাম কমে আসে।